Cyclone Yaas: ২২ বছর আগের রাতের ভয়াবহ স্মৃতি মনে করিয়ে দিল বালাসোর'কে 

চাঁদিপুরের (Cyclone Yaas Chandipur) রাস্তায় গেলেই সাধারণ মানুষ বলছেন, সমুদ্রের এমন ঢেউ কেউ আগে দেখেনি।

চাঁদিপুরের (Cyclone Yaas Chandipur) রাস্তায় গেলেই সাধারণ মানুষ বলছেন, সমুদ্রের এমন ঢেউ কেউ আগে দেখেনি।

  • Share this:

#ভুবনেশ্বর: গত সোমবার থেকেই প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়েছে বালেশ্বরে (Baleswar) । মধ্যরাত অবধি ভালোই বৃষ্টি হয়েছে এখানে।২২ বছর আগে ওড়িশার উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছিল সুপার সাইক্লোন(Orissa Super Cyclone 1999)। সে দিনের কথা ভেবেই অনেকে আশঙ্কিত।  সেই বিপর্যয়ের নানা ছবি, ভিডিয়ো দেখেছেন যুবকদের অনেকেই। ফলে পরোক্ষে হলেও, সাইক্লোনের একটা ভয়াবহ ছবি সেই সময় থেকেই অনেকের মনে গেঁথে গিয়েছিল। তবে বুধবার ঘূর্ণিঝড়ের (Cyclone Yaas Orissa) তেজ স্বচক্ষে দেখল বালেশ্বরের মানুষ।

গত কয়েক দিন ধরেই খবরে শোনা গিয়েছিল, ঝড় আসছে। কিন্তু ঠিক কোথায় তা আছড়ে পড়বে তা নিয়ে নানা সময়ে নানা তথ্য মিলছিল। মনে মনে একটা দোলাচল ছিল সকলের। এই শহরে মঙ্গলবার রাত ১০টা থেকেই বিদ্যুৎ নেই। সতর্কতার জন্য প্রশাসন বন্ধ করে দিয়েছে। মঙ্গলবার রাতে মনে মনে একটা আশঙ্কা নিয়েই ঘুমাতে গিয়েছিলেন সকলে। গত সোমবার থেকেই প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে বালেশ্বের। সঙ্গী ছিল ঝোড়ো হাওয়াও। কিন্তু ঝড়ের দাপটে বুধবার ঘুম ভেঙেছে ভোরবেলায়। এর পর একটু একটু করে বাতাসের বেগ বাড়তে থেকেছে। বেলা ১১টার পর মনে হচ্ছিল, আশপাশের গাছগুলো সব ভেঙে পড়বে। স্টেশনের পাশের দ্রৌপদী হোটেলের সত্যরঞ্জন নায়েক জানান, বৃহস্পতিবার সকালেও ভয়ের রেশ কাটেনি তার। তিনি বলছিলেন,  ঘরের জানলা বন্ধ। কিন্তু বাইরে তখন প্রবল গজরাচ্ছে ইয়াস। তার পর থেকে মাঝের কয়েক ঘণ্টা কী ভাবে যে কেটেছে জানি না! সেই ভয় কাটছে না আজও।

পেশায় রেল কর্মী নিরঞ্জন মাঝি বলছিলেন, আমার তো ঘরে বসেই ভয় করছিল। জানি না, যাঁরা বাইরে ছিলেন তাঁরা কী অবস্থায় ছিলেন। এখানে এক জনের মৃত্যু হয়েছে শুনলাম।গ্রামীণ এলাকায়, যাঁরা আর্থিক ভাবে দুর্বল, তাঁরা কষ্টে আছেন। অনেক মানুষকে অবশ্য সরানো হয়েছে। ফ্লাড সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে অনেক ঘরবাড়ি ভেঙে গিয়েছে। শহরের অসংখ্য পুরনো গাছও ভেঙে গিয়েছে। বাড়ির আশপাশে জল জমে গিয়েছে। বাইরে বেরনো যাচ্ছে না আজ সকালেও। শহরের ভিতরে ঘুরে বেড়ালে দেখা যাচ্ছে, বুড়িবালঙ্গা নদীর জলস্তর অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে।

চাঁদিপুরের রাস্তায় গেলেই সাধারণ মানুষ বলছেন, সমুদ্রের এমন ঢেউ কেউ আগে দেখেনি। বৃহস্পতিবার সকালেও নানা জায়গায় উদ্ধারকাজ শুরু করেছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ)। ভেঙে পড়া গাছ কেটে সরানো হচ্ছে এরপর বিদ্যুৎ আসবে। ফিলিন, ফণী, ইয়াস একের পর এক সাইক্লোন। মানুষ বলছেন স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। গোটা এলাকা ঘুরে দেখলে বোঝা যাবে অনেক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে ঝড়ের তীব্রতা কমেছে। তবে বৃষ্টি মাঝে মধ্যেই চলছে। ঘরবন্দি হয়েই সবাই কার্যত আছেন। বাস্তবে কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা বোঝা যাবে আজ সন্ধ্যার সময়। তবে সকলেই বলছেন, ঝড়ের সময় ভয় লাগছিল। সবার একটাই সান্ত্বনা, ১৯৯৯-এর মতো অবস্থা হল না। এর আগে ফণী হয়েছিল। তবে সেটা পুরী, ভুবনেশ্বরে প্রভাব ফেলেছিল। তবে এই শহরের বাসিন্দারা বলছেন, আজ পর্যন্ত যত ঝড় হয়েছে, এমনটা দেখিনি।

Published by:Pooja Basu
First published: