রাতভর প্রসব যন্ত্রণায় ছটফট করে বিনা চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যু, দেহ ফেরাতে পরিবার পেল না অ্যাম্বুলেন্স

প্রতীকী ছবি

চিকিৎসা তো মেলেইনি। উপরন্তু স্ত্রী'র দেহ বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য হাসপাতালের কাছে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য বহু অনুরোধ করেন স্বামী। কিন্তু সাড়া মেলেনি। তাঁরা ওই বধূকে বাড়ি ফেরানর জন্য অ্যাম্বুলেন্স দেয়নি।

  • Share this:

    #অনন্তনাগঃ সম্প্রতি রেড জোনে বাড়ি হওয়ায় প্রসূতিকে হাসপাতালে ভর্তি না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল অনন্তনাগের একটি হাসপাতালের বিরুদ্ধে। চিকিৎসায় গাফিলতির জেরে মৃত্যু হয় গর্ভস্থ যমজ সন্তানের। এবারে চিকিৎসকের অবহেলায় মৃত্যু হল প্রসূতির। এমনকী, মৃতদেহ হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরিয়ে আনার জন্য কোনও অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হয়নি মৃতের পরিবারের বহু অনুনয়-বিনয়ের পরেও। ফলে হাসপাতাল থেকে প্রসূতির বাড়ি ২ কিলোমিটার রাস্তা দেহ স্ট্রেচারে করে বয়ে নিয়ে আসে তাঁর শোকস্তব্ধ পরিবার। রবিবার মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে জম্মু-কাশ্মীরের অনন্তনাগে।

    জানা গিয়েছে, প্রসববেদনা শুরু হওয়ায় অনন্তনাগের সালিয়া এলাকার বাসিন্দা শাকিলা নামে ওই প্রসূতিকে নিকটবর্তী হেমদান সাব ডিসট্রিক্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয় শনিবার দুপুরে। কর্তব্যরত স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ শাকিলাকে দেখে পরিবারকে জানান, তাঁর 'নরম্যাল ডেলিভারি' হবে। সুতরাং আরও বেশ কিছুক্ষণ তাঁকে অপেক্ষা করতে হবে। পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসক শাকিলাকে একবারের জন্য দেখেই হাসপাতালের ডিউটি শেষ করে অন্য চিকিৎসকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে চলে যান। কিন্তু, সেই চিকিৎসক স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ নন বলেই তাঁরা জানতে পারেন।

    পরিবারের অভিযোগ, দিনভর যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে শাকিলার শরীর ধীরে ধীরে নেতিয়ে পড়তে শুরু করে। সারারাত পরে থাকার পর শাকিলার স্বামী ভোর ৪-টে নাগাদ 'অন ডিউটি' চিকিৎসকের কাছে গেলে তিনি শাকিলাকে দেখেন। কিন্তু শারীরিক অবস্থা সংকটজনক হওয়ায় তৎক্ষণাৎ দক্ষিণ কাশ্মীরের লোন মেটারনিটি অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করে দেন। কিন্তু সেখানে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় ওই প্রসূতির। পরিবারের দাবি, চিকিৎসা তো মেলেইনি। উপরন্তু স্ত্রী-র দেহ বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য হাসপাতালের কাছে অ্যাম্বুলেন্সের অনুরোধ করেন স্বামী। কিন্তু বহু অনুরোধেও সাড়া মেলেনি, ব্যবস্থা হয়নি  অ্যাম্বুলেন্সের। ফলে, মহিলার দেহ স্ট্রেচারে করে হেঁটে হেঁটে বাড়ি ফিরিয়ে আনতে হয়।

    এরপরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মৃতের পরিবারের সদস্যরা। চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে হেমদান হাসপাতালের বাইরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরে  পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হাসপাতাল প্রাথমিক তদন্তের পর কর্তব্যরত স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ রিধওয়ানা এবং নার্স হাফিজাকে সাসপেন্ড করেছে। ব্লক মেডিকেল আধিকারিক চিকিৎসক সেলিম বাগ বলেন, "বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।"

    Published by:Shubhagata Dey
    First published: