‘আপনি ভারতীয়?’ প্রশ্ন করে মণিপুরী মহিলাকে হেনস্থার অভিযোগ

ভারতে আরও একবার দুর্ব্যবহারের শিকার হলেন উত্তর-পূর্বের এক তরুণী ৷

ভারতে আরও একবার দুর্ব্যবহারের শিকার হলেন উত্তর-পূর্বের এক তরুণী ৷

  • Pradesh18
  • Last Updated :
  • Share this:

    #নয়াদিল্লি: ভারতে আরও একবার দুর্ব্যবহারের শিকার হলেন উত্তর-পূর্বের এক তরুণী ৷ খোদ রাজধানী দিল্লির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিবাসন অফিসারের বিরুদ্ধে এক মণিপুরী মহিলাকে হেনস্থার গুরুতর অভিযোগ উঠল ৷ দিল্লি থেকে সিওলে এক কনফারেন্সে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন মণিকা খানগেমবাম ৷ ইন্দিরা গান্ধি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে ফ্লাইট ধরার আগে এক অভিবাসন অফিসার তাঁকে উদ্দেশ্য করে বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছেন মণিকা ৷

    সিওলের ফ্লাইট ধরতে শনিবার রাত নটা নাগাদ এয়ারপোর্টে পৌঁছান মণিকা খানগেমবাম ৷ ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার সময় অভিবাসন অফিসার তাঁর নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ৷ ফেসবুকে মণিকা নিজের ক্ষোভ উগরে লিখেছেন, ভাল করে তাঁর পাসপোর্ট পরীক্ষা করার পরও অভিবাসন অফিসার প্রশ্ন করেন, ‘দেখে তো ভারতীয় মনে হচ্ছে না ৷’ একরম প্রশ্ন শুনে অপমানিত বোধ করেন মণিকা ৷ কী প্রতিক্রিয়া দেবেন বুঝতে পারেন না তিনি ৷

    তখন তাঁকে অভিবাসন অফিসার বলেন, ‘আপনাকে আপনার নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হবে ৷ বলুন তো ভারতে কটা রাজ্য আছে? মণিপুরের সীমা কোন কোন রাজ্য দিয়ে ঘেরা?’ মণিকার আরও অভিযোগ, তাঁকে এরকম অপমান করা সত্ত্বেও কেউ কোনও প্রতিবাদ করেননি ৷

    উল্টে পাশের ডেস্কে বসা এক মহিলা আধিকারিক এই ঘটনা দেখে হাসছিলেন আর মজা নিচ্ছিলেন ৷ লাঞ্ছিত মণিপুরী তরুণী মণিকা দেরি হয়ে যাওয়ার কথা বলতে ওই অফিসার তাঁকে বলেন, না উত্তর তো আপনাকে দিতেই হবে ৷ ধীরে সুস্থে জবাব দিন, বিমান আপনাকে ছেড়ে যাবে না।

    এই লজ্জাজনক ঘটনার সম্পূর্ণ বিবরণ লিখে তিনি ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন এবং জানতে চান কোথায় অফিসারের এই অপমানের অভিযোগ করলে সাহায্য পাওয়া যাবে ৷

    পোস্টটিতে মণিকা আরও লিখেছেন, এইসব প্রশ্ন শুনে ভীষণ বিরক্ত এবং ক্রুদ্ধ হলেও তখন তিনি প্রতিবাদ করতে পারেননি ৷ ভীষণ অসহায় বোধ করছিলেন ৷ ভয় পেয়েছিলেন কিছু বললে যদি অফিসার তাঁর কাগজপত্র আটকে দেন, তাহলে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাতিল হয়ে যাবে ৷ তবে তিনি দেশে ফিরে বিদেশমন্ত্রকে এব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানাবেন বলে মনস্থ করেছেন ৷

    ফেসবুকে ওই মণিপুরী তরুণীর পোস্টের পরই প্রতিবাদের ঝড় ওঠে ৷ মণিকা খানগেমবামের বাবার ক্ষোভ, ‘তারা উত্তর-পূর্বের বাসিন্দা বলেই তাদের সঙ্গে এই ভেদাভেদ ৷ তরুণীর বাবার সুরেই গর্জে উঠেছেন ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যের আরও অনেক বাসিন্দায় ৷ ভারতীয় হয়েও তাদের উপর বিভিন্ন ক্ষেত্রে এরকম বর্ণবিদ্বেষমূলক আচরণ করা হয় বলে প্রতিবাদ জানিয়েছেন তারা ৷

    ঘটনাটি বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের নজরে এলে তিনি ট্যুইট করে লাঞ্ছিতা মণিকাকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবার আশ্বাস দেন ৷ স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেণ রিজিজু জানিয়েছেন, ‘ঘটনা খতিয়ে দেখে অবশ্যই পদক্ষেপ নেওয়া হবে ৷’

    First published: