'বিনা ওষুধেই প্রাণ হারাব',৩৭০ ধারা প্রত্যাহার পরবর্তী কাশ্মীরে বন্ধ জীবনদায়ী ওষুধের জোগান,অমিল চিকিৎসা

EFF AAY ফার্মাসি ডিস্ট্রিবিউটরের কর্ণধার মনসুর আহমেদ জানিয়েছেন মাত্র ৩০% স্টক পড়ে রয়েছে ও নয়াদিল্লি থেকে কোনও নতুন স্টক আসছে না

Bangla Editor | News18 Bangla
Updated:Aug 24, 2019 11:53 PM IST
'বিনা ওষুধেই প্রাণ হারাব',৩৭০ ধারা প্রত্যাহার পরবর্তী কাশ্মীরে বন্ধ জীবনদায়ী ওষুধের জোগান,অমিল চিকিৎসা
Bangla Editor | News18 Bangla
Updated:Aug 24, 2019 11:53 PM IST

#শ্রীনগর: ৩৭০ ধারা পরবর্তী কাশ্মীর। কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি ছন্দে ফিরছে উপত্যকা, পরিস্থিতি একদম স্বাভাবিক । কিন্তু বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হয়েছে বিরোধীপক্ষের নেতাদের ও তারপর থেকেই ফের একটাই প্রশ্ন- উপত্যকার প্রকৃত অবস্থা কী?

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মায়ের প্রেসক্রিপশন নিয়ে একাধিক ওষুধের দোকানে গিয়েছেন সাজিদ আলি কিন্তু কোনও লাভ হয়নি । আলির মা, ৬৫ বছর বয়সী সুরাইয়া বেগমের মাত্র ২ দিনের ওষুধ বাকি ছিল কিন্তু উপত্যকায় যানবাহনও চলছে না । স্থানীয় হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্সে চড়ে শ্রীনগরে পৌঁছেছিলেন সাজিদ আলি । কিন্তু ৩ ঘণ্টা ধরে খোঁজার পরে শ্রীনগরেও ওষুধ পাওয়া যায়নি । অবশেষে শ্রীনগর বিমানবন্দর থেকে নয়াদিল্লির টিকিট কেটে দিল্লি থেকে এক মাসের ওষুধ নিয়ে ফিরেছেন আলি।'আমি এইভাবে ওষুধ পেয়েছি কিন্তু হতদরিদ্র মানুষগুলো কী করবে',-কান্নায় ভেঙে পড়ে সুরাইয়া বেগমের প্রশ্ন।

৫ অগাস্ট স্তব্ধ কাশ্মীর উপত্যকা, শেষ হয়ে আসছে নিত্যপ্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ। ৫ অগাস্ট, জম্মু-কাশ্মীর থেকে প্রত্যাহার করা হয় ৩৭০ ধারা, ভারতের মানচিত্রে আসে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল-জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ। সেই সিদ্ধান্তের পর থেকেই স্তব্ধ কাশ্মীর । বন্ধ দোকানপাট, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের সরবরাহ ব্যাহত। ওষুধের সরবরাহ নেই বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলে পরিস্থিতি আরও শোচনীয় ।

উরি অঞ্চলের মালিক মেডিক্যাল হল এক নামজাদা ওষুধের দোকান কিন্তু সেখানেও ফুরিয়ে আসছে জীবনদাইয়ী ওষুধের সরবরাহ । '৫ অগাস্ট থেকে নতুন কোনও সাপ্লাই আসেনি , কেবলমাত্র কিছু অ্যান্টিবায়োটিক পড়ে রয়েছে,' জানিয়েছে জনৈক এক বিক্রেতা। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসের মত রোগ নিয়ে দুরদুরান্ত থেকে এসে ফিরে যাচ্ছেন মানুষ। বাবার জন্য ইনসুলিন পাচ্ছেন না মহম্মদ ইসমাইল । 'আমরা ওষুধ না পেয়েই মরে যাব', ক্ষোভ ইসমাইলের । অনন্তনাগের খুশ্রি বেগমের অ্যাসমা অ্যাটাকের পর ইনহেলার পাওয়া যায়নি, হাসপাতালে যেতে যেতেই মারা গিয়েছেন তিনি । 'মাকে বাঁচাতে খুব চেষ্টা করেছিলাম কিন্ত পারলাম না', জানিয়েছেন তাঁর ছেলে । মায়ের মৃত্যুর জন্য আজ সরকারকে দায়ী করছে ছেলে ।

EFF AAY ফার্মাসি ডিস্ট্রিবিউটরের কর্ণধার মনসুর আহমেদ জানিয়েছেন মাত্র ৩০% স্টক পড়ে রয়েছে ও নয়াদিল্লি থেকে কোনও নতুন স্টক আসছে না । গত ৩০ বছরেও এই ধরনের ওষুধের অভাবে কাশ্মীরে হয়নি ।

Loading...

গ্রামীণ অঞ্চলে বেবিফুডের মত প্রাথমিক দ্রব্যেরও জোগান নেই । সরকারি হাসপাতালে বেড়েছে রোগী সংখ্যা কিন্তু সমস্যা একটাই-ওষুধ নেই । 'প্রতিদিন মৃত্যু হচ্ছে কিন্তু দায়িত্ব নিচ্ছেন না কেউই', জানিয়েছেন স্থানীয় হাসপাতালের এক চিকিৎসক ।

REPORT: Aakash Hassan

First published: 11:52:17 PM Aug 24, 2019
পুরো খবর পড়ুন
Loading...
अगली ख़बर