corona virus btn
corona virus btn
Loading

মাদার্স ডে: ন্যায়বিচার পেতে সাত বছর তিন মাস, লড়াই কাকে বলে শিখিয়েছন নির্ভয়ার মা

মাদার্স ডে: ন্যায়বিচার পেতে সাত বছর তিন মাস, লড়াই কাকে বলে শিখিয়েছন নির্ভয়ার মা
এক সাধারণ মায়ের জেদই জিতে গিয়েছে সাত বছর পরে।

হ্যাঁ, ন্যায়বিচার পেয়েছেন নির্ভয়া। আর তা ছিনিয়ে এনেছেন এক সাধারণ মা। এমন মায়ের দার্হ্যের কাছে পৃথিবীর সমস্ত শক্তি, সমস্ত আস্ফালন ফিকে হয়ে যায়।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: কখনও বলেই ফেলেছেন, "আমি আর পারছি না।" পরক্ষণেই ফের রোষের আগুন জ্বলে উঠেছে বুকে। তখন আবার বলেছেন, "সরকারকে ফাঁসি দিতেই হবে। না হলে আমার মেয়ে কখনও শান্তি পাবে না।"

তিনি নির্ভয়ার মা, আশাদেবী। ২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর দিল্লির এক চলন্ত বাসে তাঁর মেয়ে গণধর্ষিতা হন। সেই থেকে লড়াই শুরু। সাত বছর তিন মাস পরে তাঁর জেদের কাছেই হার মানতে বাধ্য হয়েছে যাবতীয় প্রতিযুক্তি। ধর্ষকদেরও বাঁচার অধিকার রয়েছে,এমন কথা উঠতেই আশাদেবী চোখে চোখ রেখে প্রশ্ন করেছেন, আমার মেয়ের কি বাঁচার কোনও অধিকার ছিল না?

নির্ভয়া ধর্ষণ কাণ্ডে জড়িতদের ধরতে পুলিশ সময় নিয়েছিল মাত্র ৬ দিন। মৃত্যুর সঙ্গে লড়তে লড়তেই তদন্তের দিশা দেখিয়ে যান নির্ভয়া। ২২ ডিসেম্বর দিল্লির সফদরজঙ্গ হাসপাতালে নির্ভয়ার বয়ান রেকর্ড করে দিল্লি পুলিশ। ২৭ ডিসেম্বর তাঁর অবস্থার অবনতি হলে সিঙ্গাপুরে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। নির্ভয়া শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এর ঠিক দু'দিন পরে। আর দু'চোখের পাতা এক করতে পারেননি আশাদেবী। ক্যালেন্ডেরে দাগ দিয়ে দিনের হিসেব রেখেছেন আর অপেক্ষা করেছেন শেষ বিচারের।

এদিকে নির্ভয়ার ধর্ষক অক্ষয় কুমার, পবণ গুপ্ত, বিনয় শর্মারা একের পর এক রক্ষাকবচ জুটিয়ে ফেলেছেন। নেপথ্যে ছিলেন এপি সিংহ, অপরাধীদের আইনজীবী। বলা চলে,. নির্ভয়ার মাকে বারবার অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছেন এই আইনজীবী। ডিসেম্বরের সেই রাতে মেয়ের সঙ্গে যে বর্বরতা হয়, তাঁর ন্যায়বিচার নিয়ে ধন্ধে পড়ে যান আশাদেবী এই ব্যক্তির সৌজন্যেই। প্রকাশ্যে চোখ রাঙিয়ে তাঁকে এপি সিংহ বলেন, এই মামলা কখনও শেষই হবে না।

সারা দেশের বিচারপ্রার্থীরা এই আস্ফালনে হতাশ হয়েছেন, চিৎকার করে ধিক্কার জানিয়েছেন, প্রকাশ্যে বলেছেন, ওকেই ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেওয়া উচিত। কিন্তু লড়াই থামাননি নির্ভয়ার মা। এপি সিংহ প্রকাশ্য আদালতে নির্ভয়ার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। প্রশ্ন করলে পাল্টা বলেন, "নির্ভয়ার সংস্কৃতি আমার সংস্কৃতি নয়।" ভোটের রাজনীতির জন্যে এই ফাঁসি কার্যকর করা হচ্ছে এমনও বলতে শোনা গিয়েছে এপি সিংহকে। এসব ক্ষত সইতে সইতে শীর্ণ শরীরটা ভেঙে পড়েছে, কিন্তু হারেননি আশাদেবী। লড়াইটা যে শুধু তাঁর মেয়ের না। দেশের সব মেয়ের।

অবশেষে আসে বহু প্রতীক্ষিত সেই মুহূর্ত। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়েও শেষ পর্যন্ত হার মানতে বাধ্য হয় নির্ভয়ার ধর্ষকরা। নির্ভয়ার মা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "ও বেঁচে থাকলে হয়তো আমাকে একজন চিকিৎসকের মা হিসেবে আমায় লোকে চিনত। কিন্তু আমায় লোকে চেনে নির্ভয়ার মা হিসেবে। ওঁর ছবি জড়িয়ে ধরে কেঁদেছি আর বলেছি মেয়ে আজ তুই ন্যায়বিচার পেলি।"

হ্যাঁ, ন্যায়বিচার পেয়েছেন নির্ভয়া। আর তা ছিনিয়ে এনেছেন এক সাধারণ মা। এমন মায়ের দার্হ্যের কাছে পৃথিবীর সমস্ত শক্তি, সমস্ত আস্ফালন ফিকে হয়ে যায়।

Published by: Bangla Editor
First published: May 10, 2020, 3:10 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर