
#নয়াদিল্লি: পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি। দেশের সঙ্কটময় মুহূর্তে শাসক-বিরোধীর দ্বন্দ্ব ভুলে মারণ ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগদান করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দুঃসময়ে সত্ পরামর্শ বা দেশের প্রতি দায়িত্বশীলতার বিনিময়ে এমন মূল্য হয়তো আশা করেননি ড. মনমোহন সিং। তিনি দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা। কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ে সারা দেশের যখন তটস্থ অবস্থা, তখন তিনি হাত গুটিয়ে বসে থাকেন কী করে! আবার এটাও ঠিক, ক্ষমতায় না থাকায় তাঁর পক্ষে এই পরিস্থিতিতে দেশ ও দশের জন্য বাস্তবিক কিছু করাও সহজ নয়। তাই করোনা মোকাবিলায় এখন ঠিক কী করা উচিত তার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে একটি চিঠি লিখেছিলেন মনমোহন সিং। প্রধানমন্ত্রী সেই চিঠির জবাব দেননি। দিলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. হর্ষবর্ধন। সেই সপাট জবাব মনমোহন সিংয়ের কাছে হয়তো অপমানের থেকে কম কিছু হবে না।
ড. হর্ষবর্ধন এদিন মনমোহন সিংয়ের চিঠির জবাবে লিখেছেন, ''কংগ্রেসের নেতারা আপনার এই পরামর্শগুলি মেনে চললেই ইতিহাস আপনার প্রতি সহানুভূতিশীল হবে।'' দুপাতার চিঠিতে মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে করোনা মোকাবিলায় পাঁচটি পরামর্শ দিয়েছিলেন। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল, নির্দিষ্ট সংখ্যক মানুষকে টিকা দিতে হলে ভ্যাকসিনের জোগান আগে নিশ্চিত করতে হবে। আপাতত তাই দেশের ১০ শতাংশ মানুষের টিকাকরণের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার। অর্থাত্ টিকাকরণের সংখ্যা নয়, নির্ধারিত হতে পারে কত শতাংশ দেশবাসীকে টিকা দেওয়া হবে! মনমোহন সিংকে উত্তরে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী লিখেছেন, ''গত কয়েক মাসে কংগ্রেস নেতারা ইচ্ছে করে ভুল তথ্য রটানোর দায়িত্ব নিয়েছিলেন। ভ্যাকসিন নিয়ে একের পর এক ভুল তথ্য তাঁরা ছড়িয়েছে। সেইসব ভুল তথ্যের জেরে বহু মানুষ ভ্যাকসিন নেওয়ার ব্যাপারে দ্বন্দ্বে ভুগেছে। দেশবাসীর জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে কংগ্রেসের নেতারা।''
History shall be kinder to you Dr Manmohan Singh ji if your offer of ‘constructive cooperation’ and valuable advice was followed by your @INCIndia leaders as well in such extraordinary times ! Here’s my reply to your letter to Hon’ble PM Sh @narendramodi ji @PMOIndia pic.twitter.com/IJcz3aL2mo
— Dr Harsh Vardhan (@drharshvardhan) April 19, 2021
এর পরই মনমোহন সিংয়ের প্রতি কড়া সুরে ড. হর্ষবর্ধন লিখেছেন, ''যাই হোক, এই সময়ে দাঁড়িয়ে ভ্যাকসিন দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্ধারিত সংখ্যার কথা না ভেবে টিকাকরণের শতাংশ নিয়ে ভাবাটা ঠিক হবে না। তবে কংগ্রেসের জুনিয়র নেতাদের আপনার পরামর্শ মেনে চলা উচিত। মোট আক্রান্ত, অ্যাক্টিভ কেস ইত্যাদি নিয়ে যে আলোচনা কংগ্রেস করছে তার থেকে বেশি কথা হওয়া উচিত কত শতাংশ মানুষের মধ্যে টিকাকরণ হল তা নিয়ে। আপনি এই সময়ে দাঁড়িয়ে টিকাকরণের প্রয়োজনীয়তা বুঝলেন। কিন্তু দুংখের বিষয়, আপনার পার্টির অনেক নেতা, এমনকী যে সব রাজ্যে আপনাদের সরকার রয়েছে সেখানকার মন্ত্রীরাও টিকাকরণ নিয়ে আপনার মতো কথা বলছে না। ভারত প্রথম দেশ হিসাবে দুটো ভ্যাকসিন আবিষ্কার করল। এটা কি গর্বের বিষয় নয়! তবুও আপনার দলের সিনিয়র নেতারা দেশের বিজ্ঞানী, গবেষকদের প্রশংসায় একটা শব্দও খরচ করেনি এখনও। কংগ্রেসের অনেক নেতা জনসমক্ষে ভ্যাকসিনের নিন্দা করেছ। আবার তারাই লুকিয়ে টিকা নিয়েছে। তবুও আপনার পরামর্শ আমরা মূল্যবান বলে মনে করছি। আর এটাও মনে করছি, আপনার দলের নেতাদের দেশের স্বার্থের কথা মাথায় রাখা উচিত। আপনি বিদেশি টিকার ব্যবহার বৃদ্ধির পরামর্শ দিয়েছেন। আমাদের সরকার আপনার এই পরামর্শ পাওয়ার সাত দিন আগে থেকেই দেশে বিদেশি টিকার ব্যবহার বাড়ানোর বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। যাই হোক, সব শেষে বলব, আপনি সিনিয়র নেতা। এমন দুঃসময়ে আপনি আমাদের পাশে থাকবেন। যে কোনও বিষয়ে আপনার পরামর্শের আশা রাখি।''