দূরত্ব ৪ কিলোমিটার, অ্যাম্বুল্যান্সের ভাড়া ১০ হাজার টাকা, করোনাকালে অসহায়কে লুটছে রাজধানীর কালোবাজার

দূরত্ব ৪ কিলোমিটার, অ্যাম্বুল্যান্সের ভাড়া ১০ হাজার টাকা, করোনাকালে অসহায়কে লুটছে রাজধানীর কালোবাজার

অ্যাম্বুল্যান্সের ভাড়া ১০ হাজার, অক্সিজেন লক্ষের উপরে; করোনাকালে অসহায়কে লুটছে রাজধানীর কালোবাজার!

সম্প্রতি IAS অফিসার অরুণ বোথরা নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে তার একটি উদাহরণ আমাদের সামনে পেশ করেছেন।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: একটা অ্যাম্বুল্যান্সের ভাড়া কত হতে পারে? প্রশ্নটা করলে সবাই বলবেন যে তা ঠিক হয়ে থাকে রাজ্যভেদে। একেক রাজ্যে প্রতি কিলোমিটারে অ্যাম্বুল্যান্সের ভাড়া আলাদা আলাদা হয়ে থাকে! কিন্তু তা বলে কি মাত্র ৪ কিলোমিটার পথ যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুল্যান্সের ভাড়া দাঁড়াতে পারে ১০ হাজার টাকায়?

শুনতে অবাক লাগলেও এই ঘটনা ঘটেছে খোদ রাজধানীর বুকে। করোনার দ্বিতীয় পর্যায়ে রীতিমতো বেহাল হয়ে পড়েছে দিল্লির দশা। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী সেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২৪,২৩৫ জন। ৩৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এই সময়সীমার মধ্যে, সক্রিয় রোগীর সংখ্যা আপাতত ৯৭,৯৭৭! সঙ্গত কারণেই অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা চাইলেও মিলছে না। ঠিক তেমনই অমিল হয়েছে অক্সিজেন। বেশ কিছু হাসপাতাল হাত তুলে নিয়েছে এই ব্যাপারে, জানিয়েছে যে তাদের কাছে আর অক্সিজেন নেই!

আর এই জায়গা থেকেই রাজধানী পড়েছে কালোবাজারের গ্রাসে। সম্প্রতি IAS অফিসার অরুণ বোথরা নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে তার একটি উদাহরণ আমাদের সামনে পেশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে প্রীতমপুরা থেকে ফর্টিস হাসপাতালের দূরত্ব মাত্র ৪ কিলোমিটার, কিন্তু ওইটুকু পথ যেতেই ডিকে অ্যাম্বুল্যান্স সার্ভিস বিল কেটেছে ১০ হাজার টাকার! সেই রসিদের ছবি তিনি আপলোডও করেছেন নিজের Twitter হ্যান্ডেলে। লিখেছেন যে সারা বিশ্ব এখন আমাদের দেখছে, দেখছে কতটা অমানবিক মানুষ হতে পারে!

সঙ্গত কারণেই বোথরার এই পোস্ট সোশ্যাল মাধ্যমে সাড়া ফেলে দিয়েছে। তার ১৯ হাজার মতো কমেন্ট এসেছে, লাইক হয়েছে ৬১ হাজার! কমেন্টে অনেকেই জানিয়েছেন যে তাঁরা কালোবাজারের শিকার হয়েছেন। কেউ আবার লিখেছেন সরাসরি- শুধু মানবিকতা নয়, তাঁরাও আজকাল আর নিজেদের জীবন্ত বলে বোধ করেন না। অনেকে লিখেছেন যে অক্সিজেন কনসেনট্রেটর যেখানে খুব বেশি হলে ৮০ হাজার টাকার মধ্যে হয়ে যায়, সেটাই তাঁদের কিনতে হয়েছে ২ লক্ষ টাকা দিয়ে!

এই প্রসঙ্গে আপাতত দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের (Arvind Kejriwal) কাছে একটাই আবেদন জনতার- তাঁর সরকার যেন এই সব ভাড়া এবং জিনিসপত্রের দাম বেঁধে দেয়! এখন দেখার সেই আবেদন মঞ্জুর হয় কি না!

Published by:Ananya Chakraborty
First published: