কাশ্মীর-সিদ্ধান্তের যাঁরা বিরোধী, তাঁদের হৃদয় মাওবাদী ও জঙ্গিদের জন্য কাঁদে: মোদি

দ্বিতীয় দফায় প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে ৭৫ দিন পার করলেন নরেন্দ্র মোদি৷ ৭৫ দিন পূর্তিতে সংবাদ সংস্থা IANS-কে একটি সাক্ষাত্‍কার দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷ উঠে এল জম্মু-কাশ্মীর, চিকিত্‍‌সা সংস্কার, আমলাতন্ত্রের দুর্নীতি-সহ একাধিক সংবেদনশীল বিষয় উঠে এল প্রধানমন্ত্রীর কথায়৷ শুনলেন IANS-এর এডিটর ইন চিফ সন্দীপ বামজাই৷

Bangla Editor | News18 Bangla
Updated:Aug 14, 2019 03:46 PM IST
কাশ্মীর-সিদ্ধান্তের যাঁরা বিরোধী, তাঁদের হৃদয় মাওবাদী ও জঙ্গিদের জন্য কাঁদে: মোদি
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি
Bangla Editor | News18 Bangla
Updated:Aug 14, 2019 03:46 PM IST

দ্বিতীয় দফায় প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে ৭৫ দিন পার করলেন নরেন্দ্র মোদি৷ ৭৫ দিন পূর্তিতে সংবাদ সংস্থা IANS-কে একটি সাক্ষাত্‍কার দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷ উঠে এল জম্মু-কাশ্মীর, চিকিত্‍‌সা সংস্কার, আমলাতন্ত্রের দুর্নীতি-সহ একাধিক সংবেদনশীল বিষয় উঠে এল প্রধানমন্ত্রীর কথায়৷ শুনলেন IANS-এর এডিটর ইন চিফ সন্দীপ বামজাই৷

প্রশ্ন: আপনি আপনার সরকারে ৭৫ দিন সমাপ্ত করলেন৷ এ রকম মাইলস্টোন নম্বরে সরকারে ফেরার পর প্রতি সরকারই কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা করেন৷ কেন আপনার সরকারকে আমরা অন্যদের চেয়ে আলাদা বলব?

প্রধানমন্ত্রী: সরকার গড়ার প্রথম কয়েক দিনের মধ্যেই আমরা ব্যাপক গতিতে কাজ শুরু করেছি৷ এত দিন যা যা আমরা করেছি বা করছি, তা সবই 'স্পষ্ট নীতি, সহি দিশা'-র ফল৷ আমাদের সরকারের প্রথম ১৫ দিনেই অনেক কিছু ঘটে গিয়েছে৷ শিশু সুরক্ষা থেকে চন্দ্রযান ২, দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ থেকে শুরু করে তাত্‍ক্ষণিক তিন তালাক থেকে মুসলিম মহিলাদের মুক্তি দেওয়া, কাশ্মীর থেকে শুরু করে কিষাণ৷ মানুষ আমাদের উদারহস্তে ভোট দিয়েছেন, আমরাও উন্নয়ন দিয়ে তাঁদের প্রত্যাশা পূরণ করে দিচ্ছি৷ বর্তমানে সবচেয়ে গুরুতর সমস্যা মেটাতে আমরা জলশক্তি মন্ত্রক গড়েছি৷ দেশের মানুষ যাতে জলকষ্টে না ভোগেন, তার জন্য নানা পদক্ষেপ করছি৷

প্রশ্ন: দেশের মানুষের প্রতি আপনার প্রতিশ্রুতি ও সংস্কারের ফসল কি তৃণমূলে পৌঁছতে এই বিপুল ভোটে জয় সাহায্য করবে বলে মনে করেন?

এটাও বলা যায়, এই কারণেই আমাদের সরকার বিশাল ভোট নিয়ে ফের ক্ষমতায় এসেছে৷ আমাদের সরকারের প্রথম ৫ বছরে তৈরি করা শক্তিশালী ভিদেরই ফল হল দ্বিতীয় সরকারের প্রথম ৭৫ দিনের এতগুলি কাজ৷ গত ৫ বছরে কয়েকশো সংস্কারের ফল এ বার ভোগ করবে দেশবাসী৷ ১৭তম লোকসভার প্রথম অধিবেশনেই রেকর্ড কাজ হয়েছে৷ ১৯৫২ সালের পর একটি অধিবেশনে এতগুলি বিল পাস হওয়ার নজির এই প্রথম৷ এটা বড় সাফল্য৷ তবে আমার মতে, এটা অত্যন্ত ভালো ইঙ্গিত৷ সংসদে ভালো কাজ হলে, দেশের মানুষ উপকৃত হবেন৷

Loading...

কৃষক ও ব্যবসায়ীদের জন্য পেনশন স্কিম, মেডিক্যাল সেক্টরে সংস্কার, দেউলিয়া আইনে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার, শ্রম আইনে সংস্কার-সহ একাধিক দুর্দান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে৷ মোদ্দা বিষয় হল, যদি আপনার দিশা সঠিক হয়, উদ্দেশ্য যদি স্পষ্ট হয় এবং মানুষের সমর্থন যদি থাকে, তা হলে আমরা যা যা করতে পারি, তার কোনও সীমা নেই৷

প্রশ্ন: চিকিত্‍সা ক্ষেত্রে আপনাদের সংস্কার নিয়ে কিন্তু একাধিক মহল থেকে বিরোধিতা ও আপত্তি উঠছে৷ যে পরিবর্ন আপনারা আনলেন, আপনি কি মনে করেন তা সুপরিকল্পিত ও সুচিন্তিত?

২০১৪ সালে যখন আমরা সরকার গড়েছিলাম, তখন মেডিক্যাল সিস্টেমে বেশ কিছু উদ্বেগের বিষয় ছিল৷ দেশের চিকিত্‍সা শিক্ষা নিয়ে আদালত তীব্র ভর্ত্‍সনা করে বলেছিল, দুর্নীতির আখড়া৷ একটি সংসদীয় কমিটি একেবারে চুলচেরা ভাবে খতিয়ে দেখে যে রিপোর্ট তৈরি করে, তাতে দেখা যায়, চরম অব্যবস্থা, স্বচ্ছতার অভাব, স্বেচ্ছাচার৷

আমাদের আগের সরকারও চিকিত্‍‌সা ক্ষেত্রে সংস্কারের কথা ভেবেছিল, কিন্তু পারেনি৷ আমরা দেখলাম, এই বিষয়টিকে হালকা ভাবে নেওয়া যাবে না৷ কারণ, মানুষের স্বাস্থ্য ও যুব সম্প্রদায়ের ভবিষ্যত্‍ জড়িয়ে৷ তাই আমরা একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করলাম, বিষয়টি সংস্কারের জন্য৷ সিস্টেম খুব ভালো ভাবে খতিয়ে দেখে বিশেষজ্ঞ কমিটি৷ কোথায় সমস্যা, কোথায় উন্নতি দরকার, সব চিহ্নিত করে৷ ওই বিশেষজ্ঞ কমিটির পরমর্শ নিয়েই বিল তৈরি করি আমরা৷

প্রশ্ন: তা হলে বিলটি নিয়ে এত হইচই কেন?

ত্রুটিগুলি সংশোধনের জন্য জাতীয় মেডিক্যাল কমিশন গঠন একটা দারুণ সংস্কার৷ দুর্নীতি রুখতে ও স্বচ্ছতা আনতে একাধিক সংস্কার করা হয়েছে৷ এমন একটা সময়, পরবর্তী বৃদ্ধির ঢেউয়ের যখন অন্যান্য দেশ ভারতের দিকে তাকিয়ে, তখন আমরা দেখলাম, এটা একমাত্র সম্ভব ভালো স্বাস্থ্য ব্যবস্থায়৷ গরিব মানুষের কাছে ভালো মানের স্বাস্থ পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ জাতীয় মেডিক্যাল কমিশন সেই উদ্দেশ্য পূরণ করবে৷ মেডিক্যাল শিক্ষায় স্বচ্ছতা, মানোন্নয়ন ঘটাবে৷ সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরা উঠে আসবে, ভালো ডাক্তার পাবে দেশের মানুষ৷

স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটিয়েছে আয়ুষ্মান ভারত৷ ভালো মানের চিকিত্‍‌সা পাচ্ছেন সমাজের সব স্তরের মানুষ, বিশেষ করে টিয়ার ২ ও টিয়ার ৩ শহরগুলি৷

প্রতি তিন জেলায় একটি করে মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের জন্যও আমরা কাজ করছি৷ আপনি নিশ্চয়ই জানেন, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে মেডিক্যালে সবচেয়ে বেশি আসন যোগ হয়েছে সরকারি কলেজগুলিতে৷ এক বছরে ২৪টি নতুন সরকারি মেডিক্যাল কলেজ তৈরি হয়েছে৷

প্রশ্ন: যুব ভারতের কাছে শিক্ষা একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়৷ আপনার সরকারে শিক্ষা নিয়ে খুব একটা আলোচনা শোনা যাচ্ছে না৷ সরকার এ বিষয়ে কী ভাবছে?

প্রধানমন্ত্রী: শিক্ষা শুধু গুরুত্বপূর্ণ নয়, স্কিলড মানব সম্পদের প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ৷ শিক্ষা শুধুমাত্র কোনও ব্যক্তির জীবনধারণের মানোন্নয়নই করে না, দেশের ভবিষ্যত্‍ গড়ে৷ শিক্ষার বিভিন্ন দিক নিয়ে আমরা কাজ করছি৷ স্কুল স্তরে বিশেষ ভাবে, শিক্ষার মানোন্নয়ন, সৃষ্টিশীলতা ও বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনার বিকাশে জোর দেওয়া হচ্ছে৷ স্কুল শিক্ষায় আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স, মেশিন লার্নিংয়ের মতো বিষয়গুলিতে জোর দেওয়া হচ্ছে৷

উচ্চশিক্ষায় আমরা আরও আসন বৃদ্ধি, দেশের প্রথমসারির প্রতিষ্ঠানগুলিতে আরও ছাত্র ভর্তি, ওই প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও স্বায়ত্বশাসন দেওয়ার উপর কাজ করছি৷ ২০২২ সালের মধ্যে আমরা হায়ার এডুকেশন ফাইনান্সিং এজেন্সি গড়ে ১ লক্ষ কোটি টাকা ফান্ডিং করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে৷ তার মধ্যে ২১ হাজার কোটি টাকা ইতিমধ্যেই অনুমোদিত হয়ে গিয়েছে৷ ন্যাশনাল এডিকেশন পলিসি মিশনের কাজও দ্রুত এগোচ্ছে৷ পঞ্চায়েত ও ব্লক স্তর থেকে নানা পরামর্শ নিচ্ছি৷

শিক্ষানীতির চূড়ান্ত খসড়া তৈরির কাজ চলছে৷ শিক্ষা ক্ষেত্রে বিভিন্ন মহল থেকে আমরা পরামর্শ নিচ্ছি৷

প্রশ্ন: দুর্নীতি রোধে নানা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ আমলাতন্ত্রকে নাড়িয়ে দিয়েছে৷ আপনার কী বার্তা?

প্রধানমন্ত্রী: ভারতের স্বাধীনতার পর থেকে আমাদের দেশকে পিছিয়ে রাখার মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যাটি হল দুর্নীতি৷ কাউকে ছেড়ে কথা বলে না দুর্নীতি৷ ধনী থেকে গরিব-- সবাই ভুক্তভোগী৷ যে মানুষগুলি দুর্নীতি করে, তারা হয় লোভে করে, নয় তো কোনও চাপে৷ এমনকী দুর্নীতিবাজ লোকরাই এতদিন দুর্নীতি রোধের জন্য আওয়াজ তুলেছে৷ প্রশ্নটি হল, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই কে শুরু করবে এবং কোথা থেকে৷ ভারতের উন্নয়নের মূল বাধা ছিল দুর্নীতি৷ অপরাধের শিকার হয়ে কেউ পুলিশ স্টেশনে গেলে তাঁর চিন্তা হয়, বিচার পাবো কিনা৷ কোনও জিনিস কিনতে গেলে ভয় পান, ভেজাল নেই তো?

আমরা প্রথম দিনই দুর্নীতি শেষ করব ঠিক করি৷ কাউকে তো একটা শুরু করতে হবে৷ আমরা ঠিক করি, দলমত নির্বিশেষে দুর্নীতি বন্ধ করব৷ গত ৫ বছরে আমরা অনলাইন কর ব্যবস্থা, মানুষের অ্যাকাউন্টে সরকারি প্রকল্পের টাকা সরাসরি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি৷

প্রশ্ন: ৩৭০ ধারার বিলোপের সিদ্ধান্তকে অনেকে স্বাগত জানাচ্ছে, অনেকে বিরোধিতা করছে৷ একটা অস্থিরতা তৈরি হয়েছে৷ কেন আপনি মনে করেন, কাশ্মীরের মানুষ আপনার পাশে থাকবে?

প্রধানমন্ত্রী: যারা বিরোধিতা করছে, তাদের একটা তালিকা তৈরি করুন৷ দেখবেন, সংখ্যাটা খুব কম এবং তাদের রাজনৈতিক স্বার্থ জড়িয়ে৷ যারা কাশ্মীর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন, তারা আসলে জঙ্গিদের প্রতি সহমর্মী৷ দুঃখের বিষয়, বিরোধী দলের কিছু বন্ধুও রয়েছেন এই দলে৷ দেশের মানুষ জম্মু-কাশ্মীর পদক্ষেপকে সমর্থন জানাচ্ছে৷ এটা জাতির বিষয়, রাজনীতির নয়৷ আমাদের লক্ষ্য একটু ভিন্ন৷ গরিবি হঠানোর জন্য মানুষকে অর্থনৈতিক সুযোগ দেওয়ার পক্ষে আমরা৷ যারা জম্মু-কাশ্মীর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছে, তাদের প্রতি আমার প্রশ্ন, ৩৭০ ধারা ও ৩৫এ ধারার পক্ষে একটা সঠিক যুক্তি দিন৷ কোনও উত্তর নেই তাঁদের কাছে৷ জল পরিষেবার একটি প্রকল্প হোক, তারও বিরোধিতা করবেন এঁরা৷ নতুন রেললাইন তৈরি হোক, তারও বিরোধিতা করবেন এঁরা৷

প্রশ্ন: গণতন্ত্র নিয়ে কোনও চিন্তা নেই বলছেন? কাশ্মীরের মানুষের কথা কি শোনা হবে?

প্রধানমন্ত্রী: গণতন্ত্রের পক্ষে এত ভালো পদক্ষেপ কাশ্মীর আগে দেখেনি৷ পঞ্চায়েত নির্বাচনের কাশ্মীরের টার্ন-আউট মনে আছে? ২০১৮ সালে জম্মু-কাশ্মীরে ৩৫ হাজার সরপঞ্চ নির্বাচিত হয়েছিলেন ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে৷ ভোট পড়েছিল ৭৪ শতাংশ৷ কোনও হিংসা হয়নি৷ পঞ্চায়েত নির্বাচন ভালো হওয়া মানে, তৃণমূলস্তরের মানুষের উন্নয়ন৷

ভাবতে পারেন, দীর্ঘ বছর ধরে পঞ্চায়েত ব্যবস্থার কোনও উন্নতি ছিল না কাশ্মীরে৷ আমি মাননীয় রাজ্যপালের কাছে অনুরোধ করেছি, জম্মু-কাশ্মীরে পঞ্চায়েত ও ব্লক স্তরে নির্বাচনেরও ব্যবস্থা করতে৷ আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, কাশ্মীরবাসী তাঁদের প্রতিনিধি নিজেরাই নির্বাচন করবেন৷ কাশ্মীরের মানুষের উন্নযন হবে৷ এটা গণতন্ত্র নয় তো কী?

First published: 02:41:00 PM Aug 14, 2019
পুরো খবর পড়ুন
Loading...
अगली ख़बर