নির্বাচনে বিজেপিকে দমাতে কংগ্রেসের হাতিয়ার কী ? আজ CWC-র বৈঠকেই চূড়ান্ত হবে রণকৌশল

নির্বাচনে বিজেপিকে দমাতে কংগ্রেসের হাতিয়ার কী ? আজ CWC-র বৈঠকেই চূড়ান্ত হবে রণকৌশল

  • Share this:

    #আহমেদাবাদ: সীমান্ত উত্তেজনা অনেকটাই থিতিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মোদি সরকারকে চেপে ধরতে রাফাল, নোটবাতিল, জিএসটি, কর্মসংস্থানের মতো পুরোন অস্ত্রেই শান দিচ্ছে কংগ্রেস। আজ অর্থাৎ মঙ্গলবার আহমেদাবাদে ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকেই চূড়ান্ত হয়ে যাবে রণকৌশল।

    গুজরাতে সর্দার বল্লভভাই পটেল স্টেডিয়ামে বৈঠক হবে ৷ বৈঠকে থাকবেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধি ৷ সম্ভবত সেই বৈঠকে যোগ দেবেন প্রিয়ঙ্কা গান্ধিও ৷ আজই রাহুলের উপস্থিতিতে কংগ্রেসে যোগ দেবেন গুজরাতের পতিদার আন্দোলনের নেতা হার্দিক পটেল ৷ প্রসঙ্গত, প্রায় ৫৮ বছরের ব্যবধানে ফের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক হতে চলেছে ৷ ১৯৬১ সালে শেষবারের মত এই বৈঠক হয়েছিল ভাবনগরে ৷

    ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে। এবার স্লগ ওভারের লড়াই। বিজেপির এখন অন্যতম মূল অস্ত্র সেনা-সাফল্য ৷ তবে, পাল্টা কংগ্রেসের হাতিয়ার কী ?


    পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, বালাকোটে বায়ুসেনার অভিযানের বিষয়টিকে ভোটের প্রচারে টেনে এনে ডিভিডেন্ড পেতে মরিয়া বিজেপি। সেনার সাফল্যকে হাতিয়ার করেই তারা জাতীয়তাবাদের পালে হাওয়া দিতে চাইছে। বালাকোটে ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন ওঠায় বিরোধীরা খোঁচা দিচ্ছে। পাল্টা হিসেবে নরেন্দ্র মোদি বিরোধীদের গায়ে সেঁটে দিচ্ছেন দেশবিরোধীর তকমা। কিন্তু, সম্প্রতি সর্বভারতীয় একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, বালাকোটে বায়ুসেনার অভিযানের সাফল্যকে পুঁজি করেও কেন্দ্রের সরকার গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় ২৭২টি আসন পাচ্ছে না বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএ। এই সমীক্ষাটি হয় ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে এ মাসের প্রথম সপ্তাহ। অর্থাৎ, যখন দেশ জুড়ে জাতীয়বাদের ঝড় বইছে, সেই পরিস্থিতিতেও সমীক্ষা অনুযায়ী, এনডিএ কিন্তু ২৭২ ছুঁতে পারেনি। পদ্মপালে হাওয়া লাগানো জাতীয়তাবাদের সেই ঝড় এখন অনেকটাই থিতিয়েছে। এখন তাই, পুরোন অস্ত্র রাফালেই শান দিতে চাইছে কংগ্রেস।

    যাকে হাতিয়ার করে মোদির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলা যায় এবং একই সঙ্গে সেনার টাকা ঘনিষ্ঠ শিল্পপতির হাতে তুলে দেওয়ার দাবি করে নরেন্দ্র মোদিকে সেনাবিরোধী হিসেবেও তুলে ধরতে চাইবে কংগ্রেস ।

    এবার ১৮-১৯ বছর বয়সী যাঁরা প্রথমবার ভোট দেবেন, তাঁদের সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি। এই তরুণ প্রজন্মের মন জিততে কংগ্রেসের আরেক হাতিয়ার বেকারত্বের হার বৃদ্ধি ৷

    প্রচারে কংগ্রেস প্রশ্ন তুলবে, যে নরেন্দ্র মোদি বছরে দু'কোটি কর্মসংস্থানের স্বপ্ন দেখিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন, সেই মোদির আমলে কোথায় চাকরি?মোদি সরকারকে আক্রমণ করতে কংগ্রেস অস্ত্র করবে কৃষক-ক্ষোভ, জিএসটি এবং নোটবাতিল ৷

    সর্বভারতীয় এক সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে, এবারের লোকসভা ভোটে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে আঞ্চলিক দলগুলি। সেক্ষেত্রে মোদি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে কংগ্রেস কীভাবে জোটের ঘুঁটি সাজায় তার উপরও অনেক কিছু নির্ভর করছে। দিল্লিতে আম আদমি পার্টি, উত্তরপ্রদেশে এসপি-বিএসপি জোট, এদের সঙ্গে কি শেষমেশ সমঝোতার পথে হাঁটবে কংগ্রেস? কিছুটা কি নরম হবেন রাহুল গান্ধি? মঙ্গলবার কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে এ নিয়েও সিদ্ধান্ত হতে পারে।

    First published: