বেসুরোদের উপেক্ষা করে কী হবে ভোট কৌশল? শুক্রবার কালীঘাটে বৈঠক মমতার

বেসুরোদের উপেক্ষা করে কী হবে ভোট কৌশল? শুক্রবার কালীঘাটে বৈঠক মমতার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

  • Share this:

#কলকাতা: দলীয় সাংসদ, বিধায়কদের নিয়ে বৈঠকে বসছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। আগামী ২৯ জানুয়ারি কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনেই হবে এই বৈঠক। নির্বাচনের আগে দলীয় কৌশল স্থির করাই এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য়। এর পাশাপাশি বিক্ষুদ্ধদের উদ্দেশেও ফের কড়া বার্তা দিতে পারেন মমতা বন্দোপাধ্যায়।

দলে ক্রমশ বাড়ছে বিক্ষুদ্ধদের সংখ্যা। প্রায় প্রতিদিন কেউ না কেউ বেসুরো হচ্ছেন। এছাড়া অনেকেই দল ছাড়ছেন বা ছাড়বেন এমনটাও শোনা যাচ্ছে। এই অবস্থায় ভোটের আগে দলের রণকৌশল বোঝাতে বৈঠক ডাকলেন খোদ দলনেত্রী। ইতিমধ্যেই বেসুরো'দের উদ্দেশে দলের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি। সোমবার পুরশুড়ার সভা থেকেই জানিয়েছেন, "যাঁরা ছেড়ে যাওয়ার তাঁরা যেতে পারে। ট্রেন ছেড়ে দেবে তাই তাড়াতাড়ি চলে যান। কিন্তু যাঁরা দল ছেড়ে চলে যাচ্ছে তাঁদেরকে আর ফেরানো হবে না।"

মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরেও ক্ষোভ নিরসন হয়নি৷ মঙ্গলবারই দলের একাংশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উত্তরপাড়ার বিধায়ক প্রবীর ঘোষাল। এম নকি দলের দুই পদ থেকেও তিনি ইস্তফা দিয়েছেন। সংবাদমাধ্যমের সামনে জানিয়েছেন, দলে ভাল লোকেরা কাজ করতে পারছেন না। তাঁর এই মন্তব্যের পরে দল তাঁকে শোকজ করেছে। যদিও রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, এরকম মন্তব্য ভোটের আগেও চলতে থাকলে আখেরে ক্ষতি রাজ্যের শাসক দলের।


দল ইতিমধ্যেই আলোচনা বন্ধ করেছে বিক্ষুব্ধ নেতা রাজীব বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে। দূরত্ব বাড়িয়েছে লক্ষীরতন শুক্লার সঙ্গেও। বহিষ্কার করা হয়েছে বৈশালী ডালমিয়াকে। পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে নদিয়ার নেতা পার্থসারথী চট্টোপাধ্যায়কে। এই অবস্থায় দল চাইছে সকলকে একজোট করে বিধানসভা ভোটে লড়ার প্রস্তুতি নিতে হবে। তাই খোদ দলনেত্রী আগামী ২৯ তারিখ দলের পদাধিকারী, সাংসদ, বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করতে চলেছেন।

সূত্রের খবর, একদিকে সেখানে দলের অবস্থান তিনি স্পষ্ট করবেন। অন্যদিকে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার ব্যাপারেও তিনি আদেশ দেবেন।ইতিমধ্যেই দলের কোর কমিটির সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করেছেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। সেখানে দলের ইস্তেহার তৈরি নিয়ে কথা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই জানিয়েছেন পুরশুড়ার সভা থেকে, নির্বাচন এসে গিয়েছে। খুব শীঘ্রই শুরু হয়ে যাবে ভোট প্রক্রিয়া। এই অবস্থায় দলীয় প্রচার, ভোটের ইস্যু আর বেসুরোদের প্রতি বার্তা- এই তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে বৈঠকে।  রাজীব বন্দোপাধ্যায়, প্রবীর ঘোষাল, লক্ষীরতন শুক্লার মতো দলের বিক্ষুব্ধ নেতারা এই বৈঠকে যোগ দেন কিনা। কারণ মন্ত্রিত্ব এবং দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দিলেও তাঁরা এখনও তৃণমূলেই রয়েছেন৷ অমিত শাহের সফর শুরুর আগে সে কারণেও গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে এই বৈঠক।

Abir Ghosal

Published by:Debamoy Ghosh
First published:

লেটেস্ট খবর