Lancet on Modi: 'ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ', মোদির করোনা-'ব্যর্থতা' নিয়ে বিশ্বে আলোড়ন ফেলল ল্যানসেট

সমালোচিত মোদি

ইতিমধ্যেই অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স কিংবা আমেরিকার বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম ভারতে করোনা-সর্বনাশের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দায়ী করে আগেই সরব হয়েছে।

  • Share this:

    নয়াদিল্লি: গোটা দেশে আছড়ে পড়েছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ (Covid Second Wave)। প্রথম ঢেউয়ের থেকেই দ্বিতীয় আঘাতে বেসামাল পরিস্থিতি ভারতে। বর্তমানে ভারতের করোনা-পরিস্থিতি যে জায়গায় পৌঁছেছে, তাতে স্তম্ভিত গোটা বিশ্ব। আর এই প্রেক্ষাপটে বারবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) 'ব্যর্থতা' নিয়ে আলোড়ন উঠেছে। ইতিমধ্যেই অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স কিংবা আমেরিকার বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম ভারতে করোনা-সর্বনাশের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দায়ী করে আগেই সরব হয়েছে। কিন্তু এবার মোদির চরম সমালোচনা করা হল প্রখ্যাত মেডিক্যাল জার্নাল 'দ্য ল্যানসেট'-এ (The Lancet)।

    নিজেদের সম্পাদকীয়'র প্রথম অনুচ্ছেদেই ল্যানসেট ভারতের করোনা পরিস্থিতি সম্পর্কে লিখতে গিয়ে লিখেছে, 'ভারতে ভয়ঙ্কর করোনা-আবহেও সংক্রমণ ঠেকানোর থেকে সমালোচনার ট্যুইট মুছতে বেশি আগ্রহ ছিল মোদি সরকারের।' আর দেশের এই পরিস্থিতিতে মোদি সরকারের ভূমিকা ও দেশবাসীর প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের এই মনোভাব 'ক্ষমার অযোগ্য' বলেও মন্তব্য করা হয়েছে সম্পাদকীয়তে। আর বিদেশের বিভিন্ন নামীদামী পত্রপত্রিকার পর এবার ল্যানসেটের সম্পাদকীয়তেও মোদির চূড়ান্ত সমালোচনা হওয়ায় ওয়াকিবহল মহল বলছে, স্বাধীনতা-উত্তর পর্বে আন্তর্জাতিক মঞ্চে এভাবে আর কখনও ভারতকে অপমানিত হতে হয়নি।

    আর দেশের এই করোনা পরিস্থিতির থেকে মুক্তির উপায়? ল্যানসেটের সম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছে, দেশের কথা ভেবে মোদি সরকার যদি নিজেদের ভুল না শুধরে নেয়, তাহলে কিছু করার নেই। পৃথিবী বিখ্যাত ওই জার্নালে ভারত সম্পর্কে লেখা হয়েছে, 'দেশের হাসপাতালগুলিতে বেড নেই। গোটা দেশের শ্মশানে গণচিতা জ্বলছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা টানা কাজ করে ও করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে বিধ্বস্ত। ভারতের এই দুর্যোগ সত্যিই চোখে দেখা যায় না।'

    কিন্তু কেন এই ভয়াবহতা? আর এখানেই নরেন্দ্র মোদির 'ব্যর্থতা' স্পষ্ট করেছে ল্যানসেট। তাঁরা লিখেছে, দেশের মধ্যে সংক্রমণ হাতের বাইরে চলে যেতে পারে জেনেও ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সমাগমের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। করোনার দ্বিতীয় ঝড়ের পূর্বাভাস থাকা সত্ত্বেও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার। বরং মার্চে যখন করোনার দ্বিতীয় ঢেউ পড়ছে, ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী তখনও দাবি করে গিয়েছেন ভারত করোনার বিরুদ্ধে জয়ের পথে! কিন্তু সেই সময়ের আইসিএমআর-এর সার্ভে দেখিয়েছিল, ভারতবাসীদের মধ্যে মাত্র ২১ শতাংশের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে।' শুধু তাই নয়, কেন্দ্রের ভ্যাকসিন নীতি ও টিকাকরণে শ্লথ গতির জন্য নরেন্দ্র মোদির দিকে আঙুল তুলেছেন তাঁরা।

    Published by:Suman Biswas
    First published: