• Home
  • »
  • News
  • »
  • national
  • »
  • NO GREATER JOY FOR ME THAN GETTING LOST IN PAGES OF HISTORY MODI

ইতিহাসের পাতায় মোদির নাম হারিয়ে গেলেও কোনও দুঃখ থাকবে না: মোদি

‘চোখ থেকে যদি রাজনৈতিক চশমাটা নামিয়ে রাখেন, তবেই আসল মোদিকে দেখতে পাবেন ৷ হাওয়ায় ভেসে বেড়ানো গুজবগুলো শুনে আমাকে বিচার করবেন না, আসল মোদিকে যাচাই করুন ৷’ Network 18-এর গ্রুপ এডিটর রাহুল জোশীকে দেওয়া এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে এভাবেই সকলের সামনে নিজেকে মেলে ধরলেন মোদি ৷

‘চোখ থেকে যদি রাজনৈতিক চশমাটা নামিয়ে রাখেন, তবেই আসল মোদিকে দেখতে পাবেন ৷ হাওয়ায় ভেসে বেড়ানো গুজবগুলো শুনে আমাকে বিচার করবেন না, আসল মোদিকে যাচাই করুন ৷’ Network 18-এর গ্রুপ এডিটর রাহুল জোশীকে দেওয়া এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে এভাবেই সকলের সামনে নিজেকে মেলে ধরলেন মোদি ৷

  • Pradesh18
  • Last Updated :
  • Share this:

    #নয়াদিল্লি: ‘চোখ থেকে যদি রাজনৈতিক চশমাটা নামিয়ে রাখেন, তবেই আসল মোদিকে দেখতে পাবেন ৷ হাওয়ায় ভেসে বেড়ানো গুজবগুলো শুনে আমাকে বিচার করবেন না, আসল মোদিকে যাচাই করুন ৷’ Network 18-এর গ্রুপ এডিটর রাহুল জোশীকে দেওয়া এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে এভাবেই সকলের সামনে নিজেকে মেলে ধরলেন মোদি ৷ তাঁর দীর্ঘ ৭৫ মিনিটের সাক্ষাৎকারে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীত্বের গুরুদায়িত্ব ছাড়াও মোদির ব্যক্তিত্বের বিরল দিকগুলির বেশ কিছু ঝলকও দেখা গেল ৷

    লোকসভা ভোটের সময় বিজেপির প্রচারে মোদিকে ‘লৌহপুরুষ’ হিসেবে উপস্থাপিত করা হয়েছিল ৷ অন্যদিকে, নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর মোদির একটি আবেগপ্রবণ রূপ দেখে দেশবাসী ৷ যেখানে প্রথমবার সংসদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পা রেখে কেঁদে ফেলেন বিজেপি বর্ণিত লৌহপুরুষ ৷ এই বিষয়টি তুলেই মোদিজীর কাছে জানতে চাওয়া হয়, তাহলে আসল মোদি কোনটা?

    এই প্রশ্নের উত্তরে নরেন্দ্র মোদির জবাব, ‘নরেন্দ্র মোদি একজন মানুষ। আমার ভিতরে যা আছে তা লুকিয়ে রাখব কেন? আমি যা তাই। মানুষ যা দেখতে পায় তাই দেখুক। আমার দায়িত্ব-কর্তব্য অনুযায়ী, সাধারণ মানুষকে আমার সর্বোচ্চটাই দিতে হবে। যদি দেশের প্রয়োজনে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হয় তাহলে তা করতে হবে। এগুলো আমার বৈশিষ্ট্য নয়, কর্তব্য। আসল বা নকল মোদি বলে কিছু নেই। যদি রাজনীতির চশমা খুলে দেখেন তাহলে আসল মোদিকে দেখতে পাবেন। কিন্তু, আপনার রাজনৈতিক ধারণা দিয়ে বিচার করলে ভুল করবেন।’

    এইখানেই শেষ না করে সীমান্তে লড়াই করা সৈনিকের সঙ্গে নিজের তুলনা করে মোদি বলেন, ‘দেশকে শত্রুদের থেকে রক্ষার জন্য বীরত্বের সঙ্গে একজন নির্ভীক সৈনিক সীমান্তে লড়াই করে ৷ কিন্তু শেষে বাড়ি ফিরে যখন তাঁর মেয়েকে দেখে তখন কিন্তু তাঁর হিমশীতল স্নায়ু, অনুভূতিহীন কঠোর মন আবেগে ভরে যায় ৷ তেমনি নরেন্দ্র মোদিও একজন মানুষ ৷’

    সাক্ষাৎকার চলাকালীন মোদি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগেরও জবাব দিয়েছেন ৷ ‘অনেকে বলেন মোদি নাকি লোকের কথা শুনতে চান না, শুধু নিজের বক্তব্যটুকুই রাখতে ভালবাসেন’, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে মোদির প্রতিক্রিয়া, ‘আমি অনেক বেশি দেখি ও শুনি। আমি নিজেকে এভাবেই তৈরি করেছি। এর থেকে অনেক উপকারও পেয়েছি। আমি কাজ করতে পছন্দ করি। কিন্তু, বর্তমানে থাকতেই ভালোবাসি। এটা ভেবে সন্তুষ্ট হই যে, আমার সঙ্গে যেই দেখা করতে আসেন তাঁকে সেরা সময়টা দিতে পেরেছি। প্রত্যেকের কাজকে শ্রদ্ধা করা উচিত। আমি সবসময় তাই করেছি। সবসময়ই শেখা ও জানার দরজা খোলা রাখা উচিত। গত পাঁচ বছর আগের ভাবনা ত্যাগ করার মতো সাহসও থাকা উচিত। এভাবেই আমি নিজেকে তৈরি করেছি।’

    নিজেকে ওয়ার্কোহলিক বলে বর্ণনা করেছেন মোদি ৷ কাজের মাধ্যমেই বিশ্রাম নেন তিনি ৷ কাজই তাঁর একমাত্র পাসটাইম ৷ Network 18-এর গ্রুপ এডিটর রাহুল জোশীকে খোলামেলা সাক্ষাৎকারে জানান, ‘কাজেই আমার বিশ্রাম। কাজ করতে আমি কখনও ক্লান্ত হই না। কাজ করে আমরা ক্লান্ত হই না, তাতে সন্তুষ্ট হই। এই সন্তুষ্টিই উৎসাহ জোগায়। ক্লান্তি বিষয়টি মানসিক। প্রত্যেকের মধ্যে একই কাজ করার ক্ষমতা রয়েছে। আপনি চ্যালেঞ্জ নিতে থাকুন, আপনার অন্তরাত্মাও আপনার সঙ্গ দেবে।’

    ব্যক্তি নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ নিয়ে প্রশ্ন করলে মন ভরিয়ে দেওয়া জবাব মেলে ৷

    ‘১২ বছর বয়স থেকে আমি বক্তৃতা-বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নিই। আমি বিবেকানন্দর উদ্ধৃতি পছন্দ করি। তাঁর বক্তৃতা দেওয়ার স্টাইল পছন্দ করি। আমার ওপর বিবেকানন্দর অনেক প্রভাব রয়েছে।’

    স্বামী বিবেকানন্দের ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ নরেন্দ্র মোদি প্রতিটি কথায় মেলে স্বামীজির আদর্শের ছাপ ৷ মোদির বলেন, ‘ ইতিহাস তাকে কিভাবে বিচার করবে সে নিয়ে আমি ভাবিত নই ৷ ১২৫ কোটি মানুষের পরম্পরাতেই দেশের ভাবমূর্তি নিহিত রয়েছে। এই ১২৫ কোটি মানুষের মধ্যে মোদির পরিচয় হারিয়ে যেতে পারে। ইতিহাসের পাতায় মোদির নাম হারিয়ে গেলেও কোনও দুঃখ থাকবে না।’

    মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে বিদ্রুপ ফুটে ওঠে মোদির গলায় ৷ তিনি বলেন, ‘ভোটের সময় রিপোর্টাররা বেডরুম থেকেই শুটিং শুরু করেন। ব্রেকফাস্ট টেবল থেকেই প্রশ্ন শুরু হয়। কিন্তু, কেউ আমাদের দেশের ক্রীড়াবিদদের ত্যাগের খবর রাখেন না। রাজনৈতিক নেতাদের পিছনে সময় নষ্ট না করে ক্রীড়াবিদদের জন্য সময় দেওয়া উচিত। কীভাবে তাঁরা খিদে, ঘুমনিয়ন্ত্রণ করেন। হারের পরও কীভাবে দায়বদ্ধ থাকেন। আমাদের দেশের যুবসম্প্রদায়ের সেইসব ত্যাগের কথা জানা উচিত। আপনার চ্যানেলে রিও ফেরত ৩০ জন ক্রীড়াবিদকে নিয়ে অনুষ্ঠান করুন। এভাবেই আমাদের ক্রীড়াবিদদের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে পারি। আমার মনে হয়, রাজনীতির বাইরে অন্য ব্যক্তিদেরও সাক্ষাৎকার নেওয়া উচিত।’

    ইন্টারভিউ শেষে নেটওয়ার্ক ১৮-এর সদস্যদের সঙ্গে ছবি তোলার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাদের পরামর্শ দেন, ‘রাজনীতির বাইরে ভাব ৷ এক জন রাজনীতিবিদের জীবনের থেকে অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের জীবন অনেক বেশি আকর্ষনীয় ৷ তাদের দেখাও ৷’
    First published: