corona virus btn
corona virus btn
Loading

বাজি নয়, কুমড়োয় ভরা ওষুধ!‌ পরম মমতায় হাতিকে সুস্থ করছেন এই গ্রামের মানুষেরা

বাজি নয়, কুমড়োয় ভরা ওষুধ!‌ পরম মমতায় হাতিকে সুস্থ করছেন এই গ্রামের মানুষেরা
‌প্রতীকী ছবি

‌গ্রামবাসীরা বলছেন, ‘‌হাতির চোখ দিয়ে জল পড়ছিল। আমরা দেখেই বুঝেছি, ও কাঁদছে। যন্ত্রণা সহ্য করতে পারছে না। তাই আমরাও চুপ করে থাকতে পারিনি।’‌

  • Share this:

#‌রাঁচি: মানুষ পশু নয়। কারণ, সে মানবিক। শুধু প্রবৃত্তির দাস সে নয়, বরং তাঁর হুশ আছে, মান আছে। সেই জন্যই একটি পশু নৃশংসভাবে হত্যা করলে তা অন্যায় নয়, কারণ সেই পশুটি প্রবৃত্তির ভৃত্য। সে পৃথিবীর শ্রেষ্ট জীব নয়। মানুষ শ্রেষ্ঠ, তাই হত্যা করা তাঁকে সাজে না। আর সেই শ্রেষ্ঠতার কথাই প্রমাণ করছেন ঝাড়খণ্ডের একাধিক গ্রামের মানুষেরা।

কেরলে হাতির নৃশংস হত্যার ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় পড়েছে। ‌কিন্তু সবটাই নিরাশার খবর নয়। এই দেশেরই ঝাড়খণ্ডের গ্রাম রাহে, সিল্লি, আঙ্গাড়াতে কয়েকদিন আগেই তাণ্ডব চালিয়েছিল একটি হাতি। সেই আহত হাতিটির আঘাতে দু’‌জন মানুষেরও মৃত্যু হয়। নষ্ট হয় ফসল, ঘরবাড়ি। কিন্তু সেই অংশের মানুষ মানবিকতা ভোলেননি। বরং পরম মমতায় কাছে টেনে নিয়েছেন সেই আহত হাতিটিকে। একা বন দফতরের পক্ষে হাতির চিকিৎসা করা সম্ভব ছিল না। তাই এগিয়ে এসেছেন স্থানীয় মানুষেরা। তাঁরা হাতিটির দেখভাল করছেন। আহত হাতির চিকিৎসার জন্য ওষুধ নিয়ে আসছেন বন দফতরের লোকেরা। আর সেই ওষুধ কুমড়োয় ভরে পুকুরের পাশে রেখে দিচ্ছেন গ্রামের লোকেরা। রোজ হাতি সেখানে এসে কুমড়ো খেয়ে যাচ্ছে, আর ধীরে ধীরে সেরে উঠছে।

স্থানীয় বাসিন্দা জানিয়েছেন, ‘‌একদিন জঙ্গলের মধ্যে দেখি যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে হাতিটি। আমি স্পষ্ট দেখেছিলাম, হাতির চোখ দিয়ে জল পড়ছে। হাঁটতে পারছে না হাতিটি। তখন আমি বন দফতরে খবর দিন। বলি যে এখনই হাতিটিকে না বাঁচালে হাতির মৃত্যু হবে।’‌ ভগবান বিরসা বায়োলজিক্যাল পার্কের পশু চিকিৎসক অজয় কুমার জানিয়েছেন, ‘‌পায়ের একটি আঘাতের কারণেই হয়ত হাতিটি কষ্টে কাতরাচ্ছিল।’‌ বন দফতরের আধিকারিক আর কে সিং জানিয়েছেন, ‘‌বুনো হাতিকে ওষুধ খাওয়ানো খুব ঝুঁকির বিষয়। তারপর স্থানীয় মানুষেরাই সবজিতে ভরে ওষুধ খাওয়ানোর কথা বলেন। তারপর থেকে কুমড়োয় ভরে ওষুধ রেখে দেওয়া হয় পুকুরের পাশে। হাতি রোজ এসে খায়, আর একটু করে সেরে ওঠে। গ্রামের মানুষেরাই বিনামূল্যে প্রতিদিনের কুমড়ো দেন আমাদের।’‌

Published by: Uddalak Bhattacharya
First published: June 4, 2020, 5:10 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर