corona virus btn
corona virus btn
Loading

কংগ্রেসের ক্রাইসিস ম্যান, ইউপিএ সরকারের সব নীতিতেই ছিল প্রণবের অবদান

কংগ্রেসের ক্রাইসিস ম্যান, ইউপিএ সরকারের সব নীতিতেই ছিল প্রণবের অবদান
প্রণব মুখোপাধ্যায়৷ Photo-PTI

ইউপিএ সরকারের আমলে নীতি প্রণয়ন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক সঙ্কট, সবকিছু সামলানোর ক্ষেত্রেই প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মস্তিষ্কের উপরই ভরসা রাখতেন মনমোহন- সনিয়ারা৷

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: ২০০৮ সাল৷ গোটা বিশ্বে শুরু হওয়া আর্থিক মন্দার গ্রাস থেকে ভারতীয় অর্থনীতিকে কী ভাবে বাঁচানো যাবে, তার পথ খুঁজে বের করতে চাইছে মনমোহন সিং সরকার৷ সঙ্কট মোকাবিলায় বিশেষ মন্ত্রিগোষ্ঠী গঠন করলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন৷ কিন্তু মন্ত্রিগোষ্ঠীর মধ্যেও শুরু হল মতবিরোধ৷ এক সিনিয়র মন্ত্রী পরামর্শ দিলেন, কর্পোরেট সেক্টরকে বাঁচাতে সরকারের এগিয়ে আসা উচিত৷ আরও ক্ষমতাবান এক মন্ত্রী এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বললেন, বেসরকারি ক্ষেত্রের বিষয়ে নাক গলানো উচিত নয় সরকারের৷ দুই মন্ত্রীর মতবিরোধ যখন চরমে, তখন এগিয়ে এলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়৷ তিনি পরামর্শ দিলেন, অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েই সঙ্কটের মোকাবিলা করতে হবে৷

হিন্দুস্তান টাইমস-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রণবের পরামর্শ মেনেই এর কয়েকদিন পরই বিশ্ব জোড়া মন্দার মোকাবিলায় প্রথম আর্থিক নীতি ঘোষণা করে ইউপিএ সরকার৷ এটি একটি উদাহরণ মাত্র৷ ২০০৪ থেকে ২০১২-এর মধ্যে ইউপিএ শাসনকালে বার বার ক্রাইসিস ম্যান হয়ে উঠেছিলেন প্রণব৷ মনমোহন সিং সরকারের প্রায় প্রতিটি নীতিতেই গুরুত্বপূর্ণ মত থাকত তাঁর৷

২০০৪ সালে যখন প্রথম ইউপিএ সরকার ক্ষমতায় এল, তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হবেন ধরে নিয়েই প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়৷ কারণ তিনি নিজে দীর্ঘদিন স্বরাষ্ট্র বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন৷ স্ট্যান্ডিং কমিটির বিভিন্ন রিপোর্টও খতিয়ে দেখতে শুরু করেছিলেন প্রণববাবু৷ কিন্তু শপথ গ্রহণের মাত্র ঘণ্টাখানেক আগে তাঁকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হয়৷ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হন শিবরাজ পাটিল৷

প্রথম দিকে প্রণব মুখোপাধ্যায়েরও মনে হয়েছিল তাঁকে হয়তো উপেক্ষা করা হচ্ছে৷ কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যেই সরকারের প্রায় সব মন্ত্রিগোষ্ঠীতে নিজের প্রবল উপস্থিতির মাধ্যমে মনমোহন সিং-এর পর ইউপিএ সরকারের দ্বিতীয় ব্যক্তি হয়ে ওঠেন প্রণব৷ যার ফলে ইউপিএ মন্ত্রিসভায় নিজের আট বছরের উপস্থিতিতে সরকারের প্রায় প্রতিটি নীতির পিছনে ছিল প্রণব মুখোপাধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ মতামত এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ছাপ৷

রাষ্ট্রপতি ভবনের আর্কাইভে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সরকারি প্রোফাইলে লেখা রয়েছে, 'শ্রী মুখোপাধ্যায় ২০০৪ থেকে ২০১২-এর মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রশাসনিক সংস্কার, তথ্য, খাদ্য, জ্বালানি, কর্মসংস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর মানুষের অধিকার সংক্রান্ত একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ নীতি প্রণয়নের জন্য সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন৷ এর পাশাপাশি ইউআইডিএআই গঠন, মেট্রো রেল তৈরি সংক্রান্ত ৯৫টি মন্ত্রিগোষ্ঠীর চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি৷'

ইউপিএ সরকারের আমলে নীতি প্রণয়ন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক সঙ্কট, সবকিছু সামলানোর ক্ষেত্রেই প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মস্তিষ্কের উপরই ভরসা রাখতেন মনমোহন- সনিয়ারা৷ তা সে তেলেঙ্গানা গঠনের দাবি হোক বা লোকপাল নিয়ে অন্না হাজারের আন্দোলন অথবা ডিএমকে-র সমর্থন প্রত্যাহারের হুমকি৷ আবার এয়ার ইন্ডিয়াকে সরকারের আর্থিক সাহায্য করা নিয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা সরাসরি আমজনতার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ভর্তুকি পাঠানোর পরিকাঠামো তৈরি করা, ইউপিএ সরকারের সাফল্যের খতিয়ানের পিছনেও ছিলেন সেই প্রণবই৷

যদিও প্রণববাবুর কাজটি একেবারেই সহজ ছিল না৷ বিশেষত মন্ত্রিগোষ্ঠীর মধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রীর বিরুদ্ধ মত, ক্ষোভ সামাল দিয়ে সফল ভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের ছিল৷ কিন্তু সবাইকে নিয়ে চলায় বিশ্বাসী প্রণববাবু নিজের সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞান, পাণ্ডিত্যকে সম্বল করে ঠান্ডা মাথায় সেসব সামলেছেন৷ উদাহরণ স্বরূপ, একবার এয়ার ইন্ডিয়া নিয়ে মন্ত্রিগোষ্ঠীর বৈঠকে এক মন্ত্রী ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে দাঁড়িয়ে নিজের ইস্তফা ঘোষণা করেন৷ বৈঠকের পৌরহিত্যের দায়িত্বে থাকা প্রণববাবু সঙ্গে সঙ্গে সেই মন্ত্রীর হাত ধরে তাঁকে শান্ত করেন এবং বৈঠকে ১৫ মিনিটের বিরতি ঘোষণা করেন৷ এর পর বৈঠক শুরু হলে আর কোনও আপত্তি তোলেননি সেই মন্ত্রী৷ নির্বিঘ্নেই শেষ হয় বৈঠক৷

আবার আধারের জন্য UIDAI-এর পরিকাঠামো তৈরির পিছনেও প্রণববাবুর অবদান অনস্বীকার্য৷ নিজে কোনওদিন কম্পিউটার ব্যবহার না শিখলেও দূরদৃষ্টি সম্পন্ন প্রণব মুখোপাধ্যায় বুঝতে পেরেছিলেন, একদিন এই আধারই দেশের সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি পরিচালনা এবং কর কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে৷

অর্থমন্ত্রী হিসেবে যেমন পি ভি নরসিমহা রাওয়ের পূর্ণ সমর্থন পেয়েছিলেন মনমোহন সিং, তেমনই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর আমলে নেওয়া সফল কর্মসূচি ও প্রকল্পগুলির মূল কারিগরই ছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়৷ নিজের দফতরে বিভিন্ন ফাইলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ডুবে থাকতেন প্রণব৷ তাই তিনি যখন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন, পি চিদম্বরম মজার ছলে বলেছিলেন, রাষ্ট্রপতি ভবনে গিয়ে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সময় কাটবে না৷

Published by: Debamoy Ghosh
First published: September 1, 2020, 9:44 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर