দেশ

corona virus btn
corona virus btn
Loading

১০ টাকা দিয়ে মনের জমা কথা বলে হালকা হন, আপনার গল্প শুনবে এই যুবক!

১০ টাকা দিয়ে মনের জমা কথা বলে হালকা হন, আপনার গল্প শুনবে এই যুবক!

সময় যত এগোচ্ছে, মানুষের আত্মকেন্দ্রিকতাও বেড়ে চলেছে। যৌথ পরিবারের (Joint Family) সংজ্ঞা বিলুপ্ত হয়ে ছোট হচ্ছে পরিবারগুলি।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: সময় যত এগোচ্ছে, মানুষের আত্মকেন্দ্রিকতাও বেড়ে চলেছে। যৌথ পরিবারের (Joint Family) সংজ্ঞা বিলুপ্ত হয়ে ছোট হচ্ছে পরিবারগুলি। মানুষজন কাজে, সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) এত ব্যস্ত, যে একে অন্যের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ নেই। আজকালকার শহরে তাই কথা শোনার মানুষ বড় কম। অনেকে তো দিনের পর দিন নিজেদের সমস্যার কথা জানাতে না পেরে অবসাদে (Depression) ভুগতে শুরু করেছেন। সাধারণের এই সমস্যার মুশকিল আসান করতেই পুণের পথে নেমেছেন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র রাজ ডাগওয়ার। পথচলতি মানুষের কাছে গিয়ে তাঁর আবেদন, দশ টাকা নিন আর আপনার গল্প বলুন। বলে ফেলুন জমিয়ে ফেলা কথাগুলো।

প্রচেষ্টার শুরুটা হয়েছিল ৬ ডিসেম্বর। বছর জুড়ে করোনার (Covid 19) এই সঙ্কটজনক পরিস্থিতিতে একটি প্ল্যাকার্ড নিয়ে পুণের ফুটপাথে ঘুরে বেড়িয়েছেন রাজ ডাগওয়ার। প্ল্যাকার্ডে লেখা, "Tell me your story and i will give you Rs 10"। রাজ জানিয়েছেন, দিনে পাঁচ ঘণ্টা ধরে প্রায় ৫০টির বেশি গল্প শোনেন তিনি। অনেক সময়ে তো একজনের কথা শুনতে শুনতেই এক ঘণ্টা সময় কাটিয়ে দেন। তবে সন্ধ্যাটা অর্থাৎ ৬টা-১১টা পর্যন্ত কাটে পুণের FC রোডে। রাজের কথায় তিনি একজন ভালো শ্রোতা। এতদিন যাঁরা তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন, তাঁদের নামও মনে রেখে দিয়েছেন তিনি। অনেকে খুব খারাপ পরিস্থিতিতে ছিলেন। কিন্তু তাঁর সঙ্গে সময় কাটিয়ে, নিজেদের কথা ভাগ করে নিয়ে অনেকটা স্বস্তি পেয়েছেন।

রাজের কথায়,  প্রত্যেকেরই ছোট-বড় সমস্যা থাকে, আর এগুলো অন্যের সামনে তুলে ধরা এতটা সোজা নয়। এই সংক্রমণ, লকডাউন (Lockdown) মানুষকে আরও একলা করে দিয়েছে। সামাজিক ভাবে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। এর জেরে অনেকেই অবসাদে ভুগতে শুরু করেছেন। আজকাল তো দেওয়ালের এপাশ-ওপাশ থেকেও নিজেদের মধ্যে কথা বলতে পারে না মানুষজন। আর এই পরিস্থিতিতে এই রকম অভিনব প্রচেষ্টা একটি পরিবর্তন আনতে পারে বলে বিশ্বাস রাজের।

২০১৯ সালের একটা সময়ে দারুণ ভাবে অবসাদে ভুগছিলেন রাজ। রাজের বাবা দুবাইয়ের (Dubai) ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। তাঁকে নিয়ে পরিবারের আশা-আকাঙ্ক্ষাও অনেক। আর এই বিষয়টি ক্রমে চাপ বাড়াচ্ছিল তাঁর কেরিয়ারে। নিজের বাবা-মাকেও সব কিছু মন খুলে বলতে পারেননি। নিজের ছোট ভাইয়ের সঙ্গেও নানা ঝামেলা ছিল। কিন্তু সে কথাও কাউকে বলতে পারেননি। সব মিলিয়ে রীতিমতো অবসাদে চলে গিয়েছিলেন রাজ। পরের দিকে চিকিৎসা করিয়ে নানা সেশন জয়েন করে সুস্থ হয়ে ওঠেন। এই লড়াইটা বোধহয় আজকের রাজকে আবিষ্কার করেছে।

তবে এই কাজ খুব একটা সোজা নয়। রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে থেকে এই ধরনের কাজ করার ক্ষেত্রে অনেক সমস্যাও হয় প্রতি দিন, জানাচ্ছেন রাজ। তাঁর কথায়, কত মানুষ ঘুরে-ফিরে তাকায়, কত মানুষ সমালোচনা করে, অনেকে আবার কৌতূহলও দেখিয়েছেন। রাজ বলেন, "আমি শুধু মাস্কের (Face Mask) আড়ালে অল্প হেসে, আস্তে করে জিজ্ঞেস করি ; আপনার গল্প বলুন।" যদি এই মানুষগুলো মনের জমা কথা ঝেড়ে ফেলে একটু হালকা হয়ে যান, তা হলেই এই প্রচেষ্টার সার্থকতা!

Published by: Akash Misra
First published: December 16, 2020, 1:56 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर