দেশ

corona virus btn
corona virus btn
Loading

কোথায় ১০০টাকা কোথাও তারও বেশি দাম! পেঁয়াজের দামই কি সরকার ভেঙে দেবে বিহারে?

কোথায় ১০০টাকা কোথাও তারও বেশি দাম! পেঁয়াজের দামই কি সরকার ভেঙে দেবে বিহারে?
পেঁয়াজের দাম আর কত বাড়বে!

ভারতের রাজনীতিতে এমন অনেক পর্ব এসেছে, যেখানে নেতাদের চোখে জল এনেছে এই পেঁয়াজ।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: ‘যে সরকার দাম নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, তাদের শাসনেরও অধিকার নেই’, এই স্লোগানই শেষ পর্যন্ত জনতা পার্টিকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল। ১৯৮০ সাল ,জনতা পার্টি তখন কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন। কংগ্রেস বিরোধী আসনে ছিল, পেঁয়াজের দাম বাড়তে বাড়তে হচ্ছিল আকাশছোঁয়া। ইন্দিরা গান্ধী নির্বাচনে গলায় পেঁয়াজের মালা নিয়ে সারা দেশে প্রচার করেছিলেন এবং এই শ্লোগানে জনগণের কাছে ভোট চেয়েছিলেন। সেবারেই প্রথম যখন নির্বাচনে পেঁয়াজের দাম ইস্যুতে পরিণত হয়েছিল। জনতা পার্টি নির্বাচন হেরে এবং আবারও কংগ্রেস পার্টি কেন্দ্রে সরকার গঠন করেছিল। এর পরে, ভারতের রাজনীতিতে এমন অনেক পর্ব এসেছে, যেখানে নেতাদের চোখে জল এনেছে এই পেঁয়াজ। ধরা যাক ১৯৯৯ সালের কথাই, আবারও পেঁয়াজের দাম আকাশছোঁয়া, বিজেপিকে পরপর তিনবার মুখ্যমন্ত্রী বদলাতে হয়েছে সেবার। কিন্তু তিনি পেঁয়াজের ক্রোধ থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারেননি। মদন লাল খুরানা, সাহেব সিং ভার্মা এবং সুষমা স্বরাজকে এক এক করে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী করা হয়েছিলেন কিন্তু পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। শেষমেশ  বিধানসভা নির্বাচনে দিল্লিতে হারতে হয়েছিল বিজেপিকে।

রাজস্থানের প্রাক্তন  মুখ্যমন্ত্রী ভৈরন সিং শেখওয়াত একবার নির্বাচন হেরে বলেছিলেন যে, অন্য কিছু নয় পেঁয়াজ তাঁর হারের পিছনে   রয়েছে। এত গৌরচন্দ্রিকার একচাই কারণ, এখন, দেশের অন্যতম বৃহত্তম রাজ্য বিহার ভোটের মুখে চলেছে এবং মধ্যবিত্তের সঙ্কট বাড়াচ্ছে পেঁয়াজের দাম । ফলে সঙ্গত কারণেই প্রশ্নটি উঠে আসছে তা হল, পেঁয়াজের দাম কি রাজ্যের নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করবে?

বেশিরভাগ অঞ্চলে পেঁয়াজের খুচরা মূল্য ৭০ টাকা থেকে থেকে ১০০ টাকার মধ্যে মধ্যে ঘুরছে। বিশষেজ্ঞদের অনুমান এই দাম ১৫০ টাকাও ছাড়াতে পারে প্রতি কেজিতে। এমনিতে ৩০-৪০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ কিনতে হয়, চোখে জল আসে না মধ্যবিত্তর। কিন্তু গত সপ্তাহ থেকেই হুহু করে যে ভাবে পেয়াজের দাম বাড়তে লাগল, বিশেষত পাইকারি বাজারে দাম বৃদ্ধির আঁচ যে ভাবে পড়ল তা ভাবাচ্ছে সাধারণ মানুষকে। গত সোমবার লাসলগঞ্জের বৃহত্তম পাইকারি বাজার নাসিকের পেঁয়াজের হার প্রতি কুইন্টাল ৭১০০ টাকায় পৌঁছেছে। উল্লেখ্য এই মান্ডিপ দাম অনুযায়ীই  সারা দেশে পেঁয়াজের খুচরা মূল্য বাড়ে-কমে।

পেঁয়াজের দামকেন বাড়ল - উৎপাদন কমা বা চাহিদা বাড়া, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পায় এই দুটো কারণে। পেঁয়াজের বাড়ার পিছনে আপাতত দুটি কারণই সক্রিয়। মহারাষ্ট্রের নাসিক, আহমেদনগর, পুনে, ধুলি এবং শোলাপুর দেশের পেঁয়াজের সবচেয়ে বেশি পেয়াজ উত্পাদনকারী। কর্ণাটক, গুজরাট, বিহার, মধ্য প্রদেশ এবং অন্ধ্র প্রদেশের পরে আসে যেখানে বিপুল পরিমাণে পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক ও অন্ধ্র প্রদেশের হাজার হাজার একর জমিতে পেঁয়াজ চাষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ভারী বৃষ্টির কারণে। অন্ধ্র , তেলেঙ্গনা, কর্ণাটকেও পেঁয়াজে অভিশাপ ডেকেছে অতিবৃষ্টি জনিত বন্যা। পাশাপাশি দেশের হোটেল রেস্তোরা সাতমাস বন্ধ থাকায় চাহিদায় রাশ টানা যাচ্ছিল, কিন্তু এখন সে উপায়ও নেই। ফলে চাহিদাও আছে, জোগানও কম-পরিস্থিতি এই। দেশের বিভিন্ন রাজ্যে পেঁয়াজের দাম কী অবস্থায় রয়েছে দেখা যাক-

কেরল - এক সপ্তাহ আগেও এখানে পেঁয়াজ প্রতি কেজি ২০-২৫  টাকায় বিক্রি হচ্ছিল এখন তা ৭৫-৯০ টাকার আশেপাশে ঘুরছে। ছোট পেয়াজের দাম ১২০ ছাড়িয়েছে। অন্ধ্র প্রদেশ এবং তেলঙ্গানা - এখানে পাইকিরি বাজারেই দাম ৭০-৮৫ টাকা। ফলে খুচরো বাজারে দাম বেড়ে ১০০ হয়েছে। তামিলনাড়ু - খুচরা বাজারে প্রতি কেজি  ১০০ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। তামিলনাড়ু আম্মা ফার্ম ফ্রেশের মাধ্যমে প্রতি কেজি ৪৫ টাকায় বিক্রি করছে। রাজ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে পেঁয়াজ সরবরাহ করার জন্য,মিশর ও ইরান থেকে পেঁয়াজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।  এটি টানা দ্বিতীয় বছর যখন রাষ্ট্রটি মিশর থেকে পেঁয়াজ কিনছে। মহারাষ্ট্র - মহারাষ্ট্রের নাসিক ছাড়াও, ধুলে, পুনে, সাতারা, সোলাপুর তার পেঁয়াজের বৃহৎ চাষের জন্য খুব বিখ্যাত। তবে রাজ্যের এই সমস্ত অঞ্চলে এই বছর স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে যা উৎপাদনের ক্ষতি  করেছে।

নাসিকের লসালগঞ্জ, দেশের পেঁয়াজের বৃহত্তম পাইকারি বাজার। এই সপ্তাহের শুরুতে এখানে পেঁয়াজের দাম ছিল প্রতি কুইন্টাল ৭১০০ টাকা। পেঁয়াজের এই দাম গত এক বছরে সর্বোচ্চ। এ থেকে সহজেই অনুমান করা যায় যে খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম সহজেই প্রতি কেজি ১০০ টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে, এখন দাম চলছে ৮০ টাকার মতো।

কর্ণাটক - মহারাষ্ট্রের পরে, কর্ণাটক দেশের পেঁয়াজের সর্বাধিক উত্পাদক। ভারী বৃষ্টির কারণে রাজ্যের উত্তরাঞ্চলে ফসল সম্পূর্ণ ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। শুধু বগালকোট এলাকাতেই ৯০,০০০ একর জমিতে ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষি দফতরের কার্যকর্তাদের মতে, রাজ্যে ২ লাখ একর জমিতে পেঁয়াজের ফসল বৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। খুচরা বাজারে, পেঁয়াজ প্রতি কেজি ₹ ৮০থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিহার এবং ঝাড়খণ্ড - বিহার এবং ঝাড়খন্ড মধ্য প্রদেশ থেকে পেঁয়াজের ভাগ পায়। মধ্য প্রদেশের মান্ডিতে পিঁয়াজের পাইকারি হার প্রতি কুইন্টাল ৫৫০০-৬০০০ টাকা। এ কারণে, এই উভয় রাজ্যেই পেঁয়াজের খুচরা মূল্য বর্তমানে প্রতি কেজি ৬০-৭০ টাকার মধ্যে বেড়াচ্ছে। আসন্ন নির্বাচনে এনডিএ বিরোধীরা তাই পেঁয়াজকে আঁকড়ে ধরতে পারেন। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে - ওড়িশায় সেপ্টেম্বরে পেঁয়াজের হার ছিল প্রতি কেজি ৩০-৩৫ টাকা যা এখন প্রতি কিলোতে  ৭৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ওড়িশা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সুধাকর পান্ডা বলেছেন, বর্তমানে মন্ডিতে পেঁয়াজের পাইকারি হার প্রতি কুইন্টাল ৬৫০০টাকা। আসামে পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৬০-৭০ টাকা হারে বিক্রি হচ্ছে।

Published by: Arka Deb
First published: October 22, 2020, 5:11 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर