corona virus btn
corona virus btn
Loading

দিল্লি দাঙ্গায় আহতদের বাঁচিয়েছিলেন, সেই চিকিৎসকের নামই চার্জশিটে রাখল পুলিশ

দিল্লি দাঙ্গায় আহতদের বাঁচিয়েছিলেন, সেই চিকিৎসকের নামই চার্জশিটে রাখল পুলিশ
চিকিৎসক এম এ আনওয়ার৷ PHOTO SOURCE- COLLECTED

বিপদের সময় তিনি যেভাবে পরিষেবা দিয়েছেন, তাতে ওই চিকিৎসককে ভগবানের দূত হিসেবেই ডাকতে শুরু করেন এলাকার বাসিন্দারা৷

  • Share this:

#দিল্লি: দিল্লি দাঙ্গার সময় নাওয়া খাওয়া ভুলে আহতদের চিকিৎসা করেছিলেন৷ বহু মানুষের প্রাণ বাঁচিয়ে এলাকাবাসীর কাছে ভগবানের দূত হয়ে উঠেছিলেন তিনি৷ কিন্তু দিল্লিতে দাঙ্গার ঘটনার চার্জশিটে সেই চিকিৎসকের নামই অভিযুক্তের তালিকায় রাখল পুলিশ৷ যা জানার পর রীতিমতো স্তম্ভিত ওই তরুণ চিকিৎসক৷

৪০ বছর বয়সি ওই তরুণ চিকিৎসকের নাম এম এ আনওয়ার৷ আদতে তিনি বিহারের বাসিন্দা৷ গত ২৪ ফেব্রুয়ারি গ্রামের বাড়ি থেকে ফিরে নিজের বাড়িতেই বিশ্রাম নিচ্ছিলেন ৪০ বছর বয়সি ওই চিকিৎসক৷ তখনই প্রতিবেশীরা এসে তাঁর কাছে সাহায্য চান৷ ততক্ষণে উত্তর পূর্ব দিল্লির একাংশ জুড়ে গোষ্ঠী সংঘর্ষ শুরু হয়ে গিয়েছে৷

পরিস্থিতি আঁচ করে দ্রুত নিউ মুস্তফাবাদের আল হিন্দ হাসপাতালে পৌঁছন ওই চিকিৎসক৷ তাড়াহুড়োয় পোশাকও বদলানোর সময় পাননি তিনি৷ টানা কয়েকদিন হাসপাতালে দাঙ্গায় আহতদের চিকিৎসা করেন তিনি৷ এর পরই গোটা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে তাঁর নাম৷ বিপদের সময় তিনি যেভাবে পরিষেবা দিয়েছেন, তাতে ওই চিকিৎসককে ভগবানের দূত হিসেবেই ডাকতে শুরু করেন এলাকার বাসিন্দারা৷

কিন্তু সেই ঘটনার চার মাস পরে বড়সড় ধাক্কা অপেক্ষা করছিল এম এ আনওয়ারের জন্য৷ কারণ দাঙ্গায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে তাঁর নামই দিল্লি দাঙ্গার চার্জশিটে রেখেছে পুলিশ৷

২০১৭ সালে তিনি নিজেই আল হিন্দ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন৷ তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার কথা শুনে সেই চিকিৎসকই বলছেন, 'আমি শুধু আহতদের চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা করেছি৷ কে হিন্দু আর কে মুসলিম, তা দেখিনি৷ শুধু মানুষ হিসেবে যেটুকু করার করেছি৷' শুধু এম এ আনওয়ার নন, তাঁর ভাই পেশায় চিকিৎসক মিরাজ আক্রমও তাঁর সঙ্গে হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসা করেছিলেন৷ দুষ্কৃতীরা যখন অ্যাম্বুল্যান্সকে টার্গেট করছিল, সেই সময় নিজেদের হাসপাতালেই অন্তত ৫০০ জনকে চিকিৎসা পরিষেবা দেন তাঁরা৷ মাথায় আঘাত থেকে গুলিবিদ্ধ মানুষ, দু' জন নার্স এবং কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে এমন অনেক গুরুতর আহতকে সুস্থ করে তুলেছেন দুই চিকিৎসক ভাই৷

চার্জশিটে তাঁর নাম রয়েছে জানতে পেরে অবাক ওই এম এ আনওয়ার বলছেন, 'আমি কখনও কোনও আন্দোলন বা বিক্ষোভে অংশ নিইনি৷ চিকিৎসক হিসেবে মানুষের প্রাণ বাঁচানো আমার কাজ, আমি সেটাই করেছি৷'

ওই চিকিৎসক মনে করছেন, অ্যাম্বুল্যান্স চলাচলের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফিল্ম পরিচালক রাহুল রায় একটি মামলা করেন৷ সেই মামলায় তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে সাক্ষী দিয়েছিলেন৷ সেই কারণেই হয়তো প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে তাঁকে নিশানা করেছে দিল্লি পুলিশ৷ এর আগে একাধিকবার তাঁকে ডেকে পাঠিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জেরা করেছিল পুলিশ৷ প্রত্যেকবারই তিনি পুলিশকে জানিয়েছিলেন, তিনি কোনও বিক্ষোভে অংশ নেননি৷ শুধু চিকিৎসক হিসেবে কাজ করেছেন৷ তার পরেও বার বার তাঁকে ডেকে পাঠাত পুলিশ৷

ওই চিকিৎসক বলেন, চার্জশিটে পুলিশ তাঁর নাম রাখায় পেশাদারি ক্ষেত্রে তাঁর বদনাম হবে৷ চিকিৎসক সমাজেও তাঁর সুনাম ক্ষুণ্ণ হবে৷

এম এ আনওয়ারের নাম চার্জশিটে রাখা হয়েছে শুনে বিস্মিত এলাকার বাসিন্দারাও৷ শাহিক খান নামে এক ব্যক্তি বলেন, 'ওই চিকিৎসকের জন্যই বহু মানুষ প্রাণে বাঁচেন৷ অ্যাম্বুল্যান্স জোগাড় করে রোগীদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থাও করেন তিনি৷ তাঁর কথাতেই গুদাম খুলে স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ীরা হাসপাতালে ওষুধ সরবরাহ করেন৷ উনি চিকিৎসক নন, মানুষ রূপে ভগবানের দূত৷'

ওয়াসিম নামে এক যুবক বলেন, 'এম এ আনওয়ারই আমাদের কীভাবে ফার্স্ট এইড দিতে হয় তা শিখিয়েছিলেন৷' ওই যুবকও স্বীকার করেন, এম এ আনওয়ার এবং তাঁর ভাই না থাকলে আরও বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটত৷

Published by: Debamoy Ghosh
First published: June 30, 2020, 8:54 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर