দেশ

corona virus btn
corona virus btn
Loading

ঠান্ডায় কাঁপছিল ভিখারী, এগিয়ে গিয়ে পুলিশকর্তা দেখলেন, নিজেরই ব্যাচের অফিসার!

ঠান্ডায় কাঁপছিল ভিখারী, এগিয়ে গিয়ে পুলিশকর্তা দেখলেন, নিজেরই ব্যাচের অফিসার!
নিখোঁজ পুলিশ অফিসারই ভিখারী হিসেবে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছিলেন৷

দুই ডিএসপি জানিয়েছেন, ১৯৯৯ সালে তাঁদের সঙ্গে সাব ইন্সপেক্টর হিসেেব চাকরি জীবন শুরু করেছিলেন মণীশ৷

  • Share this:

#গ্বালিয়র: বাস্তবে এমন কিছু ঘটনা ঘটে, যা সিনেমার গল্পকেও হার মানায়৷ আসলে সিনেমা বা গল্প তো বাস্তব থেকেই অনুপ্রাণিত হয়৷ সেরকমই একটি ঘটনা ঘটল মধ্যপ্রদেশের গ্বালিয়রে৷ যার সাক্ষী থাকলেন খোদ মধ্যপ্রদেশ পুলিশের এক ডিএসপি৷

জানা গিয়েছে, গ্বালিয়রে উপনির্বাচনের ভোটগণনার পর ডিএসপি রত্নেশ সিং তোমার এবং বিজয় সিং ভদোরিয়া ঝাঁসি রোড দিয়ে যাচ্ছিলেন৷ গাড়িতে করে যাওয়ার সময়ই ফুটপাথে মধ্যবয়সি এক ভিখারীকে ঠান্ডায় কাঁপতে দেখেন তাঁরা৷ ভিখারীর দুর্দশা দেখে গাড়ি থামিয়ে তাঁকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে যান দুই অফিসার৷ রত্নেশ সিং নামে ওই অফিসার নিজের জুতো ওই ভিখারীকে দিয়ে দেন৷ আর বিজয় সিং নিজের জ্যাকেট দেন তাঁকে৷ এর পর ওই ভিক্ষুকের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েই হতভম্ব হয়ে যান দুই অফিসার৷ কারণ তাঁরা বুঝতে পারেন, ওই ভিখারী আসলে ওই দুই ডিএসপি-র ব্যাচেরই নিখোঁজ এক পুিলশ কর্তা৷

জানা গিয়েছে, ওই ভবঘুরের মতো ঘুরে বেড়ানো ওই ভিখারীর নাম আসলে মণীশ মিশ্র৷ ১০ বছর আগে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন তিনি৷ ১৯৯৯ সালে পুলিশের চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি৷ এর পর মধ্যপ্রদেশের বিভিন্ন থানার দায়িত্বে ছিলেন তিনি৷ ২০০৫ সাল পর্যন্ত পুলিশে চাকরি করেন তিনি৷ নিখোঁজ হওয়ার আগে দাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ছিলেন মনীশ মিশ্র৷ কিন্তু তার পর থেকেই ধীরে ধীরে তাঁর মানসিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে৷ পরিবারের সদস্যরা তাঁর চিকিৎসাও শুরু করেন৷ কিন্তু হঠাৎই একদিন নিখোঁজ হয়ে যান তিনি৷

দীর্ঘদিন ধরে মণীশের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি৷ এর মধ্যে ওই পুলিশ অফিসারের স্ত্রীও তাঁর পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন৷ ডিভোর্স নিয়ে নেন তিনি৷ আর মাঝের এই এতগুলো বছর রাস্তায় রাস্তায় ভিক্ষা করেই কেটেছে ওই পুুলিশ অফিসারের৷ নিখুঁত নিশানার জন্য একসময় যিনি পুলিশ মহলে সুনাম কুড়িয়েছিলেন৷

দুই ডিএসপি জানিয়েছেন, ১৯৯৯ সালে তাঁদের সঙ্গে সাব ইন্সপেক্টর হিসেেব চাকরি জীবন শুরু করেছিলেন মণীশ৷ তাঁর যে এমন পরিণতি হতে পারে, তা ভাবতেও পারছেন না ওই দুই অফিসার৷

দুই অফিসার মিলে মণীশের সঙ্গে কথা বলে তাঁর স্মৃতি ফেরানোর চেষ্টা করেন৷ তাঁকে নিজেদের সঙ্গে নিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা করেন তাঁরা৷ কিন্তু মণীশ তাতে রাজি হননি৷ শেষ পর্যন্ত দুই ডিএসপি মিলে একটি সমাজসেবী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন৷ তারাই এসে মণীশকে উদ্ধার করে নিয়ে গিেয় তাঁর দেখাশোনা ও চিকিৎসা শুরু করেছে৷

মণীশ মিশ্রের ভাইও পুলিশে চাকরি করেন৷ তাঁর বাবা এবং কাকা পুলিশের এসএসপি পদে থেকে অবসর গ্রহণ করেন৷ তাঁর বোন একটি দূতাবাসে কর্মরত রয়েছেন৷ মণীশের প্রাক্তন স্ত্রীও সরকারের আইন বিভাগে চাকরি করেন৷ আপাতত মণীশের দুই সহকর্মী অফিসারই তাঁর চিকিৎসার দেখাশোনা করছেন৷

Published by: Debamoy Ghosh
First published: November 14, 2020, 10:59 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर