Covid-19 : মহারাষ্ট্রে সঙ্কট বাড়ছে, লকডাউনের আশঙ্কায় সিঁদুরে মেঘ দেখছেন মেহবুব, মুন্নারা!

Covid-19 : মহারাষ্ট্রে সঙ্কট বাড়ছে, লকডাউনের আশঙ্কায় সিঁদুরে মেঘ দেখছেন মেহবুব, মুন্নারা!

অশনি সংকেত Photo-collected

বছর ঘুরতেই কী তবে আবার সেই দীর্ঘ পথ হাঁটা? সেই অনিশ্চিত রেললাইন? সেই রাতের চেয়েও অন্ধকার দিন কাটানো? আশঙ্কায় পরিযায়ী শ্রমিকরা।

  • Share this:

    #মুম্বই : ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে নাইট কারফিউ। লাগু হয়েছে একগুচ্ছ বিধি-নিষেধ। কিন্তু তাতেও ঠেকানো যাচ্ছে না মহারাষ্ট্রের করোনা (Covid 19) সংক্রমণের হার। পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে এগোচ্ছে। দৈনিক সংক্রমণ বৃদ্ধির জেরে গত বছরের মতো হয়ত লকডাউনের পথে হাঁটতে পারে প্রশাসন। তেমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে মহারাষ্ট্র সরকার। তাতেই গত বছরের স্মৃতি মনে ভিড় করে আসছে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখানে কাজ করতে আসা পরিযায়ী শ্রমিকদের। বছর ঘুরতেই কী তবে আবার সেই দীর্ঘ পথ হাঁটা? সেই অনিশ্চিত রেললাইন? সেই রাতের চেয়েও অন্ধকার দিন কাটানো?

    গত বছর ২৪ মার্চ ২১ দিনের জাতীয় লকডাউন ঘোষণা করার পর রেশন ও অর্থ ছাড়া আটকে পড়া বহু পরিযায়ী শ্রমিক নিজেদের বাড়ি পৌঁছানোর জন্য মাইলের পর মাইল পথ পেরিয়েছিলেন পায়ে হেঁটে। সেই একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে তার জন্যই শ্রমিকরা আগে থেকে তৎপর হচ্ছেন। ২৩ বছরের শ্রমিক মেহবুব আলি। মুম্বইয়ের জারিমারি এলাকার এক পোশাকের কারখানায় কাজ করেন তিনি। বলছিলেন কীভাবে উপার্জনহীন অবস্থাতেও বাধ্য হয়ে ৩ হাজার টাকা খরচ করে ট্রাকে করে ঘরে ফিরেছিলেন সেদিন। আজকাল খুব মনোযোগ দিয়ে খবরের আপডেট শুনছেন মেহবুব। বললেন, "কেউই গত বছরের মতো ভুক্তভোগী হতে চায় না।"

    পরিযায়ী পথিক Photo-collected পরিযায়ী পথিক
    Photo-collected

    গত অগস্টেই উত্তরপ্রদেশে তাঁর গ্রাম থেকে মুম্বইতে ফিরেছেন আলি। রবিবার সন্ধ্যায় ফের বাড়ি ফেরার টিকিট কাটার জন্য স্থানীয় দফতরে যান। বুকিং অফিসের চেয়ে দ্বিগুণ টাকা দিয়ে টিকিট মিললেও জানিয়ে দেওয়া হয় ৮ এপ্রিল উত্তরপ্রদেশ যাওয়ার জন্য ট্রেনে কোনও বার্থ খালি নেই। গত সপ্তাহেই তাঁর ২২ বছরের ভাইকে গ্রামে পাঠিয়ে দিয়েছেন আলি। নিজে রয়ে গিয়েছেন। কারণ লকডাউন ঘোষণার পর তাঁদের দুই ভাইয়ের চাকরি থাকবে না। তাই আগে থাকতে একটু বেশি অর্থ উপার্জন করতে চাইছেন তিনি। বললেন, "আমি অপেক্ষা করে আর ঝুঁকি নিতে চাইছি না।"‌ তার ওপর কারখানায় তৈরী পোশাকের চাহিদা কমে যাওয়ায় শেষ ২ মাসে শ্রমিকদের প্রকৃত বেতনের তুলনায় অনেক কম অর্থ দেওয়া হচ্ছে। তাই আমদানিও কমে গিয়েছে আলিদের।

    জারিমারির আলিকে চেনেন না। কিন্তু ভাগ্য বোধহয় তাঁদের এক সুতোয় বেঁধে দিয়েছে কোথাও। ঘাটকোপারের মুন্না গিরির স্পষ্ট দাবি, "সরকার বন্দোবস্ত করুক আমাদের বাড়িতে ফেরানোর।" একদল পণ্য বহনকারীদের তদারকি করেন মুন্না। জানালেন, গত সপ্তাহে নৈশ কার্ফু জারি হওয়ার পর লকডাউনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তাঁর কথায়, "‌আমরা ৪-৫ মাস আগে দোকানগুলি খোলার পরই ফিরেছি। গত বছর বাড়িতে ফিরে যাওয়ার জন্য আমাদের মধ্যে অধিকাংশ জনকেই টাকা ধার করতে হয়েছিল। তাই হাত প্রায় শূন্য। এই অবস্থায় আশা করবো লকডাউনের আগে সরকারই আমাদের বাড়িতে ফিরিয়ে দেওয়ার কিছু বন্দোবস্ত করবে।"

    পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা অজীবিকা ব্যুরো। এখানকার শীর্ষ আধিকারিক দীপক পরাধকর। জানালেন লকডাউনের খবর নিতে দিনে কমপক্ষে ১০টি ফোন পান তিনি বিভিন্ন এলাকায় কাজ করা শ্রমিকদের কাছ থেকে। পরাধকরের কথায়, "এখনও কোনও ঘোষণা হয়নি, কিন্তু শ্রমিকরা উদ্বিগ্ন, কারণ তাঁদের মনে হচ্ছে তাঁরা ফের আটকে পড়তে পারেন। অনেকেই অনুরোধ করেছেন যে লকডাউন ঘোষণার আগে তাঁদের যেন জানানো হয় যাতে তাঁরা সেই অনুযায়ী বন্দোবস্ত করতে পারেন।"

    Published by:Sanjukta Sarkar
    First published:

    লেটেস্ট খবর