রাজধানীতে ভয়াবহ আগুন, পুড়ে ছাই নামী জুতোর কারখানা

নিখোঁজ ৪ শ্রমিক।

নিখোঁজ ৪ শ্রমিক।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: পশ্চিম দিল্লির উদ্যোগ নগরে একটি নামী জুতোর ৩ তলা কারখানায় সোমবার সকাল ৮টা নাগাদ আগুন লাগার খবর পায় দমকল বিভাগ। তারপর একে একে দমকলের ৩৫ টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। বিকেল পর্যন্ত দমকল কর্মীদের আপ্রাণ চেষ্টায় আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। কারখানার ভেতরে আটকে পড়েছিলেন মোট ১০জন শ্রমিক। নিজেদের আপ্রাণ চেষ্টায় বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন ৪ জন।

আহত অবস্থায় পরে আরও দু'জনকে উদ্ধার করেছেন দমকল কর্মীরা। বিকেল পর্যন্ত কোন খবর পাওয়া যায়নি আরও ৪ শ্রমিকের। এদিকে কারখানার মধ্যে আটকে থাকা শ্রমিকদের পরিবারের লোকজন বাইরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তাদের অভিযোগ কারখানার মালিক শ্রমিকদের বাইরে থেকে তালা দিয়ে চলে গিয়েছিলেন যার ফলে বেরোতে পারেননি শ্রমিকরা। বিক্ষোভ সামলাতে  মোতায়েন করা হয় দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। পশ্চিম দিল্লির এই জুতো কারখানায় একটি নামী কোম্পানির জুতো তৈরি হত। কয়েক ঘণ্টায় আগুন এতটাই ভয়ানক হয়ে ওঠে যে, পুরো কারখানাটি সম্পূর্ণরূপে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। প্রথম আগুনের খবর পাওয়া যায় সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ। তারপর থেকেই আগুনের চেহারা দেখে একে একে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে থাকে দমকলের ৩৫টি ইঞ্জিন। বিকেল পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। একদিকে আগুন নিলেও অন্যদিকে জ্বলে উঠছে। পরিস্থিতি ভয়াবহ বুঝে কারখানা বিল্ডিংয়ের জানালা ভেঙে ভেতরে ঢুকতে শুরু করেন দমকল কর্মীরা।

দায়িত্বপ্রাপ্ত মুখ্য অগ্নি নির্বাপন আধিকারিক রাজেশ কুমার নিউজ এইট্টিন বাংলাকে জানিয়েছেন, "কারখানায় ভেতরে মোট ১০ জন আটকে গিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ৪জন অনেক কষ্টে বেরিয়ে এসেছেন। আমারা বহু কষ্টে আরও দুজন শ্রমিককে উদ্ধার করে আনতে সক্ষম হয়েছি। কিন্তু, স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন ৪ জন।" তিনি আরো জানিয়েছেন, দমকলকর্মীরা নিরাপত্তা জ্যাকেট, বিশেষ মাস্ক এবং অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে ভেতরে যাচ্ছেন নিখোঁজ কর্মীদের সন্ধানে। তবে, জুতো কারখানাটি সম্পূর্ণরূপে ভষ্মীভূত। ক্ষতি হয়েছে আশেপাশের বিল্ডিং গুলিতেও। তবে আমরা নিখোঁজদের পরিবারের পাশে রয়েছি। আগুন নেভা পর্যন্ত সবাইকে উদ্ধার করার চেষ্টা চালাচ্ছি।" দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, সম্পত্তির ক্ষয় ক্ষতি হলেও কারো প্রাণহানির খবর নেই। আগুন লাগার কারণ এখনও জানা যায়নি। কারখানাটিতে ডিআইবি বেআইনি ভাবে ধার্য পদার্থ মজুত ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে। দেখা মেলেনি কারখানার মালিকের।

Rajib Chakraborty

Published by:Debalina Datta
First published: