গোটা দেশের প্রশংসা কুড়নো শৈলজাও বাদ! কেরলের নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে প্রশ্ন

কেরলের প্রাক্তন স্বাস্থ্য়মন্ত্রী কে কে শৈলজা৷

শুধু শৈলজা নন, কেরল সরকারের নতুন মন্ত্রিসভায় মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন ছাড়া বাকি সব মুখই নতুন৷

  • Share this:

    #তিরুবন্তপুরম: করোনা অতিমারি নিয়ন্ত্রণে গোটা দেশের প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন৷ কেরলের সেই প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে কে শৈলজাকে বাদ দিয়েই নতুন মন্ত্রিসভা গড়া হল কেরলে৷ শুধু শৈলজা নন, কেরল সরকারের নতুন মন্ত্রিসভায় মুখ্যমন্ত্রী  পিনারাই বিজয়ন ছাড়া বাকি সব মুখই নতুন৷ মুখ্যমন্ত্রী ছাড়া গত মন্ত্রিসভার কোনও সদস্যই সেখানে জায়গা পাননি৷ কেরলে ক্ষমতায় ফেরা বামেদের এ হেন সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই৷ শৈলজাকে মন্ত্রিসভায় জায়গা না দেওয়া সমালোচনার মুখে পড়েছে সিপিএম-ও৷

    ভারতে প্রথম করোনা আক্রান্তের খোঁজ মিলেছিল কেরলেই৷ তার পর থেকেই করোনা নিয়ন্ত্রণে অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষিকা কে কে শৈলজার ভূমিকা গোটা দেশের নজর কেড়ে নিয়েছিল৷ রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দ্রুত রোগীদের চিহ্নিত করা, পরীক্ষা করা, চিকিৎসা পরিকাঠামো গড়ে তুলতে তৎপর হন তিনি৷ এর আগে ২০১৮ এবং ২০১৯ সালে কেরলে নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণেও প্রশংসনীয় কাজ করেছিলেন শৈলজা৷ অথচ নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি তিনিও৷

    শৈলজা মন্ত্রিসভায় জায়গা না পাওয়ায় অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন৷ তাঁদের মতে, কেরলে বাম গণতান্ত্রিক জোট সরকার ক্ষমতায় ফেরার পিছনে বড় ভূমিকা রয়েছে শৈলজার৷ এবারে  নির্বাচনে মাত্তান্নুর কেন্দ্র থেকে রেকর্ড ৬০ হাজার ভোটের ব্য়বধানে জয়ী হয়েছেন শৈলজা৷ কিন্তু বিজয়নের মন্ত্রিসভায় সিপিএম এবং সিপিআই থেকে সব নতুন মুখকেই সুযোগ দেওয়া হয়েছে৷

    বিতর্কের মুখে সিপিএমের তরফে দাবি করা হয়েছে, নতুন মুখদের জায়গা করে দেওয়াটাই তাদের নীতি৷ শুধুমাত্র মুখ্যমন্ত্রী বিজয়নের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে৷ রাজনৈতিক বিশ্লেষক জে প্রভাসের মতে, পুরনো এবং নতুনদের সংমিশ্রণেই কেরলের নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করা উচিত ছিল৷ আর অবশ্যই তাতে জায়গা পাওয়া উচিত ছিল শৈলজার৷ আগামী ২০ মে কেরলে পিনারাই বিজয়ন সরকার দ্বিতীয় বারের জন্য শপথ নেবে৷ মন্ত্রিসভায় মোট ২১ জন সদস্য থাকছেন৷ তবে কে কোন মন্ত্রকের দায়িত্বে থাকবেন, তা মুখ্যমন্ত্রীই ঠিক করবেন বলে জানিয়েছেন কেরল সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক কে বিজয়রাঘবন৷

    মন্ত্রিসভার ২১ জন সদস্যের মধ্যে বাম গণতান্ত্রিক জোটের সব থেকে বড় শরিক সিপিএম থেকে ১২ জন মন্ত্রী হচ্ছেন৷ দ্বিতীয় বৃহত্তম শরিক হিসেবে চার জন মন্ত্রী হবেন সিপিআই থেকে৷ এ ছাড়াও কেরল কংগ্রেস (এম), জনতা দল (এস) এবং এনসিপি-র থেকে মন্ত্রিসভায় একজন করে প্রতিনিধি থাকবেন৷

    কেরলে এবার ৯৯টি আসনে জয়ী হয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট বা এলডিএফ৷ অন্যদিকে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ জয়ী হয়েছে ৪৪টি আসনে৷ বিজেপি-র নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট এবার কেরলে খাতাই খুলতে পারেনি৷

    Published by:Debamoy Ghosh
    First published: