Mamata Banerjee: সনিয়ার জায়গায় কি ইউপিএ চেয়ারপার্সন হবেন মমতা? তৈরি হচ্ছে নতুন ছক

Mamata Banerjee: সনিয়ার জায়গায় কি ইউপিএ চেয়ারপার্সন হবেন মমতা? তৈরি হচ্ছে নতুন ছক

মমতাকে ঘিরেই নতুন স্বপ্ন দেখছেন বিরোধী নেতারা৷

সূত্রের খবর, বাংলার ভোটের ফল সামনে আসতেই আসরে নেমে পড়েছেন কংগ্রেসের এক মধ্যস্থতাকারী নেতা৷

  • Share this:

    #কলকাতা: বাংলায় নির্বাচনের ফল ঘোষণা হতেই মোদি বিরোধী মুখ হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জাতীয় স্তরে তুলে ধরতে নতুন ছক তৈরি হচ্ছে৷ সূত্রের খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ইউপিএ চেয়ারপার্সন বা কনভেনার করতে ইতিমধ্যেই তোড়জোড় শুরু হয়েছে৷ এমন কি, এই প্রস্তাবে কংগ্রেস শীর্ষ নেতাদের মতো দলের ২৩ বিদ্রোহী নেতারও সমর্থন রয়েছে বলে খবর৷ বর্তমানে ইউপিএ চেয়ারপার্সন পদে রয়েছেন সনিয়া গান্ধি৷ তবে মমতাকে ঘিরে এই পরিকল্পনা একেবারেই প্রাথমিক স্তরে রয়েছে৷

    সূত্রের খবর, বাংলার ভোটের ফল সামনে আসতেই আসরে নেমে পড়েছেন কংগ্রেসের এক মধ্যস্থতাকারী নেতা৷ তাঁর সৌজন্যেই গত ডিসেম্বর মাসে দলের ২৩ বিদ্রোহী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন সনিয়া গান্ধি৷ আবার এই নেতাই এক সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জাতীয় যুব কংগ্রেসে তুলে ধরেছিলেন৷ সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই ফোন গিয়েছে বিরোধী শিবিরের বেশ কয়েকজন নেতার কাছে৷ কমবেশি সবারই সায় রয়েছে এই প্রস্তাব৷

    এই পরিকল্পনার নেপথ্যে অনেকগুলি দিক আছে৷ একটি দিক হল, রাহুল গান্ধি নিজে কংগ্রেসের রাশ হাতে নিয়ে মমতাকে ইউপিএ-এর হাল ধরতে বলুন৷ কারণ কংগ্রেস ক্রমাগত আত্মসমীক্ষার কথা বললেও বাস্তবে তার জন্য কোনও পদক্ষেপই চোখে পড়েনি৷ যার জেরে ২০১৫ এবং ২০২০-তে দিল্লি, ২০১৯- অন্ধ্র প্রদেশের পর এবার পশ্চিমবঙ্গেও খাতা খুলতে পারল না কংগ্রেস৷

    কংগ্রেসের বিদ্রোহী নেতারাও বুঝতে পারছেন, এই ধরনের বিদ্রোহে আসলে নির্বাচনী লড়াইয়ে দলের বেশি ক্ষতি হচ্ছে৷ তাছাড়া তাঁরা এও মেনে নিচ্ছেন, জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন যুক্তি দিয়ে তোলার ক্ষেত্রে এখনও সনিয়া- রাহুলের বিকল্প নেই৷ আর একটা কারণ হল, এখনও মনমোহন সিং-এর সঙ্গে গান্ধি পরিবারের সুসম্পর্ক৷ প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর প্রতি এখনও অধিকাংশ বিদ্রোহী কংগ্রেস নেতা শ্রদ্ধাশীল৷ ফলে সবমিলিয়ে গান্ধি পরিবারের নেতৃত্বকে অস্বীকার করার উপায় নেই৷ কংগ্রেস নেতাদের একাংশ মনে করেন, ইউপিএ-এর দায়িত্ব মমতার হাতে দেওয়ার বিষয়ে যদি সনিয়া গান্ধির সম্মতি পাওয়া যায়, তাহলে রাহুল গান্ধিকে কংগ্রেস সভাপতি করার চেষ্টা করা যাবে৷

    ২০০৪ সালে কেন্দ্রে মনমোহন সিং সরকার গঠনের পর তৈরি হয়েছিল ইউপিএ৷ কিন্তু ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের কাছে হারের ধাক্কায় কার্যত অকেজো হয়ে গিয়েছে বিজেপি বিরোধী দলগুলির এই জোট৷ ইউপিএ-র কয়েকটি শরিক দল আঞ্চলিক নির্বাচনে জোট বেঁধে লড়লেও জাতীয় স্তরে সক্রিয় ছিল না ইউপিএ৷

    কিন্তু বাংলা ভোটের ফল দেখে বিরোধী নেতারা বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিরোধী জোটকে এক ছাতার তলায় আনতে পারলে জাতীয় স্তরেওও বিজেপি-র বিজয়রথ থামানো সম্ভব৷ বিশেষত বর্তমানে দেশে করোনা পরিস্থিতির কারণে এবং বাংলায় বিপর্যস্ত হওয়ার পর বিজেপি এখন অনেকটাই কোণঠাসা৷ তবে ২০২৪ৃ-এ বিজেপি-কে ধাক্কা দিতে গেলে তার প্রস্তুতি যে এখন থেকেই শুরু করতে হবে, তাও বুঝতে পারছেন বিরোধী নেতারা৷

    মাঝে বেশ কয়েকবার ইউপিএ-এর রাশ হাতে নিতে উদ্যোগী হয়েছিলেন শরদ পাওয়ার৷ কিন্তু রবিবারের পর তাঁর নাম আর কোথা উচ্চারিত হচ্ছে না৷

    Rasheed Kidwai
    Published by:Debamoy Ghosh
    First published:

    লেটেস্ট খবর