‘দিল্লি পুলিশ উপর মহলের নির্দেশের অপেক্ষায় বসেছিল, তাই গোলমাল বেড়েছে’: কেজরিওয়াল

‘দিল্লি পুলিশ উপর মহলের নির্দেশের অপেক্ষায় বসেছিল, তাই গোলমাল বেড়েছে’: কেজরিওয়াল

দিল্লিতে শান্তি ফেরাতে আজ বৈঠকে বসেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল৷

  • Share this:

#নয়া দিল্লি: দিল্লিতে শান্তি ফেরাতে আজ বৈঠকে বসেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল৷ বৈঠকে ছিলেন স্বরাষ্ট্র সচিব, দিল্লির পুলিশ কমিশনার সহ উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা৷ সেখানেই শান্তি ফেরাতে বেশ কয়েকটি বিষয় উঠে আলোচনায় উঠে এসেছে৷ তবে দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন কেজরিওয়াল৷

মঙ্গলবার দুপুর বারোটার সময় অমিত শাহ ও কেজরিওয়ালের মধ্যে বৈঠক শুরু হয়৷ বৈঠক শেষে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, আলোচনা সদর্থক হয়েছে৷ সমস্ত রাজনৈতিক দল একসঙ্গে দিল্লিতে শান্তি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবে৷ তবে পুলিশ তার যথেষ্ট দায়িত্ব পালন করেনি৷ তাঁরা অপেক্ষা করছিল কখন তাঁদের উপর মহলের লোকেরা নির্দেশ দেবেন৷ হাতে লাঠি, গুলি, টিয়ার গ্যাস থাকা সত্ত্বেও তাঁরা চুপ করে দাঁড়িয়ে ছিলেন৷ পুলিশ জানিয়েছে, বাইরে থেকে লোক এসে দিল্লিতে ঝামেলা পাকাচ্ছে৷ তাহলে তো দিল্লির সীমান্ত বন্ধ করে দিতে হয়৷ আর পুলিশ যদি যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তাহলে সেনাও নামাতে পরে প্রশাসন৷ কিন্তু পরিস্থিতি যেভাবে হোক নিয়ন্ত্রণ করতে হবে৷’

পরে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, বিধায়কদের নেতৃত্বে এলাকা ভিত্তিক শান্তি কমিটি তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বৈঠকে৷ এই কমিটির সদস্যরা এলাকার মানুষের মধ্যে গিয়ে গিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাবে৷ এছাড়া য়াতে গুজব না ছড়ায়, আর ভুয়ো খবর ছড়িয়ে যাতে কেউ অশান্তি না ছড়াতে পারে, সেই বিষয়টিও মাথায় রাখবে প্রশাসন৷ এরপর আলাদা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আলোচনায় বসেন স্বরাষ্ট্র সচিব, গোয়েন্দা প্রধান ও দিল্লির পুলিশ কমিশনারের সঙ্গেও আলোচনায় বসেন৷ উত্তর পূর্ব দিল্লিতে ছড়িয়ে পড়া অশান্তি নিয়ে সেখানে বিস্তারিত আলোচনা হয়৷ মূলত গুজব কীভাবে আটকানো যায়, আর যাতে অশান্তি না ছড়ায় সেই বিষয়ে এই বৈঠকে আলোচনা হয়৷ এছাড়া পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে যাতে যথেষ্ট যোগাযোগ রেখে কাজ করা হয়, সেই বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে৷

সকাল থেকেই খবর পাওয়া গিয়েছে, নতুন করে ঝামেলা শুরু হয়েছে একাধিক এলাকায়৷ দুপুর দুটো পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ১৮ বার দমকলে খবর দেওয়া হয়েছে বলে খবর মিলেছে৷ মার খেতে হয়েছে সাংবাদিকদেরও৷ তাদের হাত থেকে জোর করে ক্যামেরা কেড়ে আক্রমণকারীদের ভিডিও ডিলিট করতে বলা হয়েছে৷ ঘটনার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শাহিনবাগে সিএএ ও এনআরসি বিরোধী আন্দোলনে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থানরত মহিলারা৷ তাঁরা শান্তি বজায় রাখার আবেদন করেছেন৷ এছাড়া, আগামীকাল সুপ্রিম কোর্ট এই হিংসা নিয়ে একাধিক মামলার শুনানি শুরু করবে বলেও জানিয়েছে৷

বৈঠক সেরে, কেজরিওয়াল আহতদের দেখতে গিয়েছেন জিটিবি হাসপাতালে৷ কেজরিওয়ালের সঙ্গে সুর মিলিয়ে দিল্লিতে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছেন দিল্লির এলজি অনিল বৈজল৷ কিন্তু এত আয়োজনেও শেষ পর্যন্ত কোনও লাভ হয়নি৷ দুপুরের পর থেকে খবর পাওয়া গিয়েছে কারদামপুরিতে নতুন করে গোলাগুলির খবর পাওয়া গিয়েছে৷ খবর পাওয়া গিয়েছে, মৌজপুরেও গুলি চলেছে৷ তাতে এক সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলে খবর৷

First published: February 25, 2020, 4:09 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर