Mission Paani: ঊষর মরুর বুকে জলের ধারা, রাজস্থানের প্রতি জলকণায় জড়িয়ে আছে অমলা রুইয়ার নাম!

তবে অমলা কিন্তু রাজস্থানের মেয়ে নন। তাঁর জন্ম, বড় হয়ে ওঠা- সবটাই উত্তরপ্রদেশে।

তবে অমলা কিন্তু রাজস্থানের মেয়ে নন। তাঁর জন্ম, বড় হয়ে ওঠা- সবটাই উত্তরপ্রদেশে।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: মানুষ তার অবিমৃষ্যকারিতার শাস্তি এবার মাথা পেতে নিচ্ছে। সবুজ ধ্বংসের যে মারণলীলায় সে সামিল হয়েছিল এত দিন, তা এখন সভ্যতার ধ্বংসের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে ভৌম জল। বৃষ্টির জলও সুপরিকল্পনার অভাবে বয়ে যাচ্ছে মাটি দিয়ে, তাকে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলার পদ্ধতি অনেকেরই অজানা। কিন্তু অমলা রুইয়া (Amla Ruia) জানতেন কী ভাবে প্রতি জলকণার তিলে তিলে সঞ্চয় নিত্যদিনের জীবনযাপন জলোচ্ছ্বাসে পূর্ণ করতে পারে। সেই মিশন নিয়েই তিনি কাজ করেছেন এবং এখনও করে চলেছেন রাজস্থানের প্রত্যন্ত অঞ্চলে। যে ভূমিতে প্রকৃতির কৃপণতাতেই জলের পরিমাণ কম, সেখানে অমলার সঞ্চয়ী মন এবং কর্মপটুতা বইয়ে দিয়েছে জলের ধারা। ঊষর মরুকেও করে তুলেছে জললালিত, স্নিগ্ধ, শান্ত।

তবে অমলা কিন্তু রাজস্থানের মেয়ে নন। তাঁর জন্ম, বড় হয়ে ওঠা- সবটাই উত্তরপ্রদেশে। তার পরেও রাজস্থানের দিকে যে তাঁর চোখ গেল, তার কারণ ১৯৯৮ সালের বিধ্বংসী খরা। এই সময়েই ঠিক করে নিয়েছিলেন অমলা- মরু অঞ্চলে জলধারার আশীর্বাদ নিয়ে আসার কাজে তিনি ব্রতী হবেন। সেই লক্ষ্যে তৈরি করা হয় আকর চ্যারিটেবল ট্রাস্ট। রাজস্থানের গ্রামাঞ্চলে তাঁর সংগঠন নিয়ে ঘুরতে থাকেন অমলা। সবাইকে বোঝাতে থাকেন জলসঞ্চয়ের পদ্ধতি। বৃষ্টির জল কী ভাবে ধরে রাখতে হয়, তা হাতে-কলমে শেখাতে শুরু করেন। উৎসমুখ থেকে বয়ে যাওয়া জলের প্রবাহ যাতে অপচয়িত না হয়, সে লক্ষ্যেও তাঁর সংগঠন জাঙ্গাল দিয়ে ছোট ছোট বাঁধ তৈরি করতে থাকে। সেই সঙ্গে কঠোর ভাবে সবাইকে উৎসাহিত করে তোলেন জলের অপচয় রোধে।

অমলার এই অক্লান্ত প্রয়াসের পরিণাম যেন রূপকথাকেও হার মানায়! ২০০০ সাল থেকে ২০০৫ সালের মধ্যেই রাজস্থানের নানা অঞ্চলে তাঁর উদ্যোগে বৃষ্টির জলসঞ্চয়ের লক্ষ্যে খনন করা হয়েছে ২০০টি কুণ্ড। প্রতি বর্ষায় যা নতুন করে জল ধরে সারা বছর প্রয়োজন পূর্ণ করে স্থানীয়দের। এই ২০০টি কুণ্ড থেকে সব মিলিয়ে ১ কোটি লিটার জলের জোগান আসে বলে জানিয়েছেন অমলা। এটাও জানাতে ভোলেননি যে গ্রামবাসীরাও আর্থিক সাহায্য করেছেন এগুলো তৈরির কাজে।

অন্য দিকে, ২০০৬ সাল থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে অমলা এবং তাঁর আকর চ্যারিটেবল ট্রাস্ট গড়ে তুলেছে ৩১৭টি বাঁধ। যা ১৮২টি গ্রামের ৪,৮২,৯০০ জন মানুষের নিত্য উপকারে আসে। তবে শুধু এটুকুতেই থেমে যাননি অমলা। জলসমস্যার প্রতিকার করে এবার তিনি মন দিয়েছেন মননশীলতার লালনে। তাঁর ট্রাস্ট এই সব অঞ্চলের মানুষজনকে লেখাপড়াও শেখায় বলে জানিয়েছেন গর্বিত অমলা।

Published by:Dolon Chattopadhyay
First published: