corona virus btn
corona virus btn
Loading

তীর্থ করতে গিয়ে বৃন্দাবনে আটকে রাজ্যের বহু পুণ্যার্থী, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সাহায্যের আবেদন

তীর্থ করতে গিয়ে বৃন্দাবনে আটকে রাজ্যের বহু পুণ্যার্থী, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সাহায্যের আবেদন

চিন্তায় ঘুম আসছে না অসহায় মানুষগুলির

  • Share this:

#কলকাতা: প্রত্যেকেরই বয়স ষাটের উর্ধ্বে। কারও বয়স সত্তর। এ রাজ্যের ব্যান্ডেলের বাসিন্দা ২৫ জন প্রৌঢ়-প্রৌঢ়া তীর্থ করতে গিয়েছিলেন মথুরা-বৃন্দাবন। দেশজুড়ে লকডাউনের জেরে আপাতত বৃন্দাবনে আটকে রয়েছেন অসহায় মানুষগুলি। কাছে থাকা সামান্য টাকা এবং ১৫ দিনের ওষুধও শেষ। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে সাহায্যের আবেদন করেছেন তাঁরা। রাজ্যে ফেরানো সম্ভব না হলেও সেখানে যাতে খাবার এবং ওষুধের ব্যবস্থা করা হয় সেই আর্জি আটকে থাকা প্রৌঢ়দের।

ব্যান্ডেল রাজহাটের বাসিন্দা ওই ২৫ জন গত ১৬ মার্চ এক্সপ্রেস করে বারাণসীর উদ্দেশ্যে রওনা দেন। মথুরা, বৃন্দাবন, হরিদ্বারের মতো উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন তীর্থস্থান গুলি ঘুরে ২৯ মার্চ রবিবার বাড়ি ফেরার কথা ছিল তাঁদের।

গত ১৭ মার্চ তাঁরা পৌঁছন বারাণসীতে। সেখানে কাশী-বেনারস তীর্থস্থান ঘোরার পর ১৯ মার্চ মথুরা এবং বৃন্দাবনের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। মথুরা-বৃন্দাবন দর্শন করার পর তাঁদের হরিদ্বার যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনা মোকাবিলায় সেই মুহূর্তেই দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণা করায় বন্ধ হয় রেল পরিষেবা। ফলে বৃন্দাবনেই আটকে পড়েন তাঁরা।

বৃন্দাবনের মনোহরা গেস্ট হাউসে এই মুহূর্তে কার্যত বন্দি রাজ্যের ২৫ জন প্রৌঢ়-প্রৌঢ়া। কাছে থাকা সামান্য টাকা দিয়ে যে ক'দিন সম্ভব হয়েছে বাইরে থেকে খাবার কিনে খেয়েছেন তাঁরা। টাকা ফুরিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার দেওয়া খাবারই ভরসা তাঁদের।

অন্যদিকে, প্রত্যেকেই ষাটোর্ধ হওয়ায় বয়সজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত প্রত্যেকেই। অসুস্থতার জন্য ১৫ দিনের ওষুধ নিয়ে গিয়েছিলেন। সেই ওষুধও শেষ। ফলে প্রত্যেকেই চরম অসহায়। তাঁর উপর যে গেস্টহাউসে তাঁরা রয়েছেন সেই গেস্ট হাউস মালিকও ঠিকমতো টাকা না পাওয়ায় ইতিমধ্যেই ঘর খালি করার হুমকি দিয়েছে। এই রকম পরিস্থিতিতে তারা কি খাবেন? কোথায় থাকবেন? দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে ওই প্রৌঢ়-প্রৌঢ়া ও তাঁদের পরিবারের।

বৃন্দাবনে আটকে থাকা শম্ভুনাথ মন্ডলের মেয়ে রিতা মণ্ডল বলেন, "শুনেছি এই করোনা রোগটা বয়স্ক মানুষদেরই সহজে আক্রমণ করে। ওখানে বাবা-মায়ের কাছে এখন ওষুধ কেনার মতো টাকা নেই। ঠিকমতো খাবার জুটছে না। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে হাতজোড় করে সাহায্য প্রার্থনা করছি।"

গেস্ট হাউসে আটক কৃষ্ণচন্দ্র হাজরা বলেন, "স্থানীয় থানার সাহায্যে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা থেকে খাবার মিলছে। কিন্তু সঙ্গে থাকা ওষুধ ফুরিয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কবে ফিরব, কবে ফিরব জানি না। হোটেল মালিক ও ঘর ছাড়তে বলেছে।চরম অসহায় লাগছে।"

ইতিমধ্যেই স্থানীয় বিধায়ক অসিত মজুমদারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে আটকে পড়া প্রৌঢ়-প্রৌঢ়ার পরিবারগুলি। নিজেদের চিন্তার কথা জানিয়ে দ্রুত সাহায্যের আবেদন করা হয়েছে। বিধায়কও সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন।

তবুও চিন্তায় ঘুম আসছে না অসহায় মানুষগুলির।

SUJOY PAL

First published: March 30, 2020, 12:17 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर