নাতনির পড়াশোনার খরচ চালাতে বাড়ি বিক্রি করে অটোয় রাত কাটাচ্ছেন মুম্বইয়ের বৃদ্ধ দাদু!

নাতনির পড়াশোনার খরচ চালাতে বাড়ি বিক্রি করে অটোয় রাত কাটাচ্ছেন মুম্বইয়ের বৃদ্ধ দাদু!
নাতনিকে অন্য শহরে রেখে পড়াশোনা করাতে তাই শেষ সম্বল বাড়িটাও বেচে দিলেন দেসরাজ । স্ত্রী আর অন্য নাতিনাতনিদের রেখে এসেছেন গ্রামের বাড়িতে । নিজে থাকছেন অটোর মধ্যেই ।

নাতনিকে অন্য শহরে রেখে পড়াশোনা করাতে তাই শেষ সম্বল বাড়িটাও বেচে দিলেন দেসরাজ । স্ত্রী আর অন্য নাতিনাতনিদের রেখে এসেছেন গ্রামের বাড়িতে । নিজে থাকছেন অটোর মধ্যেই ।

  • Share this:

    #মুম্বই: সন্তানকে বড় করে তুলতে, মানুষের মতো মানুষ করে তুলতে বাবা-মা কত কষ্টই না করেন । কত লড়াই দাঁতে দাঁত চিপে সহ্য করেন । চোখে শুধু একটাই স্বপ্নের ঘোর বসে থাকে... বড় হবে তাঁদের সন্তান, শিক্ষিত হবে, নিজের পায়ে দাঁড়াবে । কিন্তু যখন কোনও সন্তানের মাথার উপর থেকে সেই বাবা-মায়ের আশ্রয়টুকুও চলে যায়, তখন পৃথিবীতে তাদের মতো অসহায় আর কে-ই বা আছে ।

    তবু এখনও এই পৃথিবীতে কিছু কিছু মানুষ রয়েছেন, যাঁরা তাঁদের অনুজদের জন্য নিজের শেষ সহায় সম্বলটুকুও হাসতে হাসতে ছেড়ে দেন । যেমন এই মুম্বই বৃদ্ধ দাদু । দাদু, ঠাকুমার কাছে তাঁদের নাতি-নাতনিরা সবসময়ই ভালবাসার ধন, নয়নের মণি । আর যেখানে সেই নাতি-নাতনিদের শেষ ভরসা শুধুমাত্র তিনিই, তখন সেই দাদু একাধারে বাবা, মা, বন্ধু, ভরসা...সবটাই ।

    মুম্বইয়ের এই বৃদ্ধ দাদুর নাম দেসরাজ । নাতনির পড়াশেোনার খরচ চালাতে নিজের বাড়িটাও বিক্রি করে দিয়েছেন তিনি । এখন রাত কাটাচ্ছেন তাঁর অটোতে । সারা সকাল অটো চালিয়ে রোজগার, রাতে গুটিসুটি মেরে সেখানেই ঘুমিয়ে পড়া । দেসরাজের জীবন এখন এমনই । সম্প্রতি ‘হিউম্যানস অব বম্বে’ নামের একটি ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে বৃদ্ধ দেসরাজের গল্পটি পোস্ট করা হয় ।


    একসময় ছেলে, মেয়ে, নাতি, নাতনি নিয়ে ভরা সংসার ছিল তাঁর । কিন্তু দুর্যোগের সূচনা ৬ বছর আগে । হঠাৎই একদিন তাঁর বড় ছেলে নিখোঁজ হয়ে যান । অনেক খোঁজাখুঁজির পরেও তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায়নি । শেষে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয় । কী ভাবে মারা গিয়েছিলেন তিনি তা এখনও জানা যায়নি । সে সময় তাঁর মাত্র ৪০ বছর বয়স ছিল । বড় ছেলের সন্তানদের দেখাশোনার ভার এসে পড়ে দেসরাজের কাঁধে । এর ২ বছরের মাথায় ট্রেনে স্যুইসাইড করে ছোট ছেলেও । ৫ জন নাতিনাতনি নিয়ে দেসরাজের তখন অথৈ জলে ।

    এরপর থেকেই শুরু হল অমানুষিক পরিশ্রম । বড় নাতনি জিজ্ঞাসা করল, ‘‘দাদাজি, এ বার কি আমরা পড়াশোনা ছেড়ে দেব?’’ দাঁতে দাঁত চেপে দাদু বলেছিলেন, ‘‘কখনও না । যতদূর ইচ্ছা পড়াশোনা চালিয়ে যাও । আমি আছি ।’’ ৭ জনের সংসার টানতে এরপর থেকে দেসরাজ সকাল ৬টায় বেরতেন অটো নিয়ে । মাঝরাত পর্যন্ত চালাতেন । এই করে ১০ হাজার টাকা আয় করতেন তিনি । এর মধ্যে ৬ হাজার যেত নাতি-নাতনিদের পড়াশোনার খাতে । ৪ হাজার যেত তাঁদের ৭ জনের সংসার চালাতে ।

    কিন্তু এই সব কষ্ট নিমেষে উবে গেল, যে দিন নাতনি এসে তাঁকে জানাল উচ্চমাধ্যমিকে সে ৮০ শতাংশ নম্বর পেয়ে পাশ করেছে । সে দিন বিনামূল্যে অটো চালিয়েছিলেন দেশরাজ । নাতনির ইচ্ছা দিল্লি থেকে বি.এড করবে । নাতনিকে অন্য শহরে রেখে পড়াশোনা করাতে তাই শেষ সম্বল বাড়িটাও বেচে দিলেন দেসরাজ । স্ত্রী আর অন্য নাতিনাতনিদের রেখে এসেছেন গ্রামের বাড়িতে । নিজে থাকছেন অটোর মধ্যেই । চোখে স্বপ্ন, আরও বড় হয়ে, বড় চাকরি করে তাঁর মুখ উজ্জ্বল করবে তাঁর নাতিনাতনিরাই ।

    Published by:Simli Raha
    First published:

    লেটেস্ট খবর