অতিমারি ও লকডাউনে পথের অভুক্ত সারমেয়দের ত্রাতা এই পুলিশ আধিকারিক

ছবি-ফেসবুক

অতিমারিতে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মুখেরই বড় অভাব । পথের কুকুরদের দেখভাল আর কে করবে ? এই আশঙ্কার উত্তর কেরলের পুলিশ আধিকারিক সুব্রমনিয়ম পট্টি এস . নেমোম থানার এই সাব ইন্সপেক্টর প্রতিদিন খাওয়াচ্ছেন স্থানীয় কুকুরদের ।

  • Share this:

    ত্রিচূড়: করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে রাস্তার পাশে বিভিন্ন খাবারের দোকান এবং হোটেলের ব্যবসা এখন ধুঁকছে।. তাদের এই অবস্থার প্রভাব পড়েছে রাস্তার কুকুরদের উপরেও । মূলত পথের ধারের এই ছোটখাটো হোটেলে আসা ক্রেতাদের দেওয়া খাবারই তাদের বেঁচে খাকার ভরসা। এই অবস্থায় খাবারের অভাবে করুণ অবস্থা পথের সারমেয়দের।

    অতিমারিতে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মুখেরই বড় অভাব । পথের কুকুরদের দেখভাল আর কে করবে ?  এই আশঙ্কার উত্তর কেরলের পুলিশ আধিকারিক সুব্রমনিয়ম পট্টি এস . নেমোম থানার এই সাব ইন্সপেক্টর প্রতিদিন খাওয়াচ্ছেন স্থানীয় কুকুরদের ।

    তিনি রোজ ভেল্লাইয়ানাই হ্রদের কাছে যান কুকুরদের খাওয়াতে ।প্রাণীগুলির খাওয়া সম্পূর্ণ হলে ওই এসআই নিজের দায়িত্বে পুরো জায়গাটি পরিষ্কার করে দেন । নেড়ুমঙ্গড় এলাকার বাসিন্দা এই আধিকারিক জানিয়েছেন, মাস দুয়েক আগে তাঁর ডিউটিতে রাতে টহল দেওয়ার সময় কিছু পথকুকুরকে দেখে তার অভুক্ত এবং দুর্বল মনে হয়েছিল । পরের দিন থেকেই তিনি তাদের খাওয়ানোর বন্দোবস্ত করেন ।

    তিনি ছুটিতে থাকলেও যাতে এই নিরীহ প্রাণগুলির খাবারের অসুবিধে না হয়। তাঁর ব্যবস্থাও করেছেন তিনি । দায়িত্ব ভাগ করে দিযেছেন কিছু সহকর্মীকে । পশুপ্রেমী এই সাব ইন্সপেক্টর নিজে নিরামিষাশী । তাঁর বাড়িতে আমিষ রান্নাও হয় না।  কিন্তু কুকুরগুলির জন্য ধোসা বা পরোটার সঙ্গে কিনে আনেন মাংস ।

    তাঁরা বাড়ির চারপাশে থাকা পথপশুদের জন্যও খাবারের ব্যবস্থা করেন তিনি । এ কাজে তাঁকে সাহায্য করেন স্ত্রী এবং সন্তানেরা । পশু বলে তারা উচ্ছিষ্ট খাবে, মানুষের তৈরি এ নিয়ম তাঁর পছন্দ নয়।. তাই সবসময় তিনি ওদের জন্য আলাদা করে খাবার কেনেন ।

    পরিচিত মহলের পাশাপাশি নেটজগতেও তাঁর কাজ প্রশংসিত হয়েছে ।সুব্রমনিয়ম চান, তাঁকে দেখে অনুপ্রাণিত হোক অন্যরাও । তাঁর প্রশ্ন, আমরা যদি চেষ্টা না করি, তবে এই অবলা প্রাণীদের কে দেখবে ?

    Published by:Arpita Roy Chowdhury
    First published: