দেশ

corona virus btn
corona virus btn
Loading

দুধওয়ালার মেয়ে থেকে বিচারক, গোয়াল থেকে আদালত এক মেয়ের আপোসহীন সংগ্রাম

দুধওয়ালার মেয়ে থেকে বিচারক, গোয়াল থেকে আদালত এক মেয়ের আপোসহীন সংগ্রাম

২০১৮ সালে রাজস্থান জুডিসিয়াল সার্ভিস পরীক্ষা পাশ করেন সোনাল। গত বছর ডিসেম্বের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়।

  • Share this:

#উদয়পুর: উদয়পুরের সোনাল শর্মার গল্পটা প্রত্যন্ত এক পরিবার থেকে সমাজের মূল স্রোতে উঠে আসার। এ এক অবহেলা থেকে অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার গল্প। এক সময়ে গোয়ালঘরে তেলের টিন দিয়ে তৈরি টেবিলে পড়াশোনা করা মেয়েটি আজ রাজস্থানের সেশন কোর্টের ফার্স্ট-ক্লাস ম্যাজিস্ট্রেটের পদে নিযুক্ত হতে চলেছেন। কিন্তু দুধওয়ালার মেয়ের এই লড়াই খুব একটা সহজ ছিল না। গোয়াল থেকে আদালতে যাওয়ার এই সংগ্রামে এসেছে একের পর এক প্রতিবন্ধকতা।

এক বছরের প্রশিক্ষণ শেষ করার পর BA, LLB ও LLM পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেন সোনাল। এ বার রাজস্থানের সেশন কোর্টের ফার্স্ট-ক্লাস ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিযুক্ত হবেন তিনি। তবে আগের অভ্যাস আর পরিশ্রমকে এখনও ভোলেননি। ২৬ বছর বয়সী সোনাল এখনও প্রতি দিনের মতোই ভোর চারটেয় ওঠেন। তার পর বাবা খ্যালি লাল শর্মাকে দুধ দোয়ার কাজে সাহায্য করেন। পরে গোয়াল পরিষ্কার ও গোবর তোলার কাজ করেন। সব শেষে স্থানীয়দের মধ্যে দুধ বিক্রি করার কাজেও সাহায্য করেন বাবাকে।

এখন জীবনের কঠিন পরিস্থিতি ও সময়গুলি এখন বদলেছে। তবে এই বদল-সাফল্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে একের পর এক লড়াই। ২০১৮ সালে রাজস্থান জুডিসিয়াল সার্ভিস পরীক্ষা পাশ করেন সোনাল। গত বছর ডিসেম্বের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। কিন্তু সোনালের নাম ছিল ওয়েটিং লিস্টে। কারণ জেনারেল কাট অফ লিস্টে মাত্র এক মার্কের জন্য পিছনে থেকে যান তিনি। এর মাঝে কয়েকজন জয়েন না করায় লিস্টের উপরের দিকে নাম চলে আসে সোনালের। পরে কর্তৃপক্ষের তরফেও জানিয়ে দেওয়া হয়, ওয়েটিং লিস্টের প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন।

এমন সময়ে এক সমস্যা নতুন দেখা দেয়। হঠাৎই সোনাল জানতে পারেন, RJS ২০১৮-তে পরের লিস্টে নির্বাচিত প্রার্থীরা জয়েন করতে পারবেন না। কোনও বৈধ কারণও ছিল না। তড়িঘড়ি রাজস্থান হাইকোর্টে পিটিশন ফাইল করেন তিনি। তবে সোনাল যে পথ বেছে নিয়েছিলেন, তা খুব একটা সহজ ছিল না। এর পর আইনি লড়াই চলে। সম্প্রতি, কোর্ট রায় দেয়। জানিয়ে দেয়, RJS ২০১৮-এর সাতটি ফাঁকা স্থানের মধ্যে যে কোনও একটিতে জয়েন করতে পারবেন সোনাল। এর পর এত দিনের স্বপ্ন সফল হয়।

সোনালের পাশাপাশি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়েছে তাঁর পরিবারও। পথ কঠিন হলেও, শেষমেশ গন্তব্য পৌঁছাতে পেরেছেন সোনাল। এক সময়ে টিউশন পড়া, দামি বই কেনা সব কিছুতেই সমস্যায় পড়তে হত। কলেজ শুরু হওয়ার আগে রোজ সাইকেলে করে রওনা দিতেন সোনাল। খুব একটা বই ছিল না, তাই লাইব্রেরিতেই পড়াশোনা করতে হত। গোয়ালের কোণে খালি তেলের টিনগুলি দিয়ে একটি টেবিলের মতো তৈরি করা ছিল। সেখানে বসেই রোজ পড়াশোনা করতেন সোনাল। আর গবাদি পশুদের খেয়াল রাখতেন।

সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সোনাল জানিয়েছেন, তাঁর এই সাফল্যের পিছনে অনেক কষ্টও রয়েছে। রীতিমতো সংগ্রাম করতে হয়েছে তাঁর পরিবারকে। লোনও নিতে হয়েছে তাঁর বাবাকে।

সোনালির কথায়, বেশিরভাগ সময় চপ্পলে গোবর লেগে থাকত। গন্ধ হত। যখন স্কুলে যেতাম, বন্ধু-বান্ধবীদের সঙ্গে কথা বলতে লজ্জা লাগত। কাউকে বলতে পারতাম না যে, আমি একজন দুধওয়ালার পরিবার থেকে এসেছি। কিন্তু এখন আমি গর্বিত। আমার বাবা-মায়ের জন্য প্রতিটি মুহূর্তে গর্ব অনুভব করি!

Published by: Dolon Chattopadhyay
First published: December 30, 2020, 10:53 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर