Lok Sabha Election 2019: এই কারণেই অমিত শাহের উপর এত আস্থা রাখেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

Bangla Editor | News18 Bangla
Updated:May 22, 2019 09:26 PM IST
Lok Sabha Election 2019: এই কারণেই অমিত শাহের উপর এত আস্থা রাখেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি
Bangla Editor | News18 Bangla
Updated:May 22, 2019 09:26 PM IST

#নয়াদিল্লি: ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল আসতে চলেছে ২৩ ও ২৪ মে ৷ বুথ ফেরত সমীক্ষার হিসেব মতোই ক্ষমতায় আসবে এনডিএ নাকি ঘটবে অন্য কোনও ঘটনা, তা জানতে এখনও কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা ৷ তবে এসবের মাঝে একটি বিষয় নিয়েই কোনও সন্দেহ বা প্রশ্নের অবকাশ নেই ৷ তা হল অমিত শাহ ও নরেন্দ্র মোদি জুটি ৷ এদের রাজনীতির জয়-বীরু বলুন বা সচিন-শেহবাগ ৷ এদের একমাত্র প্রতিযোগিতা দিতে পারে লিট্টি-চোখা, ইডলি-সম্বরের মতো জোড়ি ৷ কিন্তু প্রশ্ন হল, কিভাবে মোদির এতটা বিশ্বাস অমিত শাহের উপর ? অনিল রাই তাঁর ‘শ্যাডো পলিটিক্স’ বইয়ে এর রহস্য ফাঁস করেছেন ৷

মোদি-শাহের এমন অসাধারণ জুটি ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের পরই লাইমলাইটে আসে ৷ ২০১৪ সালে বিজেপির অভূতপূর্ব সাফল্যই অমিত শাহের প্রতি মোদির ভরসা বাড়িয়ে তোলে ৷ মোদি-শাহ জুটির ইতিহাস জানতে হলে রাজনীতির পাতায় কিছুটা সময় পিছিয়ে দিতে হবে ৷

২০১৩ সালের জুন মাস শাহ তখন সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড, মোদির পরে দলে দ্বিতীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ৷ বেনারসে ভোটের কাজে গিয়েছিলেন অমিত শাহ ৷ আসলে আরএসএস-এর তরফে শাহের কাঁধে একটা বড় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ৷ ২০১৪ নির্বাচনে বিজেপির তরফে প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য মনোনীত নরেন্দ্র মোদির জন্য উপযুক্ত নির্বাচনী কেন্দ্র খুঁজে বের করার উদ্দেশে উত্তরপ্রদেশে ইলেকশন ট্যুরে বেরিয়েছিলেন শাহ ৷ এমন আসন চাই যেখান থেকে মোদির জয় নিশ্চিত ৷ শাহের স্ট্র্যাটেজিক মস্তিষ্কের সোজাসাপ্টা থিওরি ছিল, উত্তরপ্রদেশে বিজেপির পতাকা ওড়াতে হলে আগে পূর্বাঞ্চলে জিততে হবে ৷ বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ জানতেন, হিন্দুবাদকে হাতিয়ার করে সুবক্তা মোদি ঠিক বেনারসের মন জয় করে ফেলবে ৷

একদিকে উত্তরপ্রদেশে জয়ের ডঙ্কা, অন্যদিকে মোদির ‘বিকাশ পুরুষ’-এর ভাবমূর্তি নুইয়ে পড়া দলকেও নতুন করে উজ্জীবিত করবে ৷ নিজের স্ট্র্যাটেজি দিয়ে গুজরাতে তিন তিনবার কংগ্রেসকে আটকে দলের কাছে নিজের যোগ্যতা ও দক্ষতা ততদিনে অমিত শাহের প্রমাণ করা হয়ে গিয়েছে ৷ সঙ্ঘ ও পার্টি ছাড়াও নিজের ছায়াসঙ্গী অমিত শাহের সিদ্ধান্তের উপর মোদির পূর্ণ আস্থা ছিল ৷ বেনারস বা বারাণসীর ওই কেন্দ্রে থেকে বহুদিন ধরে বিজেপি প্রার্থী ছিলেন প্রবীণ নেতা ৮০ বছরের মুরলী মনোহর যোশী ৷ ২০১৪ নির্বাচনেও ওই আসন থেকেই লড়তে চাইছিলেন যোশি ৷ কিন্তু শাহের পরিকল্পনা ছিল মোদি বারাণসী থেকে জিতেই প্রধানমন্ত্রী হবেন ৷ তাই তিনি যোশির ইচ্ছেকে কোনও গুরুত্ব না দিয়ে সাফ জানিয়ে দেন বারাণসী থেকে প্রার্থী হবেন নরেন্দ্র মোদিই, আর যোশি চাইলে কানপুর কেন্দ্র থেকে লড়তে পারেন ৷ শাহের এমন সিদ্ধান্তে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হন মুরলি মনোহর যোশি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাই হল যা অমিত শাহ চেয়েছিলেন ৷

মোদি আর শাহের এই সম্পর্কের শুরু কোথায়?

Loading...

এই জুটি আজকের নয়, ৩০ বছরের পুরনো ৷ ১৯৮২ সালে সঙ্ঘের এক শাখায় দুজনের দেখা ৷ তখন অমিত শাহের বয়স ১৭ ৷ আর সেসময় নরেন্দ্র মোদি সঙ্ঘের প্রচারক রূপে কাজ করতেন ৷ সঙ্ঘচালক বালাসাহেব দেবড়া যখন মোদিকে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেন, তখন শাহই ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যাকে মোদি এই কথা জানিয়েছিলেন ৷ যোগ্য বন্ধুর মতোই অমিত শাহও মোদিকে রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন ৷ শাহ জানতেন মোদির মাধ্যমেই তিনি নিজের রাজনৈতিক আকাঙ্খা পূর্ণ করতে পারবেন ৷

অমিত শাহের উপর মোদি এত ভরসা কেন করে জানেন?

মোদির জন্য খুব কঠিন সময় ছিল, যখন সাহাবুদ্দিন মামলায় অমিত শাহ জেলে গিয়েছিলেন ৷ সেই সময় গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী মোদি শাহকে জেল থেকে ছাড়াবার জন্য সমস্তরকম চেষ্টা করেছিলেন ৷ সেই সময় মোদির কাছে খবর ছিল কংগ্রেস অমিত শাহের কেসে খোদ নরেন্দ্র মোদিকেই সাক্ষী হিসেবে পেশ করে তাঁর সমস্ত পরিকল্পনায় জল ঢালতে চায় ৷ এই সমস্ত সমস্যায় সেসময় জেরবার হয়ে গিয়েছিলেন ৷ জেলে থাকলেও এই সমস্ত খবরই অমিত শাহের কাছে পৌঁছছিল ৷ মোদির টেনশন কমাতে শাহ জেল থেকে মেসেজ পাঠান, ‘যতই চেষ্টা করুক কংগ্রেস, অমিত শাহকে ভাঙতে পারবে না ৷’

আসলে সাহাবুদ্দিন মামলাই ছিল মোদি ও শাহের বন্ধুত্বের অগ্নিপরীক্ষা ৷ দুজনেই এই খেলার অভিজ্ঞ ও তুখোড় খেলোয়াড় ৷ এই সময়েই শাহ মোদির কাছে নীচের আনুগত্যের চরম প্রমাণ দেন ৷ অন্যদিকে, মোদি এই সময়ের মধ্যেই শাহের অভাব অনুভব করে তাঁর ভবিষ্যত ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন ৷

সাহাবুদ্দিন মামলায় প্রায় তিন মাস জেলে কাটিয়েছিলেন অমিত শাহ ৷ সেসময় উনি প্রচুর বই পড়েন ৷ মনের জোর বাড়াতে মোদির পরামর্শে বিবেকানন্দও পড়েন শাহ ৷ গুরুর প্রতি একজন শিষ্য কিভাবে নিজেকে সমর্পণ করতে পারেন তা বোঝাতেই মোদির এমন পরামর্শ ৷ রামকৃষ্ণ পরমহংসের পায়ে যেমন করে নিজেকে অর্পণ করেছিলেন বিবেকানন্দ ৷

শাহ কেন উত্তরপ্রদেশকে নিজের কর্মভূমি বানিয়েছিলেন?

সাহাবুদ্দিন মামলায় বাজেভাবে ফেঁসে গিয়েছিলেন অমিত শাহ ৷ জামিনের আর্জি নিয়ে শীর্ষ আদালতে আবেদন করেন তিনি ৷ সুপ্রিম কোর্ট জামিন মঞ্জুর করলেও সঙ্গে শর্তও চাপিয়ে দেয় ৷ অমিত শাহের গুজরাত যাওয়ার উপর জারি হয় নিষেধাজ্ঞা ৷ সু্প্রিম কোর্টের এই নির্দেশে বড়সড় ধাক্কা খান মোদি-শাহ ৷ দুজনেই বুঝতে পেরেছিলেন এই সিদ্ধান্তের প্রভাব রাজ্যের কাজকর্মে পড়বে ৷ কিন্তুর মোদির দূরদৃষ্টিতে বদলে যায় সবকিছু ৷ কোর্টের সিদ্ধান্তকে মেনে নিয়ে তাঁকে আর্শীবাদে বদলে দেন তিনি ৷ অমিত শাহ নিজের কর্মভূমি গুজরাত থেকে বিচ্ছেদ মেনে নিতে পারছিলেন না ৷ এমন সময় মোদি শাহকে পরামর্শ দেন পুরনো কর্মভূমির দুঃখ ভুলে উত্তরপ্রদেশের দিকে নজর ঘোরাতে ৷ মোদির কথা অক্ষরে অক্ষরে মেনে নিয়ে কাজ শুরু করে দেন শাহ ৷ নরেন্দ্র মোদি এটা ভালভাবেই জানতেন বিজেপিকে দিল্লি পৌঁছতে হলে উত্তরপ্রদেশের রাস্তা ধরেই যেতে হবে ৷

কী করে বিজেপির অধ্যক্ষ হলেন অমিত শাহ?

২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে দেশ জুড়ে পদ্ম ঝড়ের পরই মোদির শপথ নেওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা ছিল ৷ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরই নিজের সবথেকে বেশি বিশ্বাসভাজন অমিত শাহকে বিজেপির অধ্যক্ষ পদে বসিয়ে দেন নরেন্দ্র মোদি ৷ শাহকে এত গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর সিদ্ধান্তে একের পর এক প্রশ্ন উঠতে থাকে ৷ সাহাবুদ্দিনের ভুয়ো এনকাউন্টারের মামলা ছাড়াও অমিত শাহের বিরুদ্ধে বেঙ্গালুরুর একটি মেয়ের উপরে গোয়েন্দাগিরি করারও অভিযোগ ওঠে ৷ একের পর এক ধামাচাপা পড়া মামলা তুলে এনে শাহের বিরুদ্ধে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতে থাকে ৷ নির্বাচনী ময়দানে অমিত শাহ হলেন মুকুটহীন বাদশা ৷ গুজরাতে মোদির ১২ বছরের মুখ্যমন্ত্রিত্বের সময় শাহ সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন ৷

মোদি ও শাহের সম্পর্কে যারা কাছ থেকে দেখেছেন, তারা বলেন, শাহ মোদিকে একটা বড় ব্র্যান্ড হিসেবে দেখেন এবং নিজেকে তাঁর বিজ্ঞাপনদাতা-প্রচারক মনে করেন ৷ লোককে নিজের কথা দিয়ে কিভাবে প্রভাবিত করতে হয় তা মোদিজি খুব ভালভাবেই জানেন ৷ অন্যদিকে, শাহকে বরাবরই অনুগত সৈনিকের মতো মোদির ছায়াসঙ্গী হিসেবে চলতে দেখা গিয়েছে ৷ কিন্তু ২০১৪ সালের পর এদের সম্পর্কে দৃশ্যপটের পরিবর্তন হয় ৷ এখন মোদি লক্ষ্য দেন ও তা পূরণের দায়িত্ব পড়ে অমিত শাহের উপর ৷ মোদি শাহের সম্পর্ক তাদের সম্বোধনেই স্পষ্ট ৷ অমিত শাহ মোদিকে সাহেব বলে ডাকেন ৷ গুজরাতেও শাহ ক্রিকেট বোর্ডের অধ্যক্ষ পদের নির্বাচনে জিতেছিলেন কিন্তু মোদির জন্য সেই পদ ছেড়ে দেন ৷ শাহকে অনেকেই মজা করে মোদির নাইট চেয়ারম্যান বলেন, যে দরকার পড়লে মোদির জন্য প্রাণত্যাগও করতে পারে ৷

অমিত শাহ জানেন কিভাবে কোনও কথায় মোদিকে সম্মত করাতে হয়

মোদি গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন অমিত শাহই একমাত্র মন্ত্রী ছিলেন যিনি মোদিকে যেকোনও ব্যাপারে সম্মত করাতে পারতেন ৷ বলা হয় গুজরাতে ধর্ম পরিবর্তন সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন নিয়ে মোদিকে রাজি করানোর পিছনে ছিল শাহেরই মস্তিষ্ক ৷

First published: 09:26:47 PM May 22, 2019
পুরো খবর পড়ুন
Loading...
अगली ख़बर