corona virus btn
corona virus btn
Loading

রাজ্যে ফুটল পদ্মফুল, বঙ্গে বিজেপির রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতার নেপথ্যে অমিত শাহের আরও এক কাণ্ডারী

রাজ্যে ফুটল পদ্মফুল, বঙ্গে বিজেপির রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতার নেপথ্যে অমিত শাহের আরও এক কাণ্ডারী
  • Share this:

২০১৪ সালে হিন্দি বলয়ের হাত ধরে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে কেন্দ্রে সরকার গড়েছিল বিজেপি। ২০১৯ লোকসভা ভোটের আগে পাখির চোখ ছিল পূর্বের রাজ্যগুলি । পূর্বের রাজ্যগুলির মধ্যে পশ্চিমবঙ্গকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়েছিল বিজেপি নেতৃত্ব যার প্রতিফলন বুথ ফেরত সমীক্ষা ও আজকের ফলেও স্পষ্ট । ধুয়ে মুছে সাফ বামেদের অস্তিত্ব, কংগ্রেসের অস্তিত্বও খুব একটা নেই- সেই জায়গায় রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি ।

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মতান্তরের জেরে দল ছাড়েন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক মুকুল রায় । ২০১৭ সালে অরুণ জেটলি ও কৈলাস বিজয়বর্গীয়র সঙ্গে দেখা করে বিজেপিতে যোগদান করার সিদ্ধান্ত নেন মুকুল। বাংলায় ভোটব্যাঙ্কের জটিল অঙ্কের সমাধান করার কৃতীত্ব যদি মুকুল রায়ের সেক্ষেত্রে দলের দলীয় বিভাজনগুলিকে একত্র করে রাজ্যে বিজেপির সংগঠনকে আরও দ্রঢ় করার কৃতীত্ব রাজ্য বিজেপির পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়র।

২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে ২৯১টি আসনে লড়েছিল বিজেপি যার মধ্যে মাত্র ৩টি আসনে জয়ী হয়েছিল বিজেপি । ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের ৪টি আসনের মধ্যে মাত্র ২টি যায় বিজেপির দখলে। ২০১৯ এ বদলে গিয়েছে চিত্র । রাজ্যে ইতিমধ্যেই ১৩টি আসনে জয়ী হয়েছে বিজেপি যার অনেকগুলির কারণের মধ্যে অবশ্যই রয়েছে বিজেপির সাংগঠনিক দৃঢ়করণ ।

কে এই কৈলাস বিজয়বর্গীয়?

রাহুল সিনহা ও সিদ্ধার্থ নাথ সিংয়ের নেতৃত্বে আশানুরূপ সাফল্য লাভে ব্যর্থ হয়েছিল বঙ্গ বিজেপি। এরপরই দলে রদবদল করতে তোড়জোড় শুরু হয় জাতীয় স্তরে ।

[caption id="attachment_233795" align="alignnone" width="875"]File Photo

ইন্দোরের বিজেপি নেতা, কৈলাস বিজয়বর্গীয় ৬ বারের বিধায়ক । হরিয়ানা বিধানসভা নির্বাচনেও পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন বিজয়বর্গীয় ও এই নির্বাচনে ৫২% ভোট পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠন করেছিল বিজেপি । নিজের রাজনৈতিক দক্ষতার পরিচয় দিয়ে বরাবরই অমিত শাহের গুডবুকে ছিলেন বিজয়বর্গীয় । ২০১৫ সালে সিদ্ধার্থ নাথ সিংয়ের পরিবর্তে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির পর্যবেক্ষক হিসেবে নিযুক্ত করা হয় বিজয়বর্গীয়কে; রাজ্যে তখন বিজেপির অবস্থা শোচনীয় ।

বিজেপির 'মিশন বেঙ্গল' পরিকল্পনার জন্য বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের নিজের বেছে নেওয়া কাণ্ডারীদের মধ্যে অন্যতম বিজয়বর্গীয় । নিশীথ প্রামাণিক, জন বার্লা, অনুপম হাজরা- একের পর এক বিক্ষুব্ধ নেতারা স্থান পেয়েছেন বিজেপিতে ও এর অনেকটাই বিজয়বর্গীয়র হাত ধরে ।

বিজেপির সমর্থন ভিত্তির অনেকটাই দাঁড়িয়ে রয়েছে হিন্দুত্ববাদী নীতি ও ক্রিয়াকলাপের উপর । অসমের নাগরিকপঞ্জির সময়ই জাতীয় নেতৃত্বের শুরেই বিজয়বর্গীয় স্পষ্টভাবেই জানিয়ে দিয়েছিলেন 'বিজেপি বাংলায় এলে এখানেও নাগরিকপঞ্জি হবে'।লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির নির্বাচনী প্রচারেরও অন্যতম বিষয় ছিল নাগরিকপঞ্জি ও অনুপ্রবেশকারী ইস্যু ।

বিজেপি-আরএসএসকে সঙ্ঘবদ্ধ করেই বাংলায় বিজেপিকে একক রাজনৈতিক দল হিসেবে গড়ে তোলার জন্য নিরলস প্রচার চালিয়ে গিয়েছেন বিজয়বর্গীয় । অনুপ্রবেশকারী দ্বন্দ্ব, রাজনতিক দলবদলের সঙ্গে রাজ্যের অন্যান্য ইস্যুগুলিকে নিজেদের জন্য ইতিবাচক সূচকে পরিণত করার দায়িত্ব নিয়েছিল আরএসএস আর এই হিন্দুত্ববাদী নীতিকে রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা দিতে কাজ করেছেন বিজয়বর্গীয় ।

এছাড়াও কেন্দ্রীয় ও রাজ্য স্তরের নেতৃত্বের সমন্বয় ঘটিয়ে বিজেপিকে রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতার স্তরে পৌঁছে দিয়েছেন কৈলাস । রাজ্যে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বিজেপির সাফল্যের নেপথ্যে শাহের অন্য আরও এক কাণ্ডারী-কৈলাস বিজয়বর্গীয়।

First published: May 23, 2019, 7:27 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर