Home /News /national /
বায়ুসেনার বোমাবাজি থেকে ‘শান্তির দ্বীপ’, কেন পৃথক মিজোরাম?

বায়ুসেনার বোমাবাজি থেকে ‘শান্তির দ্বীপ’, কেন পৃথক মিজোরাম?

ছবিটি প্রতীকী ও সংগৃহীত

ছবিটি প্রতীকী ও সংগৃহীত

উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলির মধ্যে MNF ইনসার্জেন্সিই দ্বিতীয় বড় আকারের বিদ্রোহ, যা দিল্লিকে নাজেহাল করে দিয়েছিল৷ নাগা বিদ্রোহ অবশ্য তার বছর ৩ দশক আগে হয়েছিল৷ কার্ফু, আগ্নেয়াস্ত্র, সেনার ভারী বুটের শব্দ, বারুদের গন্ধ, মানবাধিকার লঙ্ঘন -- মিজোরামের একটা গোটা প্রজন্মের কাছে এগুলোই স্বাভাবিক৷ সয়ে নিয়েছেন তাঁরা৷

আরও পড়ুন...
  • Share this:

    #আইজল: ১৯৬৬ সালের মার্চ মাসটা মিজোরামের প্রবীণ নাগরিকদের কাছে এখনও এক তিক্ত স্মৃতি৷ ভারতের প্রথম এবং একমাত্র রাজ্য, যেখানে ভারতীয় বায়ুসেনা বোমা ফেলেছিল৷ দিল্লির শাসনের বিরুদ্ধে মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্টের (MNF) বিদ্রোহ ঝাড়েবংশে তুলে ফেলাই ছিল ইন্ডিয়ান এয়ারফোর্সের লক্ষ্য৷ পয়লা মার্চ দিল্লি শাসনমুক্ত স্বাধীন রাজ্য হিসেবে ঘোষণা করেছিল মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্ট৷

    আরও পড়ুন: মিজোরামে বেড়েই চলেছে ক্যান্সার, তিন বছরে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়াল সাড়ে ৪ হাজার

    উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলির মধ্যে MNF ইনসার্জেন্সিই দ্বিতীয় বড় আকারের বিদ্রোহ, যা দিল্লিকে নাজেহাল করে দিয়েছিল৷ নাগা বিদ্রোহ অবশ্য তার বছর ৩ দশক আগে হয়েছিল৷ কার্ফু, আগ্নেয়াস্ত্র, সেনার ভারী বুটের শব্দ, বারুদের গন্ধ, মানবাধিকার লঙ্ঘন -- মিজোরামের একটা গোটা প্রজন্মের কাছে এগুলোই স্বাভাবিক৷ সয়ে নিয়েছেন তাঁরা৷

    আরও পড়ুন:  C-Voter জনমত সমীক্ষা: ব্যাকফুটে বিজেপি, ৪-০ হবেই, আশায় কংগ্রেস

    অনেকগুলি বছর কেটে গিয়েছে৷ মিজোরাম ভোট দেবে৷ অতীতেও দিয়েছে৷ হিংসা, বিদ্রোহ কিন্ত‌ু ইস্যু হিসেবে উঠে আসেনি কখনওই৷ আজও না৷ ঠিক এই জায়গাতেই উত্তর-পূর্বের মধ্যে মিজোরাম আলাদা৷ পৃথক সত্ত্বা৷ সারা বছর উত্তর-পূর্বের অন্য রাজ্যগুলিতে যখন জঙ্গি কার্যকলাপ সর্বদা খবরের শিরোনামে থাকে, সেখানে মিজোরামের ট্যাগ হল, “an island of peace”৷ বহু পর্যবেক্ষক, সাহিত্যিক এই তকমা দিয়েছেন মিজোরামকে৷

    লালদেঙ্গার নেতৃত্বে MNF-এর বিদ্রোহ ও জঙ্গিপনা সত্ত্বেও কংগ্রেসের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করে তারা আজ রাজনৈতিক দল৷ বিধানসভাতেও মুখ্য৷ মিজোরামের উত্তরে মণিপুর সীমান্তে রাষ্ট্রের সঙ্গে বনিবনা আজও হয়নি উপজাতি গোষ্ঠী হমারের৷ ১৯৯৪ সালে MNF শান্তি চুক্তি করা সত্ত্বেও৷

    এগুলি বাদ দিলে আরেক উপজাতি সংগঠন ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট অফ ত্রিপুরা (NLFT) মূলত বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত হয়৷ ব্রু জঙ্গিদের সঙ্গে মিলে মিজোরামে দেদার অপহরণ, খুন চালিয়েছে এক সময়৷ গত দু তিন বছর এদের কার্যকলাপও অনেকটাই স্তিমিত৷

    এত বিদ্রোহ, জঙ্গি কার্যকলাপ সত্ত্বেও, মিজো পার্বত্য অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জনজীবনে খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারেনি৷ এবং এ বারের ভোট এমন এক নির্বাচন, যেখানে কোনও জঙ্গি কার্যকলাপের রিপোর্ট নেই এখনও৷ সব শান্তি৷ সেই কালোদিনগুলি মুছে গিয়েছে৷

    ১৯৬৬ সালে MNF বিদ্রোহের কয়েক সপ্তাহ পরেই চার্চের পাদরি ও ধর্মীয় নেতারা সরকার ও বিদ্রোহীদের মধ্যে আধ্যাত্মিক আদানপ্রদানের মাধ্যমে শান্তি ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করে দেন৷

    মুখ্যমন্ত্রী লাল থানহাওলা তো স্পষ্ট বলছেন, ‘বিজেপি-কে ঠেকাতে কর্নাটকের মতো জোটে যেতেও রাজি৷’

    তাই বিদ্রোহ-জঙ্গিপনার অতীত থাকলেও, মিজোরাম ‘Island of Peace’৷

    First published:

    Tags: India Assembly Election 2018, Mizoram, Mizoram Election 2018

    পরবর্তী খবর