জামিয়া মিলিয়ার ঘটনায় দেশ জুড়ে উত্তাল ১৯ টি বিশ্ববিদ্যালয়

জামিয়া মিলিয়ার ঘটনায় দেশ জুড়ে উত্তাল ১৯ টি বিশ্ববিদ্যালয়

জেএনইউ থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, লখনউয়ের নাদওয়া কলেজ থেকে মৌলানা আজাদ জাতীয় উর্দু বিশ্ববিদ্যালয়, CAA-এর প্রতিবাদ বিক্ষোভে সরব গোটা দেশের ছাত্র সমাজ ৷

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভ অব্যাহত ৷ রাজধানীর জামিয়া মিলিয়া ক্যাম্পাসের আগুন এখন দেশের বাকি ক্যাম্পাসেও ৷ জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের পাশে এসে দাঁড়াল দেশের বাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা ৷ জেএনইউ থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, লখনউয়ের নাদওয়া কলেজ থেকে মৌলানা আজাদ জাতীয় উর্দু বিশ্ববিদ্যালয়, CAA-এর প্রতিবাদ বিক্ষোভে সরব গোটা দেশের ছাত্র সমাজ ৷ কলকাতা সহ বারাণসী-বেঙ্গালুরু-গুয়াহাটিতেও দেখা যায় বিক্ষোভ ৷ সোমবার ইন্ডিয়া গেটের সামনে ২ ঘণ্টার প্রতীকী ধর্ণায় সামিল হলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধিও ৷

জামিয়া মিলিয়া ও আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের প্রতিবাদে গলা মিলিয়েছে দেশের আরও ১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা ৷ ক্যাম্পাসে থেকে ক্যাম্পাসে ছড়িয়েছে প্রতিবাদের আগুন ৷ এক নজরে দেখে নিন জামিয়ার সমর্থনে একজোট হয়ে আন্দোলনে শামিল কারা-

CAA প্রতিবাদে দেশ জুড়ে বিক্ষোভ ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে

চন্ডীগড়

চন্ডীগড় বিশ্ববিদ্যালয়

দিল্লি

মৌলানা আজাদ মেডিক্যাল কলেজ

জামিয়া মিলিয়া

আলিগড়

আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়

লখনউ

দারুল উলম নদওয়াতুল উলেমা

পটনা

পটনা বিশ্ববিদ্যালয়

বারাণসী

বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়

গুয়াহাটি

আসু সত্যাগ্রহ

মুম্বই

আইআইটি মুম্বই

মুম্বই বিশ্ববিদ্যালয়

টাটা ইনস্টিটিউট অফ সোশ্যাল সায়েন্সেস

বেঙ্গালুরু

জৈন বিশ্ববিদ্যালয়

পন্ডিচেরি

পন্ডিচেরি বিশ্ববিদ্যালয়

চেন্নাই

আইআইটি মাদ্রাজ

হায়দরাবাদ

মৌলানা আজাদ ন্যাশনাল উর্দু বিশ্ববিদ্যালয়

কলকাতা

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়

80588462_438851820349919_4597880224011517952_n

রাতের অন্ধকারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়ুয়াদের মারধরের ঘটনায় প্রতিবাদে গর্জে উঠেছে গোটা দেশ ৷ নিন্দায় সরব ছাত্ররা ৷ রবিবার রাতেই জামিয়া মিলিয়ার সমর্থনে পথে নামে যাদবপুর,  আইআইটি বোম্বে, জেএনইউ, পন্ডিচেরি বিশ্ববিদ্যালয় সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ছাত্রছাত্রীরা ৷ এই ঘটনায় সোমবার গোটা দেশে ছাত্র ধর্মঘট ডেকেছে চারটি ছাত্র সংগঠন ৷ সোমবার সকাল থেকেও প্রতিবাদে সরব ছাত্ররা ৷ নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে এদিন সকাল থেকে উত্তপ্ত নাদওয়া কলেজ। ২০০ বেশি পড়ুয়ারা সামিল হন এই প্রতিবাদ বিক্ষোভে৷ পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ছুড়তে শুরু করে পড়ুয়ারা। জামিয়ার প্রতিবাদের কথা শুনেই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন নাদওয়া কলেজের পড়ুয়ারা৷ সকলে মিলে জমায়াত করেন কলেজের গেটে এবং স্লোগান দিতে শুরু করেন৷ কলেজের গেট বন্ধ রাখা হয়েছে।

জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, রাতে দিল্লি পুলিশ ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়ুয়াদের উপর নির্বিচারে লাঠিচার্জ করে ৷ আহত হন বহু পড়ুয়ারা ৷ আটক করা হয় ১০০-ওরও বেশি পড়ুয়াদের ৷ জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবাদের রেশ আছড়ে পড়ল আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটিতে৷ নাগরিকত্ব আইন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শুরু হয় প্রতিবাদ৷ শয়ে-শয়ে পড়ুয়ারা সামিল হন এই প্রতিবাদ বিক্ষোভে৷ তবে পুলিশের লাঠি চার্জ এবং টিয়ার গ্যাস ছোঁড়ায় পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে৷ জামিয়ার প্রতিবাদের কথা শুনেই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা৷ সকলে মিলে জমায়াত করেন বাবে স্যার সায়েদ গেটে এবং স্লোগান দিতে শুরু করেন৷ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে শুরু হয় তাদের প্রতিবাদ৷ এরপরই পুলিশের ব্যাডিকেড ভাঙতে শুরু করেন পড়ুয়ারা৷ ক্যাম্পাসের প্রতিটি গেট আটকায় পুলিশ৷ পরিস্থিতি সামলাতে লাঠি চালায় পুলিশ৷ সঙ্গে কাঁদানে গ্যাসও ছোঁড়া হয়৷ এতেই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে৷

ক্যাম্পাসে ঢুকে ছাত্র বিক্ষোভ হটাতে গিয়ে তোপের মুখে দিল্লি পুলিশ। জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার ঘটনায় দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে পাল্টা এফআইআরের হুমকি। পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়িয়ে ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নাজমা আখতার। অভিযোগ উড়িয়ে পডুয়াদের বিরুদ্ধে দুটি ধারায় মামলা করেছে পুলিশ। এই পরিস্থিতিতে কাল শুনানির আগে হিংসা বন্ধের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের।

প্রশ্ন উঠছে কার নির্দেশে ক্যাম্পাসে ঢুকেছিল পুলিশ ? সোমবার জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নাজমা আখতার স্পষ্ট জানিয়েদেন, অবস্থান ভাঙতে পুলিশকে ক্যাম্পাসে ঢোকার কোনও অনুমতিই দেওয়া হয়নি। তা-হলে কার নির্দেশে পুলিশের এই ভূমিকা ? পুলিশের বিরুদ্ধে পালটা এফআইআরের হুমকি দিয়ে পডুয়াদের পাশেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এদিন পুলিশের ভূমিকার প্রতিবাদে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনে বিক্ষোভ দেখান পড়ুয়ারা। তোপের মুখে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় অভিযোগ ওড়াল পুলিশ। ক্যাম্পাসে গুলি চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে দিল্লি পুলিশ । উল্টে হিংসা ও সরকারি সম্পতি নষ্টের অভিযোগে পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

First published: 06:43:38 PM Dec 16, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर