• Home
  • »
  • News
  • »
  • national
  • »
  • PM Narendra Modi: অতিমারি বিধ্বস্ত দেশে যখন মুশকিল আসান করতে ঝাঁপিয়ে পড়েন নরেন্দ্র মোদি...

PM Narendra Modi: অতিমারি বিধ্বস্ত দেশে যখন মুশকিল আসান করতে ঝাঁপিয়ে পড়েন নরেন্দ্র মোদি...

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

দেশের অতিমারিকালে কী ভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi) সাধারণের পাশে দাঁড়িয়েছেন তার কথা বেশিরভাগেরই অজানা।

  • Share this:

    #নয়াদিল্লি: রাজনৈতিক বিরোধীরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কান্নাতেও রাজনীতি দেখতে পান। কিন্তু দেশের অতিমারিকালে কী ভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi) সাধারণের পাশে দাঁড়িয়েছেন তার কথা বেশিরভাগেরই অজানা। দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তো বটেই, এমনকী ব্যক্তিগত ভাবেও বহু মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন মোদি। জনগণের পাশে দাঁড়ানোর এমন হাজার হাজার নিদর্শন রয়েছে। তবে মোদি নিজে এই ধরনের ঘটনা লোকের সামনে তুলে ধরতে কখনওই পক্ষপাতী নন। তিনি সব সময়ই ভাবেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানো তাঁর কর্তব্য। মানুষের জন্য কাজ করে, পাশে দাঁড়ানোর কথা কী ভাবে বিশ্ববাসী দেখবেন তা নিয়ে সব সময়ই সন্দিহান প্রধানমন্ত্রী। তাই কখনওই এ সব কাহিনি মানুষের কাছে এসে পৌঁছয় না।

    সম্প্রতি টেলিভিশন সঞ্চালিকা ও সাংবাদিক রুবিকা লিয়াকতের মা ডক্টর ফতিমা লিয়াকত গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত ২৮ মে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। কিন্তু তাঁর চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে ভাবে রুবিকার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই ঘটনা নজিরবিহীন বলা চলে। গত ২ মে আচমকাই রুবিকার মা অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। রুবিকা মায়ের অসুস্থতার কথা জানতে পেরেই উদয়পুরের বাড়িতে চলে যান। বায়োলজিকাল সায়েন্সে পিএইচডি রুবিকার মা ফতিমা লিয়াকত সামুদ্রিক প্রাণীদের নিয়ে গবেষণা করছিলেন।

    প্রথম দিকে, রুবিকার মা ফতিমা কোনও ভাবে গ্যাস্ট্রোনটারাইটিসে ভুগছেন ভেবেছিলেন মেয়ে। তিনি মনে করেছিলেন, রমজানের সময় দীর্ঘ উপোস করেই হয়তো অসুস্থ হয়ে পড়েছেন মা। বমি ও তার সঙ্গে অদ্ভুত কিছু উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করেছিল। পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হয়ে উঠছিল। চিকিৎসকেরা বলেছিলেন, ধীরে ধীরে ফতিমার কিডনি, লিভার ও হার্ট বিকল হয়ে যেতে শুরু করেছে। খুব দ্রুত মাল্টি অর্গান ফেলিওরের দিকে যাচ্ছেন তিনি। হাসপাতালে ভর্তি করার পরই রুবিকা জানতে পারেন, প্যানক্রিয়াটাইটিসে ভুগছেন তাঁর মা। বাবাকে বাড়িতে রেখে রুিবকা ও তাঁর বোন অঞ্জুম উদয়পুরের পারস জে কে হাসপাতালে দিনরাত এক করছিলেন মা-কে বাঁচানোর জন্য। সেই সময় রুবিকার ফোনে কোনও নম্বর না দেখিয়ে একটি ফোন আসে।

    রুবিকা ভাবছিলেন, তিনি ফোনটা ধরবেন কি না। ফোনটি ধরার পর তাঁকে বলা হয়, পিএমও থেকে ফোন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী রুবিকার সঙ্গে কথা বলতে চান। রুবিকার সঙ্গে কথা বলে ফতিমা লিয়াকতের সঙ্গেও কথা বলার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন মোদি। মৃত্যুশয্যায় লড়াই চলাকালীন ফতিমাকে মনে জোর রাখার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এর পর দিল্লির এইমসের শীর্ষস্থানীয় ডাক্তারদের মোদি নির্দেশ দিয়েছিলেন জয়পুরের ওই হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ফতিমা লিয়াকতের জন্য সমস্ত ব্যবস্থা করতে। ডক্টর রণদীপ গুলেরিয়া ও ডক্টর এস কে সারিন নিয়মিত ওই হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চিকিৎসায় সাহায্য করেছিলেন। যদিও ২৬ দিনের লড়াইয়ের পর আর বাঁচানো যায়নি ফতিমাকে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর এমন সাহায্যের জন্য রুবিকা ও তাঁর পরিবার চিরকাল ঋণী হয়ে থাকবেন বলে জানিয়েছে লিয়াকত পরিবার। ঈদের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি মায়ের মৃত্যুর পর লিয়াকত পরিবারকে চিঠি লিখে শোকবার্তাও পাঠিয়েছিলেন মোদি।

    একইভাবে সিনিয়র সাংবাদিক উদয় মাহুরকারের পাশেও দাঁড়িয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। তাঁর স্ত্রী স্মিতা মাহুরকার করোনা আক্রান্ত হয়ে অক্সিজেনের স্যাচুরেশন কমতে শুরু করেছিল। স্যাচুরেশন ৫৫-তে নেমে যাওয়ায় খুবই সংকটজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল তাঁর। মোদির সরকারের কাজ নিয়ে দুটি বই লিখেছেন উদয় মাহুরকার। বিপদের দিনে তাই কোনও কিছু না ভেবে উদয়ের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন মোদি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধনের নির্দেশে স্মিতা মাহুরকারের চিকিৎসার সমস্ত ব্যবস্থার আয়োজন করেছিলেন মোদি। ৭ এপ্রিল রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল স্মিতাকে। ২৬ এপ্রিল সুস্থ হয়ে তিনি বাড়ি ফিরেছেন।

    গ্লুকোমা আক্রান্ত বহু পশুর চিকিৎসারও ব্যবস্থার নির্দেশ দিয়েছেন মোদি। করোনার কালবেলায় বহু মানুষকে সরাসরি ফোন করে চমকে দিয়েছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। শুধুমাত্র বিজেপিপন্থীই না। বিরোধী বহু মানুষের পাশেও করোনাকালে সরাসরি দাঁড়িয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। এমনই এক উদাহরণ পাওয়া গিয়েছে, দিল্লির এক সংবাদপত্রের রেসিডেন্ট এডিটরের অসুস্থতার ঘটনাতেও। ওই সাংবাদিকের অসুস্থতার কথা জেনে সরাসরি তাঁকে ফোন করেছিলেন মোদি। বিভিন্ন সময় ওই সাংবাদিক মোদির বিরোধিতা করলেও, অসুস্থতার সময় এসবকে পিছনে সরিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন মোদি। এছাড়াও বিভিন্ন সময় বিরোধী সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন মোদি। সরাসরি ফোন করে তাঁদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

    ব্রজেশ কুমার সিং।

    Published by:Raima Chakraborty
    First published: