দেবেন্দ্র সিংয়ের গল্পটা স্বচ্ছতা ও সততার সঙ্গে বলা খুব জরুরি, কেন?

দেবেন্দ্র সিংয়ের গল্পটা স্বচ্ছতা ও সততার সঙ্গে বলা খুব জরুরি, কেন?
দেবেন্দ্র সিং

মুখতার আহমেদ শেখ ঠিক কী কাজ করে, পুলিশের অনেক গোয়েন্দাই জানতেন না৷ মেডেলের পরিবর্তে তার ভাগ্যে জুটেছিল কলকাতার একটি জেলে তিন মাসের কারাবাস৷ জঙ্গি কার্যকলাপের অভিযোগে৷ বলে জামিনে মুক্ত হয়৷

  • Share this:

প্রবীণ স্বামী

#নয়াদিল্লি: ২৬/১১ মুম্বই হামলার মাস পাঁচেক আগে শ্রীনগরের এক অটোড্রাইভার কলকাতা পাড়ি দিল৷ লস্কর ই তৈবার বেশ কয়েকটি হামলার মধ্যে একটি অত্যন্ত নৃশংস হামলার পরিকল্পনার ছকের জন্যই ওই অটোড্রাইভারের কলকাতা যাত্রা৷ তাকে কাজ দেওয়া হয়েছে, ২২টি প্রিপেড সিম কার্ড কিনতে হবে (জঙ্গিরা হামলা চলাকালীন নিজেদের মধ্যে এই সিম কার্ডেই কথা বলবে)৷ পাকিস্তানে লস্কর কম্যান্ডোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে৷ মুম্বইয়ের বধওয়ার পার্কের সমুদ্র সৈকতে জঙ্গিরা পৌঁছলেই কার্ডগুলি তাদের হাতে তুলে দিতে হবে তাকে৷ কিছু সিম কার্ড দিতে হবে নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে থাকা লস্কর ক্যাম্পে জঙ্গিদের হাতে৷

মুখতার আহমেদ শেখ লস্কর অপারেটিভ ছিল না৷ সে ছিল ভারতীয় চর, জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের হয়ে কাজ করত৷ পাকিস্তানের লস্কর জঙ্গিদের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে৷ সে খবর পাচার করে দেয় দিল্লিতে গোয়েন্দাদের কাছে৷

মুখতার আহমেদ শেখ ঠিক কী কাজ করে, পুলিশের অনেক গোয়েন্দাই জানতেন না৷ মেডেলের পরিবর্তে তার ভাগ্যে জুটেছিল কলকাতার একটি জেলে তিন মাসের কারাবাস৷ জঙ্গি কার্যকলাপের অভিযোগে৷ বলে জামিনে মুক্ত হয়৷

কাশ্মীর পুলিশের ডিএসপি দেবেন্দ্র সিংয়ের গ্রেফতারির পরে ভারতবাসী কিছুতেই বুঝতে পারছে না, হচ্ছেটা কী! আসলে সন্ত্রাস দমনে এমন কিছু ঘটনা ঘটে মাঝেমধ্যে, যা আসলে সামনে এক ছবি, নেপথ্যে আরেক৷ দেবেন্দ্র সিং কি বিশ্বাসঘাতক? হিজবুল মুজাহিদিনের চর? নাকি জঙ্গি হামলা নতুন গল্প সাজিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য সরকারের আরও একটি চিত্রনাট্য? গোটা বিষয়টির মধ্যে একটি বড় ষড়যন্ত্রের গন্ধ উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না৷

২০১৬ সালে কাশ্মীরে ভারত-বিরোধী একটি হাওয়া উঠেছিল৷ সেই সময় কাশ্মীরের অনেক গ্রামেই পাকিস্তানের পতাকা উড়তে দেখা গিয়েছিল৷ ১৪ অগাস্টে পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসেও পাকিস্তানের পতাকা উত্তোলনের ছবি ধরা পড়েছিল কাশ্মীরের বেশ কিছু জায়গায়৷ ঘটনায় বেশি কিছু পুলিশ কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়, সব সরকারি অনুষ্ঠান স্থগিত করে দেওয়া হয়৷

২০১৭ সালের গ্রীষ্মে, পুলিশের কনস্টেবল সৈয়দ নভিদ মুস্তাক, বদগামে খাদ্য দফতরের পাকা চাকরি ছেড়ে ৪টি রাইফেল নিয়ে পালিয়ে যায়৷ কিছু দিন পরে ফেসবুকে তার ছবি ছেয়ে যায়৷ দাবি করা হয়, সে হিজবুল মুজাহিদিনের সদস্য৷

এমনকী হিজবুল মুজাহিদিনও মুস্তাককে হিরো আখ্যা দেয়৷ ২০১৯ সালে যদিও হিজবুলের কয়েকজন কম্যান্ডো পুলিশের গুলিতে মারা যাওয়ার পরে মুস্তাকের প্রভাব বাড়তে শুরু করে শোপিয়ানে৷ শরতের এক সকালে পুলিশ মুস্তাকের ছবি দিয়ে পোস্টার সাঁটিয়ে দেয়, রাজস্থানের এক ট্রাক ড্রাইভার খুন ও পঞ্জাবের এক ব্যবসায়ী খুনের ঘটনায়৷ কাশ্মীরের আপেল ব্যবসাকে পঙ্গু করে দেওয়ার জন্য হিজবুল মুজাহিদিন চেষ্টা করছে, জানায় পুলিশ৷

এরপরেই দেবেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে সম্পর্কের একটি বিচিত্র অধ্যায় শুরু হয়৷ এখনও একটি বিষয় স্পষ্ট হচ্ছে না, কেন মুস্তাক দেবেন্দ্রর মতো একজন পুলিশ অফিসারের কাছে সাহায্য চাইল৷ মুস্তাকের মতো হিজবুলের একজন নিচুতলার সদস্যের জন্য কেন দেবেন্দ্র ১২ লক্ষ টাকার রফায় রাজি হল, তারো সুস্পষ্ট উত্তর মিলছে না৷

দেবেন্দ্রর গ্রেফতারের ৪৮ ঘণ্টা আগে, দিল্লি পুলিশের সন্ত্রাস-দমন শাখা মুস্তাকের সঙ্গী কিফায়াতুল্লা বুখারি ও এক নাবালককে গ্রেফতার করে৷ পুলিশ জানায়, একজন ইনফর্মার তাদের এই খবরটি দিয়েছিল৷ উত্তরপ্রদেশে এরা মুস্তাকের হয়ে দেশি বন্দুকের কারখানা চালাচ্ছিল৷

বিষয় হল, দেশি বন্দুক জঙ্গিদের জন্য খুব একটা কার্যকরী নয়৷ মুস্তাক ও তার সঙ্গীদের জম্মুতে কেন নিজের গাড়িতে তুলে চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল দেবেন্দ্র, সেটাও স্পষ্ট নয়৷

আসলে অনেক কিছুই পরিষ্কার নয়৷ ঠিক এই কারণেই, দেবেন্দ্র সিংয়ের গল্পে স্বচ্ছতা ও সত্যতা থাকাটা খুব জরুরি৷ কাশ্মীরে অনেক কিছু ঘটে৷

খবরটি ইংরেজিতে পড়তে ক্লিক করুন

First published: 11:35:17 PM Jan 15, 2020
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर