corona virus btn
corona virus btn
Loading

'বিনা ওষুধেই প্রাণ হারাব',৩৭০ ধারা প্রত্যাহার পরবর্তী কাশ্মীরে বন্ধ জীবনদায়ী ওষুধের জোগান,অমিল চিকিৎসা

'বিনা ওষুধেই প্রাণ হারাব',৩৭০ ধারা প্রত্যাহার পরবর্তী কাশ্মীরে বন্ধ জীবনদায়ী ওষুধের জোগান,অমিল চিকিৎসা

EFF AAY ফার্মাসি ডিস্ট্রিবিউটরের কর্ণধার মনসুর আহমেদ জানিয়েছেন মাত্র ৩০% স্টক পড়ে রয়েছে ও নয়াদিল্লি থেকে কোনও নতুন স্টক আসছে না

  • Share this:

#শ্রীনগর: ৩৭০ ধারা পরবর্তী কাশ্মীর। কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি ছন্দে ফিরছে উপত্যকা, পরিস্থিতি একদম স্বাভাবিক । কিন্তু বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হয়েছে বিরোধীপক্ষের নেতাদের ও তারপর থেকেই ফের একটাই প্রশ্ন- উপত্যকার প্রকৃত অবস্থা কী?

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মায়ের প্রেসক্রিপশন নিয়ে একাধিক ওষুধের দোকানে গিয়েছেন সাজিদ আলি কিন্তু কোনও লাভ হয়নি । আলির মা, ৬৫ বছর বয়সী সুরাইয়া বেগমের মাত্র ২ দিনের ওষুধ বাকি ছিল কিন্তু উপত্যকায় যানবাহনও চলছে না । স্থানীয় হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্সে চড়ে শ্রীনগরে পৌঁছেছিলেন সাজিদ আলি । কিন্তু ৩ ঘণ্টা ধরে খোঁজার পরে শ্রীনগরেও ওষুধ পাওয়া যায়নি । অবশেষে শ্রীনগর বিমানবন্দর থেকে নয়াদিল্লির টিকিট কেটে দিল্লি থেকে এক মাসের ওষুধ নিয়ে ফিরেছেন আলি।'আমি এইভাবে ওষুধ পেয়েছি কিন্তু হতদরিদ্র মানুষগুলো কী করবে',-কান্নায় ভেঙে পড়ে সুরাইয়া বেগমের প্রশ্ন।

৫ অগাস্ট স্তব্ধ কাশ্মীর উপত্যকা, শেষ হয়ে আসছে নিত্যপ্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ। ৫ অগাস্ট, জম্মু-কাশ্মীর থেকে প্রত্যাহার করা হয় ৩৭০ ধারা, ভারতের মানচিত্রে আসে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল-জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ। সেই সিদ্ধান্তের পর থেকেই স্তব্ধ কাশ্মীর । বন্ধ দোকানপাট, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের সরবরাহ ব্যাহত। ওষুধের সরবরাহ নেই বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলে পরিস্থিতি আরও শোচনীয় ।

উরি অঞ্চলের মালিক মেডিক্যাল হল এক নামজাদা ওষুধের দোকান কিন্তু সেখানেও ফুরিয়ে আসছে জীবনদাইয়ী ওষুধের সরবরাহ । '৫ অগাস্ট থেকে নতুন কোনও সাপ্লাই আসেনি , কেবলমাত্র কিছু অ্যান্টিবায়োটিক পড়ে রয়েছে,' জানিয়েছে জনৈক এক বিক্রেতা। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসের মত রোগ নিয়ে দুরদুরান্ত থেকে এসে ফিরে যাচ্ছেন মানুষ। বাবার জন্য ইনসুলিন পাচ্ছেন না মহম্মদ ইসমাইল । 'আমরা ওষুধ না পেয়েই মরে যাব', ক্ষোভ ইসমাইলের । অনন্তনাগের খুশ্রি বেগমের অ্যাসমা অ্যাটাকের পর ইনহেলার পাওয়া যায়নি, হাসপাতালে যেতে যেতেই মারা গিয়েছেন তিনি । 'মাকে বাঁচাতে খুব চেষ্টা করেছিলাম কিন্ত পারলাম না', জানিয়েছেন তাঁর ছেলে । মায়ের মৃত্যুর জন্য আজ সরকারকে দায়ী করছে ছেলে ।

EFF AAY ফার্মাসি ডিস্ট্রিবিউটরের কর্ণধার মনসুর আহমেদ জানিয়েছেন মাত্র ৩০% স্টক পড়ে রয়েছে ও নয়াদিল্লি থেকে কোনও নতুন স্টক আসছে না । গত ৩০ বছরেও এই ধরনের ওষুধের অভাবে কাশ্মীরে হয়নি ।

গ্রামীণ অঞ্চলে বেবিফুডের মত প্রাথমিক দ্রব্যেরও জোগান নেই । সরকারি হাসপাতালে বেড়েছে রোগী সংখ্যা কিন্তু সমস্যা একটাই-ওষুধ নেই । 'প্রতিদিন মৃত্যু হচ্ছে কিন্তু দায়িত্ব নিচ্ছেন না কেউই', জানিয়েছেন স্থানীয় হাসপাতালের এক চিকিৎসক ।

REPORT: Aakash Hassan
First published: August 24, 2019, 11:53 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर