দেশ

?>
corona virus btn
corona virus btn
Loading

কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের খননকার্যে উদ্ধার বহু প্রাচীন এক মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ, রয়েছে সুরঙ্গও

কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের খননকার্যে উদ্ধার বহু প্রাচীন এক মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ, রয়েছে সুরঙ্গও

খননকার্য চলাকালীন আচমকাই বিশ্বনাথ মন্দির চত্বরে আবিষ্কার হয় ১৬ শতকের প্রাচীন এক মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ

  • Share this:

#উত্তরপ্রদেশ: চলছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ড্রিম প্রোজেক্ট কাশী বিশ্বনাথ করিডর প্রকল্প! এই করিডর তৈরি হয়ে গেলে ভক্তরা গঙ্গা স্নানের পর সরাসরি বিশ্বনাথের দরবারে প্রবেশ করতে পারবেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে খননকার্য চলাকালীন আচমকাই বিশ্বনাথ মন্দির চত্বরে আবিষ্কার হয় ১৬ শতকের প্রাচীন এক মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ! মিলেছে একটি সুরঙ্গেরও হদিশ।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার কাশীবিশ্বনাথ মন্দিরের পশ্চিমদিকে জ্ঞানভারিদ ময়দানের শ্রিঙ্গার গৌরি মন্দিরে বুলডোজার দিয়ে খননকার্য চলছিল। সেই সময়ই শ্রমিকেরা মাটির নীচে বহু প্রাচীন একটি সুরঙ্গ আবিষ্কার করেন। তড়িঘড়ি কাজ থামিয়ে দেওয়া হয়। খবর দেওয়া হয় মন্দির কর্তৃপক্ষকে। কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের প্রধান একসিকিউটিভ অফিসার গৌরাঙ্গ রথি জানান, খননকার্য চলাকালীন নলেজ গ্রাউন্ডে প্রাচীন মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ মেলে। BHU ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের বিশেষজ্ঞদের খবর দেওয়া হয়েছে।

কাশী বিশ্বনাথ করিডর ৬০০ কোটি টাকার প্রকল্প। গঙ্গায় ললিতা ঘাট-জলসেন ঘাট থেকে সরাসরি কাশী বিশ্বনাথ মন্দির। করিডরের মধ্যে থাকবে নানা মন্দির, সংগ্রহশালা। তীর্থযাত্রীরা দেখবেন কাশীর সমাজ-সংস্কৃতির ইতিহাস।

শিবপুরাণ অনুসারে, একবার সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মা ও রক্ষাকর্তা বিষ্ণু তাদের মধ্যে কে শ্রেষ্ঠ তা নিয়ে বিবাদ শুরু করেন। তাঁদের পরীক্ষা করার জন্য শিব ত্রিভুবনকে ভেদ করে জ্যোতির্লিঙ্গ নামে এক বিশাল অন্তহীন আলোকস্তম্ভ রূপে আবির্ভূত হন। বিষ্ণু ও ব্রহ্মা এই লিঙ্গের উৎস অনুসন্ধান করতে যান। ব্রহ্মা যান উপর দিকে এবং বিষ্ণু নামেন নীচের দিকে। কিন্তু তাঁরা কেউই এই লিঙ্গের উৎস খুঁজে পাননা। ব্রহ্মা মিথ্যা বলেন যে তিনি উৎসটি খুঁজে পেয়েছেন। কিন্তু বিষ্ণু তার পরাজয় স্বীকার করে নেন। শিব তখন একটি দ্বিতীয় জ্যোতির্লিঙ্গ রূপে আবির্ভূত হয়ে মিথ্যা বলার জন্য ব্রহ্মাকে শাপ দেন, কোনও অনুষ্ঠানে স্থান হবে না ব্রহ্মার। অন্যদিকে সত্যি বলার জন্য মহাদেব বিষ্ণুকে আশীর্বাদ করেন, সৃষ্টির অন্তিমকাল পর্যন্ত তিনি পূজিত হবেন। জ্যোতির্লিঙ্গ হল সেই অখণ্ড সর্বোচ্চ সত্যের প্রতীক, যার অংশ শিব নিজে।

হিন্দু বিশ্বাস অনুসারে, জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দিরগুলিতে শিব স্বয়ং অগ্নিময় আলোকস্তম্ভ রূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন। প্রত্যেক জ্যোতির্লিঙ্গের নির্দিষ্ট নাম আছে – এগুলি শিবের এক এক রূপ। প্রতিটি মন্দিরেই শিবলিঙ্গ শিবের অনন্ত প্রকৃতির প্রতীক এক আদি ও অন্তহীন স্তম্ভের প্রতিনিধিত্ব করে। বারোটি জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দির হল গুজরাতের সোমনাথ, অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীশৈলমের মল্লিকার্জুন, মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীর মহাকালেশ্বর, মধ্যপ্রদেশের ওঙ্কারেশ্বর, হিমালয়ের কেদারনাথ, মহারাষ্ট্রের ভীমশংকর, উত্তরপ্রদেশের বারাণসীর বিশ্বনাথ, মহারাষ্ট্রের ত্র্যম্বকেশ্বর, ঝাড়খণ্ডের দেওঘরের বৈদ্যনাথ, গুজরাতের দ্বারকায় নাগেশ্বর, তামিলনাড়ুর রামেশ্বরমের রামেশ্বর এবং মহারাষ্ট্রের আওরঙ্গাবাদের ঘৃষ্ণেরশ্বর। কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের কাছে মণিকর্ণিকা ঘাট শাক্তদের পবিত্র তীর্থ অন্যতম শক্তিপীঠ। কথিত আছে, সতীর দেহত্যাগের পর শিব মণিকর্ণিকা ঘাট দিয়ে কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরে এসেছিলেন।

Published by: Rukmini Mazumder
First published: September 5, 2020, 6:13 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर