করোনাতঙ্কে নাইট কারফিউ জারি হচ্ছে মহারাষ্ট্রে

করোনার জেরে নাইট কারফিউ জারি হচ্ছে মহারাষ্ট্রে৷ মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে সরকারি সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিলেন সোমবার৷

করোনার জেরে নাইট কারফিউ জারি হচ্ছে মহারাষ্ট্রে৷ মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে সরকারি সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিলেন সোমবার৷

  • Share this:

    #মুম্বই: করোনার জেরে নাইট কারফিউ জারি হচ্ছে মহারাষ্ট্রে৷ মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে সরকারি সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিলেন সোমবার৷ ব্রিটেনের করোনাতঙ্ক নতুন করে বিশ্বের বুকে কাঁপুনি ধরিয়ে দিয়েছে৷ মারণ ভাইরাসের নতুন স্ট্রেন (প্রজাতি) যেভাবে সংক্রামিত হচ্ছে তাতে করে ভাবতে বাধ্য হয়েছে ভারতও৷

    দেশের মধ্যে করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ রাজ্যগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল মহারাষ্ট্র। প্রথম ধাপে মুম্বই শহর ছাড়াও বিভিন্ন জেলায় ভাইরাস সংক্রমণ মারাত্মক আকার নিয়েছিল। যদিও সেখানকার পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু কোনওরকম ঝুঁকি নিতে চায় না আরব সাগরের তীরবর্তী রাজ্যটি৷

    এদিন মহারাষ্ট্র সরকার জানিয়েছে যে, সেই রাজ্যের মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের আওতাভুক্ত প্রতিটি জায়গায় নাইট কারফিউ জারি থাকবে৷ মঙ্গলবার অর্থাৎ ২২ ডিসেম্বর থেকে ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই কারফিউ৷ রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত সময় ধার্য করা হয়েছে৷

    যদিও ঠাকরে গতকাল ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে জানান যে, মহারাষ্ট্রে নাইট কারফিউ হবে না৷ আগামী ছ'মাস তাঁর রাজ্যের বাসিন্দাদের মাস্ক ব্যবহার করার পাশপাশি সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি৷ কিন্তু ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিজের সিদ্ধান্ত বদল করলেন ঠাকরে৷

    নাইট কারফিউয়ের পাশাপাশি মহারাষ্ট্র সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, ইউরোপ বা মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলি থেকে যাঁরা আগামিকাল মহারাষ্ট্রে পা রাখবেন, তাঁদের ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক সরকারি কোয়ারেন্টাইনে যেতে হবে৷ মহারাষ্ট্রে আসার পঞ্চম বা সপ্তম দিনে কোভিড-১৯ আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করাতে হবে৷ যাঁরা ইউরোপ বা মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলি বাদে অন্য দেশ থেকে আসবেন, তাঁদের ১৪ দিন ঘরেই নিভৃতবাসে থাকতে হবে৷

    আচমকাই করোনার লাগামছাড়া বৃদ্ধিতে মাথায় হাত ব্রিটেনের। সার্স কোভিড টু-ই এক নতুন জিন গঠন নিয়ে জেটগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। ক্রিসমাসের আগে নতুন কোভিড ঢেউয়ের ভয়ে অস্ট্রিয়া, ইতালি, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে ব্রিটেনের সঙ্গে।

    এই পরিস্থিতিতে বরিস জনসন ক্রিসমাসের মধ্যে নিয়ম শিথিল করার ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। ব্রিটেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবিবারই জানান, ইংল্যান্ডের দক্ষিণাংশে অসম্ভব দ্রুত ছড়াচ্ছে করোনার নতুন স্ট্র্রেইন। স্বাস্থ্যসচিব ম্যাট হ্যানককও আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, দেশের করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ জায়গায় পৌঁছছে।

    নয়া রূপের করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ব্রিটেন থেকে ভারতে আসার সমস্ত বিমান বাতিল করল কেন্দ্র৷ অসামরিক পরিবহণ মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী জানিয়েছেন, ২২ ডিসেম্বর থেকে আপাতত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্রিটেন থেকে ভারতে আসার সমস্ত বিমান বাতিল করা হল ৷ সংক্রমণ রুখতেই এই সিদ্ধান্ত কেন্দ্র আগেই জানিয়েছিল এই নয়া রূপের করোনা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই ৷ তবুও নতুন করে কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ ভারত সরকার ৷

    Published by:Subhapam Saha
    First published: