দেশ

corona virus btn
corona virus btn
Loading

মর্মান্তিক! ডাক্তারদের ভুয়ো তথ্য দিয়ে সুস্থ মেয়েকে ৮ বছর হুইলচেয়ারে বসিয়ে রাখলেন মা!

মর্মান্তিক! ডাক্তারদের ভুয়ো তথ্য দিয়ে সুস্থ মেয়েকে ৮ বছর হুইলচেয়ারে বসিয়ে রাখলেন মা!

মেয়ের কোনও অসুখই নেই! আর পাঁচটা স্বাভাবিক বাচ্চার মতোই সে-ও সম্পূর্ণ ভাবেই সুস্থ।

  • Share this:

#লন্ডন: মেয়ের কোনও অসুখই নেই! আর পাঁচটা স্বাভাবিক বাচ্চার মতোই সে-ও সম্পূর্ণ ভাবেই সুস্থ। কিন্তু দীর্ঘ ৮ বছর ধরে মা ডাক্তারদের ভুয়ো তথ্য দিয়ে আসছেন। তাঁর দাবি- এই মেয়ে এপিলেপটিক, তার ঘন ঘন ফিট হয়। পাশাপাশি, সে কোনও কিছু খেতেও পারে না। এই রকম ভাবেই ৮ বছর ধরে মেয়ের চিকিৎসা করিয়ে গেলেন মা এবং মেয়েকে আটকে রাখলেন হুইলচেয়ারবন্দী জীবনে। যে শিশু হেসে-খেলে বড় হতে পারত সবার সঙ্গে, তার জীবনের সেরা সময়টাই কেটে গেল মায়ের শাসন, ওষুধ আর হুইলচেয়ারকে সঙ্গী করে!

জানা গিয়েছে যে এ হেন মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে লন্ডনে। সম্প্রতি লন্ডন হাই কোর্টের ফ্যামিলি ডিভিশনের এক পারিবারিক শুনানিতে এই মামলাসংক্রান্ত সব তথ্য উঠে আসে। যা নিয়ে অনলাইনে নিজের রায় প্রকাশ করেছেন বিচারক। তিনি যা জানিয়েছেন, তা রীতিমতো আতঙ্কের বিষয়। ওই রায় থেকে জানা গিয়েছে যে ২০২১ সালের প্রথম দিকে এই মেয়েটির একবার ফিট হয়েছিল। কিন্তু সেটা ধর্তব্যের মধ্যেই পড়ে না। তার আরও দুই ভাইবোনের মতোই সে-ও ছিল একেবারে সুস্থ। কিন্তু মা বিষয়টি মেনে নিতে চান। তিনি এই নিয়ে ডাক্তারদের ভুল তথ্য দেওয়া শুরু করেন। বলেন যে তাঁর মেয়ের ঘন ঘন ফিট হয়। সেই মতো চলতে থাকে ভুল ওষুধ খাওয়ানোর পালা।
২০১৩ সালে এসে এই মা ডাক্তারদের কাছে মেয়ের অসুস্থতা নিয়ে এক দফা বক্তব্য পেশ করেন। তিনি জানান যে মেয়ের নাক দিয়ে হামেশাই রক্ত ঝরে, সে স্বাভাবিক ভাবে বেশি দূর হাঁটতে পারে না, তার ব্লাডারেও অসহ্য ব্যথা হয়। এর পরেই মেয়েটির হাঁটাচলা বন্ধ করে তাকে হুইলচেয়ারে কার্যত বন্দী করে ফেলা হয়। ২০১৭ সালে মা ডাক্তারদের জানান যে মেয়ে স্বাভাবিক ভাবে খেতে পারে না। পরিণামে মেয়ের নাকে খাবার ঢোকানোর নল পরিয়ে দেওয়া হয়। ২০১৮ সালের কোনও এক সময়ে মেয়েটি এই নিয়ে প্রতিবাদ করায় মা তাকে বেশি করে ওষুধের ডোজ দিতে থাকেন বলে জানা গিয়েছে। খবর মোতাবেকে, ২০১৯ সালে সমাজসেবীরা মেয়েটিকে উদ্ধার করে। তাঁরা দেখেন যে সে সম্পূর্ণ সুস্থ, তাই তাকে আত্মীয়দের সঙ্গে থাকতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বিচারক জানিয়েছেন, যে সময়ে মা তাঁর মেয়ের সঙ্গে এ হেন আচরণ করতেন, তখন তিনি ডিভোর্স এবং তার ট্রমার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন; খুব সম্ভবত সেটাই তাঁকে মেয়ের স্বাস্থ্য সম্পর্কে আতঙ্কগ্রস্ত করে তুলেছে। তবে ডাক্তাররা কী ভাবে সুস্থ মেয়েকে অসুখের ওষুধ দিলেন, সেই রহস্য এখনও মেটেনি। বিচারক জানিয়েছেন, মা যদি মেয়ে সম্পূর্ণ সুস্থ বলে মুচলেকা দেন, তবে তাঁর কাছে মেয়েকে ফিরিয়ে দেওয়া যেতে পারে!
Published by: Akash Misra
First published: January 7, 2021, 8:36 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर