কোন দলে যুক্ত হচ্ছেন কাফিল খান?‌ সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিলেন সরাসরি

সম্প্রতি আওয়াজ উঠেছে, তিনি নাকি কংগ্রেসে যোগ দিতে পারেন। বিরোধী দল কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর ভাল সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। তাই তাঁর কংগ্রেসে যোগ দেওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা।

সম্প্রতি আওয়াজ উঠেছে, তিনি নাকি কংগ্রেসে যোগ দিতে পারেন। বিরোধী দল কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর ভাল সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। তাই তাঁর কংগ্রেসে যোগ দেওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা।

  • Share this:

    #লখনউ:‌ তিনি একজন সামান্য চিকিৎসক ছিলেন। কিন্তু ক্রমে গোটা দেশ তাঁকে চিনেছে তাঁর প্রতিবাদী চরিত্রের জন্য। উত্তর প্রদেশের চিকিৎসক ডক্টর কাফিল খানকে চেনে না, এমন লোক এখন দেশে খুঁজে পাওয়া মুশকিল। নানা কারণে তিনি সবসময়েই কথার মধ্যে থাকেন। সম্প্রতি জেল থেকে তিনি মুক্তি পেয়েছেন তিনি। শাসক দলের বিরোধিতায় আগাগোড়া সরব কাফিল খানের রাজনৈতিক কোনও পরিচয় নেই, মানে কাফিল সরাসরি কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। কিন্তু সম্প্রতি আওয়াজ উঠেছে, তিনি নাকি কংগ্রেসে যোগ দিতে পারেন। বিরোধী দল কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর ভাল সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। তাই তাঁর কংগ্রেসে যোগ দেওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা।

    কিন্তু তিনি সেই গুজবে জল ঢেলে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, কংগ্রেসে কেন, কোনও দলেই তিনি যোগ দিচ্ছেন না। তিনি একজন চিকিৎসক ছিলেন, আজীবন চিকিৎসাই করে যাবেন বলে জানিয়েছেন। সম্প্রতি এলাহবাদ হাইকোর্ট তাঁকে মুক্তি দেয়। জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় তাঁকে ধরে রাখার মামলা নস্যাৎ করে দেয়। সেখানে বলা হয়, সঙ্গে সঙ্গে কাফিল খানকে মুক্ত করতে। আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর রাখা বক্তব্য একেবারেই দেশ বিরোধী নয়। কোনও ভাবেই ওই ভাষণ থেকে হিংসা, রক্তপাত ঘটা সম্ভব নয়। তারপর থেকেই শুরু হয় জল্পনা। মনে করা হয় বিরোধী শিবিরে কোনও এক রাজনৈতিক মঞ্চে দেখা যাবে কাফিল খানকে। কিন্তু তিনি সেই বিষয়ে জল ঢেলে দিয়েছেন। বলেছে, তিনি চিকিৎসক আছে, চিকিৎসকই থাকবেন, কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দেবেন না। আপাতত জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি রাজস্থানে রয়েছেন।

    গত বছর ১০ ডিসেম্বর আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সিএএ বিরোধী মন্তব্যের অভিযোগে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে কাফিল খানকে গ্রেফতার করে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ৷ ১৩ ফেব্রুয়ারির তাঁর বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়৷

    জাতীয় নিরাপত্তা আইনে গত ১৬ অগাস্ট কাফিল খানকে আটক করে রাখার মেয়াদ আরও ৩ মাস বাড়িয়ে দেওয়া হয়৷ ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট বা NSA-এর আওতায়, যদি রাষ্ট্র মনে করে কোনও ব্যক্তি জাতীয় নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক, তা হলে তাকে ১২ মাস পর্যন্ত কোনও চার্জ ছাড়াই আটক করে রাখতে পারে৷

    কাফিল খানকে আইপিসি ধারা ১৫৩ (এ)-তে গ্রেফতার করা হয়৷ অর্থাত্‍ ধর্মীয় ভিত্তিতে দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা তৈরির চেষ্টা৷ এই ধারাতেই কাফিল খানের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছিল৷ পরে ১৫৩ বি, ৫০৫ (২) ধারা চাপানো হয়৷

    তিনি প্রথম খবরের শিরোনামে আসেন ২০১৭ সালে৷ গোরক্ষপুরে বিআরডি মেডিক্যাল কলেজে যখন একের পর এক শিশু মৃত্যু হচ্ছে৷ ওই হাসপাতালে তখন কাফিল খান শিশু চিকিত্‍সক৷ নিজের পকেট থেকে টাকা দিয়ে অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনে এনে বহু শিশুর প্রাণ বাঁচিয়ে সকলের চোখের মণি হয়ে উঠেছিলেন হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ কাফিল খান। রোগীদের পরিজন থেকে জাতীয় সংবাদমাধ্যম—তাঁর ভূমিকার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন সকলেই। অক্সিজেনের অভাবে ৩০ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় দোষীদের কঠোরতম সাজার আশ্বাস দেওয়ার পরেই সেই কাফিল খানকে রাতারাতি বাবা রাঘবদাস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এনসেফ্যালাইটিস ওয়ার্ডের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয় যোগী আদিত্যনাথ সরকার। তাঁর বিরুদ্ধে প্রাইভেট প্র্যাকটিসের অভিযোগও আনা হয়েছিল।

    Published by:Uddalak Bhattacharya
    First published: