Kunal Ghosh in Tripura: ত্রিপুরায় CPM-র বিকল্প সেই মমতা? কুণাল-বৈঠক সেরে বিস্ফোরণ প্রবাদপ্রতিম বাম নেতার

অজয় বিশ্বাসের বাড়িতে কুণাল

Kunal Ghosh in Tripura: মুখে সৌজন্য সাক্ষাৎ বললেও হঠাৎ কুণাল ঘোষ অজয় বিশ্বাসদের মতো তৃণমূল ও বাম নেতাদের এই যোগাযোগ ও মানিক সরকারের 'নরম' মনোভাব চোখ এড়াচ্ছে না রাজনৈতিক মহলের।

  • Share this:

#আগরতলা: ত্রিপুরায় বিজেপিকে উৎখাত করতে এবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে অল আউট অ্যাটাকে নেমেছে তৃণমূল। অপরদিকে, পাঁচ বছর আগে পর্যন্তও ত্রিপুরার শাসক বামেরাও চাইছে গেরুয়া আধিপত্যের অবসান। আর সেই সূত্রেই উঠে আসছে, তবে কি ২০২৪-এর লোকসভা ভোটে তৃণমূলের সঙ্গে জোটের যে সম্ভাবনা দিন কয়েক আগে উসকে দিয়েছিলেন এ রাজ্যে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, সেই একই ফর্মুলা কি ২০২৩-এ ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনেও ফলতে চলেছে? সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দেননি ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। এ রাজ্যের নির্বাচনী প্রচারে এসেও মানিক বিজেপিকেই প্রধান শত্রু বলে চিহ্নিত করেছিলেন। আর এবার তাঁর নিজের রাজ্য প্রসঙ্গেও তাঁর দাবি, আগামী দিনে দেশের পরিস্থিতি এবং ত্রিপুরার রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর নির্ভর করেই সিদ্ধান্ত নেবে দলীয় নেতৃত্ব। অর্থাৎ সম্ভাবনাটা জিইয়েই রাখলেন মানিক সরকার। আর সম্ভাবনা আরও কয়েক গুণ বেড়ে গেল ত্রিপুরার প্রবাদপ্রতিম বাম নেতা অজয় বিশ্বাসের সঙ্গে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষের সাক্ষাতের কারণে।

এদিনই আগরতলা পৌঁছে অজয় বিশ্বাসের বাড়ি যান কুণাল। দুজনের সাক্ষাতের ছবি দিয়ে ট্যুইটারে কুণাল লেখেন, 'প্রাক্তন সিপিএম সাংসদ ও বিধায়ক, অধুনা পিডিএস রাজ্য সম্পাদক, শিক্ষক ও সরকারি কর্মী সংগঠনের প্রবাদপ্রতিম নেতা অজয় বিশ্বাসের বাড়িতে। সৌজন্য সাক্ষাৎ। ওঁর লেখা "বিচ্যুতি থেকে উত্তরণ" দিলেন। এ রাজ্যের সিপিএমের অন্যতম স্থপতি।' মুখে সৌজন্য সাক্ষাৎ বললেও হঠাৎ তৃণমূল ও বাম নেতাদের এই যোগাযোগ ও মানিক সরকারের 'নরম' মনোভাব চোখ এড়াচ্ছে না রাজনৈতিক মহলের।

এদিকে বুধবার আগরতলায় তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের সঙ্গে বৈঠকের পর ত্রিপুরার প্রাক্তন সিপিএম সাংসদ, বিধায়ক ও শিক্ষক-সরকারি কর্মী সংগঠনের নেতা অজয় বিশ্বাস বলেন, "সিপিএমকে যারা ভরসা করতেন, সেই কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, কর্মচারীরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই নিজেদের বন্ধু ভাবছেন। পশ্চিমবঙ্গে এই কারণে সিপিএম শূন্যে নেমেছে। ত্রিপুরাতেও বামেদের পিছনে ফেলে বিজেপির মোকাবিলায় বিকল্প হিসেবে উঠে আসছে তৃণমূল। বাকিটা মানুষ বিচার করবেন।" রাজ্যে সিপিএমের অন্যতম স্থপতি এখন পার্টি ছেড়ে পিডিএসের সম্পাদক। তাঁর বাড়িতে যান কুণাল। কুণালের সঙ্গে দীর্ঘ কথা হয় অজয়বাবুর। পরে সাংবাদিকদের কুণাল বলেন," সৌজন্যসাক্ষাৎ।" অজয় বিশ্বাস সাংবাদিকদের কাছে সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম আন্দোলনের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিপুল প্রশংসা করেন। আগরতলা বিমানবন্দরে এদিন কুণালকে স্বাগত জানান বিপুল সংখ্যক তৃণমূলকর্মী। দেওয়া হয় মা ত্রিপুরেশ্বরীর ছবি। এরপর দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। নমঃশূদ্র বিকাশ পরিষদের নেতৃবৃন্দ মুকুল বৈরাগ্যর নেতৃত্বে সংগঠিত হন। ত্রিপুরাতেও তাঁদের শাখার বিষয়ে আলোচনা হয়।

প্রসঙ্গত, বাংলার বিধানসভা ভোটে গত আড়াই দশকের বেশি সময় প্রধান শত্রু বলে পরিচিত সিপিএম এবং তৃণমূল। কিন্তু এ বারের নির্বাচনে শূন্য বিধায়ক হয়ে গিয়েছে বামেরা। আর তার জন্য তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে শত্রু নির্বাচনে ভুল থাকাকেও বামেদের ভরাডুবির কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ক্রমেই সর্বভারতীর স্তরে প্রধান মোদি বিরোধী মুখ হয়ে উঠছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরই সম্প্রতি বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু শোরগোল ফেলে বলেছেন, বিজেপি বিরোধী আন্দোলনে যে কারও সঙ্গে জোট বেঁধে কাজ করতে প্রস্তুত বামেরা। এমন মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহল এখন থেকেই বলছে, ২০২৪-এ বিজেপি বিরোধী জোটে যে বামেরা প্রত্যক্ষ ভাবে অংশ নিতে চায় তা-ই আসলে বুঝিয়ে দিতে চেয়েছেন বিমান বসু। আর এই পরিস্থিতিতে ত্রিপুরায় মানিক সরকারও বুঝিয়ে দিয়েছেন, প্রয়োজন জোট হলেও অসুবিধা নেই।

এই পরিস্থিতিতে ত্রিপুরার প্রবাদপ্রতিম বাম নেতার বাড়িতে কুণাল ঘোষের পৌঁছে যাওয়া বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Published by:Suman Biswas
First published: