corona virus btn
corona virus btn
Loading

সঙ্গী শুধু জল আর বিস্কুট!‌ দুর্গাপুর পৌনে চারশো কিমি পথ পায়ে হেঁটে পেরোচ্ছেন শ্রমিকরা

সঙ্গী শুধু জল আর বিস্কুট!‌ দুর্গাপুর পৌনে চারশো কিমি পথ পায়ে হেঁটে পেরোচ্ছেন শ্রমিকরা

বাড়ি থেকে দূরে এভাবে বসে খাওয়া আর সম্ভব নয়। একথা বুঝেই বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন আট যুবক।

  • Share this:

#‌মালদহ: দুর্গাপুর থেকে ডালখোলা। গন্তব্যের দূরত্ব প্রায় পৌনে চারশো কিলোমিটার। আর সেই দূরত্ব জল, বিস্কুট খেয়ে পায়ে হেঁটেই পথ পেরোচ্ছে আট শ্রমিকের দল। লকডাউনে কাজ হারিয়েছেন তাঁরা, বন্ধ হয়েছে কারখানা। টাকার অভাবে ছাড়তে হয়েছে ভাড়া নেওয়া ঘরটাও। তবে সব হারিয়েও অটুট রয়েছে আত্মবিশ্বাস। দুর্গাপুর থেকে শুরু হয়েছে হেঁটে বাড়ি ফেরার চেষ্টা। পকেটে পুঁজি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। অর্থসংকট এতটাই, যে একটা সাইকেল পর্যন্ত জোগাড় করতে পারেননি। কারও পায়ে ছেঁড়া জুতো, কারো সম্বল শুধুই হাওয়াই চটি। কাধে ব্যাগ চাপিয়ে কিলোমিটারের পর কিলোমিটার পথ পেরোচ্ছেন আফসার, নওয়াজিস, নুর আলম, শোয়েব, মোত্তাক্কিন, মুসফিকুররা। এরা প্রত্যেকেই দুর্গাপুরের রাহুডাঙ্গা এলাকার শ্যাম্পু, সাবান, ডিটারজেন্ট, ফেশওয়াস তৈরির কারখানার শ্রমিক। লকডাউনে তালা ঝুলেছে কারখানায়। পনেরো দিনেই হাতের টাকাপয়সা প্রায় শেষ। তারপর ঘর ছাড়তে বলেন, বাড়ি মালিক। টাকা দিতে না পারায় বন্ধ করে দেওয়া হয় ঘরের বিদ্যুৎ সংযোগ।

বাড়ি থেকে দূরে এভাবে বসে খাওয়া আর সম্ভব নয়। একথা বুঝেই বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন আট যুবক। প্রত্যেকেই উত্তর দিনাজপুরের ডালখোলার কাছে মানসচৌপথি এলাকার বাসিন্দা। অন্যান্য অনেক শ্রমিকদের মতো পুরনো সাইকেল কিনে বাড়ির পথ ধরবেন, জোগাড় করতে পারেননি সেই টাকাও। শেষে রবিবার দুপুরে ব্যাগ গুছিয়ে হাঁটা পথই ধরেন তাঁরা। কিন্তু টানা হাঁটা পথে যাওয়া যে অসম্ভব!‌ এক ঘন্টা করে হাঁটার পর দশ মিনিট করে বিশ্রাম নেওয়ার পরিকল্পনা তাঁদের। আর মাঝে খিদে পেলে জল, বিস্কুটই পেটের জ্বালা মেটাতে হচ্ছে তাঁদের। তারপর ফের শুরু করতে হচ্ছে হাঁটা। রাস্তাতেই দেখেছেন সূর্যোদয়। হাঁটতে হাঁটতে চোখের সামনে দিন পেরিয়ে রাত হচ্ছে। কিন্তু, চোখ বুজে এলেও থেমে যাচ্ছেন না। নতুন ভোরের আশায় সামনের দিকে পা বাড়িয়ে দিচ্ছেন ওঁরা। মাঝে রাস্তায় মোবাইলে গুগল ম্যাপে দেখে নিচ্ছেন কতটা পথ পেরনো হল, আরও কত পথ বাকি। শ্রমিকদের কথায়, লক্ষ্য যখন স্থির করেই ফেলছেন তখন থেমে যাওয়ার প্রশ্নই নেই। বাড়ির লোকজন মাঝে মধ্যেই ফোনে খবর নিচ্ছেন। কখনও দুর্গাপুরে ফিরবেন কিনা, আবার হারানো কাজ ফিরে পাবেন কিনা, তা অনিশ্চিত। তবে আপাতত বাড়ি ফিরে শান্তি চান ওঁরা।

Sebak DebSarma

First published: April 30, 2020, 6:11 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर