• Home
  • »
  • News
  • »
  • national
  • »
  • International Women’s Day 2021: শূন্য থেকে শুরু করে গ্রামের দৃষ্টান্ত মহারাষ্ট্রের শালিনী!

International Women’s Day 2021: শূন্য থেকে শুরু করে গ্রামের দৃষ্টান্ত মহারাষ্ট্রের শালিনী!

International Women’s Day 2021: শূন্য থেকে শুরু করে গ্রামের দৃষ্টান্ত মহারাষ্ট্রের শালিনী!

International Women’s Day 2021: শূন্য থেকে শুরু করে গ্রামের দৃষ্টান্ত মহারাষ্ট্রের শালিনী!

পরিবারের আর্থিক অনটনের কারণে দশম শ্রেণির বেশি লেখাপড়া হয়নি তাঁর। তবু স্বপ্ন দেখা ছাড়েননি এই সাহসী মহিলা।

  • Share this:

#বুধওয়াড়ি: শূন্য থেকে শুরু করে গ্রামের দৃষ্টান্ত শালিনী বিলাস চাভে (Shalini Vilas Chave)। তাঁর কাজের প্রশংসায় মুখরিত সমাজ। আন্তর্জাতিক নারী দিবসে গৃহবধূ থেকে তাঁর কমিউনিটি লিডার হওয়ার যাত্রাকে কুর্নিশ জানাচ্ছে গোটা দেশ।

৪৫ বছরের শালিনি বিলাস চাফে মহারাষ্ট্রের রায়গড় জেলার বুধওয়াড়ির চিকলাপের বাসিন্দা। শৈশব থেকেই নিজেকে তিনি কাজের সঙ্গে জড়িয়ে রাখতে চেয়েছিলেন। এমন কাজ, যা তাঁকে সন্তুষ্টি দেবে এবং সমাজ তথা দেশকে সমৃদ্ধ করবে। শালিনীর সেই স্বপ্ন কার্যত চুরমার হয়ে গিয়েছিল ছোটবেলাতেই। পরিবারের আর্থিক অনটনের কারণে দশম শ্রেণির বেশি লেখাপড়া হয়নি তাঁর। তবু স্বপ্ন দেখা ছাড়েননি এই সাহসী মহিলা।

বিয়ের পর বুধওয়াড়ির চিকলাপ গ্রামে স্বামীর সংসারে এসে ওঠেন শালিনী বিলাস। পর পর তিন সন্তানের মা হওয়া এই মহিলা, স্বামীর উপরে এত বড় পরিবারের সব দায়ভার চাপিয়ে দেওয়াটা অবিচার বলে মনে করেন। ঠিক করে নেন যে তাঁকেও কিছু করতে হবে। এখান থেকেই শুরু হয় শালিনীর নতুন জীবনের খোঁজ। তীব্র জলকষ্টে ভোগা প্রত্যন্ত গ্রামের বাসিন্দা হয়েও প্রায় এক দশক আগে মনের জোরে তিনি নিজের লক্ষ্যের কাছে পৌঁছেও যান।

২০১৪ সালে রনি (Ronnie) ও জরিনা স্ক্রিউওয়ালার (Zarina Screwvala) স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা স্বদেশ ফাউন্ডেশনের (Swadesh Foundation) সঙ্গে যুক্ত হন শালিনী। ধীরে ধীরে নিজস্ব দক্ষতায় তিনি ওই সংস্থার সদস্য হয়ে আইন, অর্থনীতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত স্বনির্ভর কার্যকলাপের প্রশিক্ষণ নিতে থাকেন। দক্ষতার বলে অল্প কিছু দিনের মধ্যেই শালিনী হয়ে ওঠেন কমিউনিটি লিডার। সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর নতুন যাত্রা।

বর্তমানে শালিনী বিলাসের ঘাড়ে অনেক বড় দায়িত্ব। স্বদেশ ফাউন্ডেশনের হয়ে গ্রামের আনাচে-কানাচে ঘুরে মহিলাদের বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠীতে গিয়ে তিনি নানা ধরনের প্রশিক্ষণ দেন। পরিবারের স্বার্থে মহিলাদের আরও স্বনির্ভর হওয়ার নানা পরামর্শও রয়েছে শালিনীর ঝুলিতে। তাই তিনি শুধু ওই গ্রামের নয়, দেশের সামনেও দৃষ্টান্ত। তাঁর কাজের প্রশংসিত হয়েছে প্রশাসনিক স্তরেও।

অন্য দিকে, পরিবার চালাতে আরও বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন শালিনী বিলাস। পরিবারের আর্থিক কষ্ট দূর করতে স্বামীর সঙ্গে ডেয়ারি ব্যবসা শুরু করার কথা ভেবে ফেলেন ৪৫ বছরের গৃহবধূ। সেই মতো ২০১৭ সালে নিজের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা থেকেই ঋণ নেন শালিনী। দু'টি মহিষ কিনে শুরু করেন ফার্ম। অদম্য পরিশ্রমের বলে আজ শালিনী ও তাঁর পরিবার ৬টি মহিষের মালিক। প্রতি দিন ৪৫ থেকে ৫০ লিটার দুধ তাঁরা বাজারে বিক্রি করেন। এই ব্যবসার সূত্রে প্রতি মাসে শালিনীদের রোজগার হয় ১০ হাজার টাকা।

নিজেদের ডেয়ারি ফার্মে এক মহিলা কর্মচারী নিয়োগ করেছেন শালিনী বিলাস চাভে। যিনি আবার আদিবাসী সম্প্রদায়ভূক্ত। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তিনি সমাজের অনগ্রসর শ্রেণির মহিলাদের স্বনির্ভর হওয়ার উৎসাহ জুগিয়েছেন বলে আশা করেন শালিনী। স্বনির্ভরতার পাশাপাশি গ্রামের মহিলাদের স্বাস্থ্য এবং শিক্ষার উপরেও নজর রাখেন শালিনী। অস্মিতা যোজনা (Asmita Yojana) নামের এক স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সভাপতি হিসেবেও কাজ করেন ৪৫ বছরের মহিলা। মাইক্রো বিজনেসের মাধ্যমে গ্রামের দারিদ্র্য দূরীকরণে নানা পদক্ষেপ নিয়ে থাকে ওই সংস্থা।

একাধারে শালিনী দেশের অন্যতম মহিলা বা 'স্বদেশ মিত্র' (Swadesh Mitra) যিনি স্বদেশ ফাউন্ডেশন স্কিমের মাধ্যমে স্বনির্ভর হয়েছেন। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা স্বদেশ ফাউন্ডেশনের সিইও মাঙ্গেশ ওয়াংয়ের (Mangesh Wang) কথায়, পাঁচ থেকে ছয় বছরের মধ্যে দেশের ১০ লক্ষ মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনাই তাঁদের লক্ষ্য। এ কাজে শালিনী বিলাস চাভের মতো যোদ্ধারা বড় ভূমিকা নিতে পারেন বলে মনে করেন ওয়াং।

সম্বিত ঘোষ

Published by:Raima Chakraborty
First published: