সন্তানদের চিকিৎসা করাতে অঙ্গ বেচতে চান মা! অসহায় পরিবারের সাহায্যে কেরল সরকার

সন্তানদের চিকিৎসা করাতে অঙ্গ বেচতে চান মা! অসহায় পরিবারের সাহায্যে কেরল সরকার

প্রতীকী ছবি৷

সংবাদমাধ্যমে এই মহিলার কথা প্রচারিত হওয়ার পরই স্থানীয় ভারাপুজা পঞ্চায়েত থেকে আধিকারিক এবং পুলিশ এসে ওই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে৷

  • Share this:

    #কোচি: সন্তানদের চিকিৎসায় বিপুল অর্থের প্রয়োজন৷ তাই নিজের হৃদযন্ত্র সহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ বিক্রি করতে চেয়েছিলেন মা৷ রাস্তার পাশে পাঁচ সন্তানকে নিয়ে তাঁবু খাঁটিয়ে বিজ্ঞাপনও দিয়েছিলেন তিনি৷ শেষ পর্যন্ত ওই মহিলার দুরবস্থার কথা জানতে পেরে তাঁর সাহায্যে এগিয়ে এল কেরল প্রশাসন৷ মহিলা এবং তাঁর পরিবারকে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এক বিধায়কও৷

    কোচির বাসিন্দা সাঁথি নামে ওই মহিলা তাঁর চার ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে রবিবার রাতে নিজেদের ভাড়া বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে আসেন৷ এর পর মালাভুকড় এলাকার ব্যস্ত কন্টেনার রোডের পাশে তাঁবু খাঁটিয়ে থাকতে শুরু করেন তাঁরা৷ তাঁবুর পাশেই একটি প্ল্যাকার্ডে নিজের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ বিক্রি করতে চেয়ে বিজ্ঞাপন দেন ওই মহিলা৷ সন্তানদের চিকিৎসার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ দেনা শোধ করতেই এই সিদ্ধান্ত নেন বলে দাবি করেছেন ৪৪ বছরের সাঁথি৷

    তিনি জানিয়েছেন, পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী তাঁর বড় ছেলে গত বছরের জুলাই মাসে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে৷ রাস্তার সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকার সময় একটি মোটরবাইক এসে তাঁকে ধাক্কা মারে৷ সেই দুর্ঘটনায় তাঁর মাথা এবং পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে৷ প্রচুর টাকা ধার করে চিকিৎসার পরেও ওই মহিলার বড় ছেলে এখনও সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেনি৷ তার উপর ২০১৩ সালে অন্য একটি দুর্ঘটনায় আহত তাঁর মেয়ের মাথায় এবং চোখের অস্ত্রোপচার প্রয়োজন৷ সাঁথির ২৩ বছর বয়সি মেজ ছেলেও অসুস্থ৷ ফলে ওই যুবকও কাজ করতে পারেন না৷ তাঁর বাকি দুই ছেলের মধ্যে একজন পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছে, অন্যজন একাদশ শ্রেণির পড়ুয়া৷ ফলে বাধ্য হয়েই নিজের অঙ্গ বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন তিনি৷

    সংবাদমাধ্যমে এই মহিলার কথা প্রচারিত হওয়ার পরই স্থানীয় ভারাপুজা পঞ্চায়েত থেকে আধিকারিক এবং পুলিশ এসে ওই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে৷ তাঁদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে রাখা হয়েছে৷ যদিও প্রাথমিক ভাবে এই প্রস্তাবে রাজি ছিলেন না ওই মহিলা৷ তাঁর অভিযোগ সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিলেও প্রশাসন তা শেষ পর্যন্ত রাখে না৷

    ওই মহিলা জানিয়েছেন, সবথেকে ছোট সন্তানের জন্ম দেওয়ার আগেই তাঁকে ছেড়ে চলে যান তাঁর স্বামী৷ প্রথমে ড্রাইভার হিসেবে কাজ করে সংসার চালালেও পরে সন্তানদের দেখাশোনা করার জন্য সেই কাজ ছেড়ে দেন সাঁথি৷ তবে তিনি জানিয়েছেন, রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে কে শৈলজা তাঁকে ফোন করে সন্তানদের চিকিৎসার জন্য যাবতীয় সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন৷ পাশাপাশি রাজ্যের কংগ্রেস বিধায়ক সথীশনও সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন৷ সোমবার ওই পরিবারটিকে তাঁদের ভাড়া বাড়িতেও ফিরিয়ে আনা হয়৷ স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তাঁরা সবাই মিলে বাড়ি ভাড়া জোগাড় করে দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন৷

    Published by:Debamoy Ghosh
    First published: