জাতীয় কৃষক দিবস ২০২০: কেন এই দিনটিতেই কৃষক দিবস পালিত হয়? জেনে নেওয়া যাক

জাতীয় কৃষক দিবস ২০২০: কেন এই দিনটিতেই কৃষক দিবস পালিত হয়? জেনে নেওয়া যাক

Representational Image

কৃষকরা দেশের মেরুদণ্ড। তাঁরা না ফসল ফলালে আজ দেশ এই পর্যায়ে এসে দাঁড়াত না। অন্য কাজের বদলে আমাদের ফসল ফলাতে হত। সামান্য অর্থের বিনিময়ে যাঁরা আমাদের এত বড়, সব চেয়ে মূল্যবান পরিষেবা দিয়ে থাকেন, তাঁদের অনেক সময়েই অবহেলায় থাকতে হয়।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: আমাদের মুখে অন্ন তুলে দিতে দিন-রাত এক করে পরিশ্রম করেন তাঁরা। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফসল ফলান। এক একটা সবজি বা ফসল তাঁদের কাছে নিজের সন্তানের মতো। ইন্ডিয়ান ডিশ থেকে ওয়েস্টার্ন বা কনটিনেন্টাল, আমরা যা-ই খেয়ে থাকি না কেন, তার মূল ভিত তৈরি করে দেন আমাদের কৃষকরা। তাঁদের জন্যই আমরা ভালো–মন্দ খেতে পারি। কিন্তু আমাদের অন্নের জোগাড় করতে গিয়ে অনেক সময়ে তাঁদেরই দু’‌মুঠো ভাত জোটে না। তবুও নিজের কাজ চালিয়ে যান তাঁরা। সেই কৃষকদের আজ ধন্যবাদ জানানোর দিন। ২৩ ডিসেম্বর, গোটা দেশে পালন করা হয় জাতীয় কৃষক দিবস (National Farmers' Day)।

কৃষকরা দেশের মেরুদণ্ড। তাঁরা না ফসল ফলালে আজ দেশ এই পর্যায়ে এসে দাঁড়াত না। অন্য কাজের বদলে আমাদের ফসল ফলাতে হত। সামান্য অর্থের বিনিময়ে যাঁরা আমাদের এত বড়, সব চেয়ে মূল্যবান পরিষেবা দিয়ে থাকেন, তাঁদের অনেক সময়েই অবহেলায় থাকতে হয়। কৃষক বা চাষির ঘরের ছেলে-মেয়েরা আর পাঁচটা আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল পরিবারের মতো বড় হয় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অভাবেই সংসার চলে এঁদের। এই ফসল ফলানো বা চাষির শ্রমের পিছনে অনেক কষ্ট, অনেক স্ট্রাগল থাকে, যা হয় তো জানাই যায় না। এই নেপথ্যে থাকা নায়কদের আজ কুর্নিশ জানানোর দিন।

এই দিনই কেন কৃষক দিবস পালিত হয়?

বছরের প্রত্যেকটা দিনই কৃষকরা কাজ করেন। তাঁদের লাঙলের ফলা থামে না কখনও। কিন্তু আজকের দিনেই কেন কৃষক দিবস পালন করা হয়? আজ দেশের পঞ্চম প্রধানমন্ত্রী চৌধুরি চরণ সিং (Chaudhary Charan Singh)-এর জন্মদিন। তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দেশের কৃষকদের জন্য একাধিক কাজ করেছিলেন। কৃষক সুবিধার্তে একাধিক পদক্ষেপ করেছিলেন। দেশের অন্যান্য বিষয় তিনি যতটা গুরুত্ব দিয়ে দেখতেন, তাঁর আমলে কৃষকদের দিকটাও একই ভাবে গুরুত্ব পেত।

খুব অল্প দিনের জন্য প্রধানমন্ত্রী পদে ছিলেন চৌধুরি চরণ সিং। ওই অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি কৃষকদের জন্য শুধু সুবিধে করে দেওয়া নয়, একাধিক প্রকল্পও শুরু করেছিলেন। ২০০১ সালে কৃষকদের জন্য বানিয়েছিলেন একাধিক স্কিম। তার আগে ১৯৫২ সালে কৃষি মন্ত্রী থাকাকালীন তিনি কৃষি ক্ষেত্রে জমিদারি প্রথা বিলোপ করেন। ১৯৫৩ সালে এই সংক্রান্ত একটি আইনও পাশ করান। ফলে তাঁর জন্মদিনটিকে কৃষক দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

কৃষক দিবসের তাৎপর্য

কৃষকদের সম্মান জানাতে, তাঁদের কাজকে সকলের সামনে তুলে ধরতে ও তাঁরা কী ভাবে দেশের মানুষের জন্য পরিশ্রম করেন, তা সকলের মাঝে প্রচার করতে আজকের এই দিনটি পালন করা হয়। পাশাপাশি এই দিন চৌধুরি চরণ সিং ১৯৭৮ সালে কিষান ট্রাস্টও বানান, ফলে এই দিনের তাৎপর্য কৃষক দিবস হিসেবে আরও বেড়ে যায়।

কৃষক দিবসের ইতিহাস

২০০১ সাল থেকে আজকের দিনটিকে অর্থাৎ চৌধুরি চরণ সিংয়ের জন্মদিনটিকে কৃষক দিবস বা কিষান দিবস (National Famers Day) হিসেবে পালনের কথা ঘোষণা করা হয়। তার পর থেকে আজকের দিনটিকে কৃষক দিবস হিসেবে পালন করে আসছে দেশ।

আজ সকাল থেকেই কৃষক দিবস (National Famers Day) উপলক্ষ্যে ট্যুইটার (Twitter)-এ একাধিক ট্যুইট করতে শুরু করেন নেটিজেনদের একাংশ। বাদ যায়নি বড় বড় বহুজাতিক সংস্থাও। কৃষকদের সম্মান জানিয়ে বিজ্ঞাপন, ছোট ছোট ভিডিও পোস্ট করতে থাকেন তাঁরা।

দিল্লি সীমান্তে যখন নয়া কৃষি আইন নিয়ে আন্দোলনে রত দেশের হাজার হাজার কৃষক, তখন আজকের দিনটিতে অনেকেই আলাদা করে তাঁদের গুরুত্ব সামনে তুলে আনার চেষ্টা করেন। তাঁদের আন্দোলন, তাঁদের দাবি-দাওয়াকে ভেবে দেখার কথাও ট্যুইটার-এ উঠে আসে!

Published by:Siddhartha Sarkar
First published: