corona virus btn
corona virus btn
Loading

Coronavirus Pandemic| ভাইরাস মহামারি রুখতে ১২ বছর আগেই প্রস্তুত হচ্ছিল ভারত? চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট

Coronavirus Pandemic| ভাইরাস মহামারি রুখতে ১২ বছর আগেই প্রস্তুত হচ্ছিল ভারত? চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট
করোনার টেস্ট

বর্তমানে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়তে নানা সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে মোদি সরকারকে৷ ১২ বছর আগে ভারত যেভাবে মহামারি রুখতে প্রস্তুত হচ্ছিল, তা যদি বাস্তবায়ন হত, আজ কোনও সমস্যা হত না৷

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: বছর ১২ আগের ঘটনা৷ সেবারই যদি বিষয়টি ঘটে যেত, তা হলে ভারতকে আজ করোনা মহামারিতে এতটা সমস্যায় পড়তে হত না৷ ভারত সে বারই তৈরি হচ্ছিল, বড় ধরনের কোনও বায়োলজিক্যাল বিপর্যয়ে লড়াইয়ের জন্য৷ কিন্তু সব ভেস্তে যায় আমলাদের অন্তর্ঘাতে৷ না হলে আজ করোনা ভাইরাস নিয়ে দেশকে এই দিন আজ দেখতে হত না৷ আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়ে গেল৷ মৃত্যুও বাড়ছে লাফিয়ে৷ হাসপাতালগুলি ভর্তি৷ ডাক্তার, স্বাস্থকর্মীদের করোনা মোকাবিলার সরঞ্জামের অভাব৷ এসব কিছুই হত না৷ খুব ভালো ভাবেই ভারত করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এগিয়ে যেত৷

ঠিক কী ঘটেছিল ১২ বছর আগে? তখনকার সিনিয়র অফিসাররা Network18-কে জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে কোনও ভাইরাসজনিত মহামারি রুখতে ভারত তৈরি হচ্ছিল৷ সামাজিক দূরত্ব, লকডাউন, রাজ্যগুলিতে পর্যাপ্ত চিকিত্‍সা সরঞ্জাম, পিপিই, দেশের সব হাসপাতালকে বায়োলজিক্যাল মহামারি রুখতে প্রস্তুত সহ যাবতীয় প্ল্যান তৈরি হয়ে গিয়েছিল৷ ভাইরাসজনিত মহামারি রুখতে ভারত প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছিল৷

জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী দেশের তাবড় বিশেষজ্ঞদের একটি কমিটি গড়েছিল৷ সেই কমিটির প্রধান ছিলেন আর্মড ফোর্সেস মেডিক্যাল সার্ভিসেস-এর তত্‍কালীন ডিরেক্টর জেনারেল জে আর ভরদ্বাজ৷ এঁর তখন দেশজোড়া নাম৷ ১৯৯৯ সালে কার্গিল যুদ্ধের সময় সেনার চিকিত্‍সার যাবতীয় দায়িত্বে ছিলেন ভরদ্বাজ৷ অসাধারণ দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছিলেন৷

বর্তমানে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়তে নানা সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে মোদি সরকারকে৷ ১২ বছর আগে ভারত যেভাবে মহামারি রুখতে প্রস্তুত হচ্ছিল, তা যদি বাস্তবায়ন হত, আজ কোনও সমস্যা হত না৷ যাবতীয় প্রস্তুতির খসড়া রিপোর্টও জমা পড়েছিল৷ তত্‍কালীন সরকারের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিকের কথায়, 'কোথায় সমস্যা রয়েছে, কী কী রিসোর্স লাগবে, সব পরিষ্কার ভাবে আমাদের কাছে তালিকা তৈরি করা ছিল৷'

২০০৮ সালে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ওই রিপোর্টটি প্রকাশিত হয়েছিল৷তাতে রোড-ম্যাপ তৈরিই ছিল৷ সেই রিপোর্ট জমা পড়েছিল তত্‍কালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের অফিসে৷ সব ঠিকঠাকই চলছিল৷ হঠাত্‍ কাজ থেমে গেল৷ সরকারের কিছু মন্ত্রকের আমলারা বাগড়া দিলেন৷

প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল এনসি ভিজ (২০০৫ থেকে তিনি জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ভাইস চেয়ারম্যানও ছিলেন) Network 18-কে জানিয়েছেন, 'আসলে কিছু আমলা মনে করতেন, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর দরকারই নেই ভারতের৷ কারণ, অনেক মন্ত্রক ওই একই কাজ করে৷ আমি মন্ত্রকগুলির দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছি না৷ কিন্তু প্রতিদিনের কাজের চাপ ও প্রশাসনিক কাজের মাঝে ভবিষ্যতের বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য তাদের সময় থাকে না৷ এড়িয়ে যায়৷ এটাই বাস্তব৷'

H1N1 ইনফ্লুয়েঞ্জা ২০০৪ সাল থেকে যখন ছড়াতে শুরু করল, তখনই জেনারেল ভরদ্বাজের নেতৃত্বে একটি টিম তৈরি হয়ে গিয়েছে মোকাবিলার জন্য৷ কারণ, ভারতের চিন্তা ছিল, সন্ত্রাসবাদীরা যদি বায়োলজিক্যাল হামলা করে, তা হলে একেবারে জেলা স্তরে তার মোকাবিলা করা হবে৷

কোয়ারেন্টাইন, সামাজিক দূরত্ব, আইসোলেশন-- এই সবই ছিল NDMA-এর পরিকল্পনায়৷ সেই রিপোর্ট বলছে, 'সব প্র্যাক্টিস ও ট্রেনিং হবে৷ ধাপে ধাপে এগনো হবে৷ তার জন্য মক টেস্ট হবে৷ প্রতিটি হাসপাতালে বায়োলজিক্যাল বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী থাকবে৷ সব হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ, বিশেষজ্ঞ, মেডিক্যাল অফিসার, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থকর্মীদের ট্রেনিং দেওয়া হবে৷' ভারতের কোনও হাসপাতাল মহামারি রুখতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত নয় বলেও ওই রিপোর্টে বলা হয়েছিল৷ এমনকি পিপিই সরঞ্জামের অভাবের কথাও ছিল ওই রিপোর্টে৷

জেনারেল ভরদ্বাজের কথায়, 'চিন্তা ভাবনা আসলে এমন ছিল যে, NDMA-এর মাথায় যখন প্রধানমন্ত্রী রয়েছেন, তখন NDMA-এর কাজও হবে অন্যান্য আমলাতান্ত্রিক কাজের মতো৷ মুশকিল হল, NDMA-এর সিদ্ধান্ত নিলে তা আমলাদের ভালো লাগত না৷ তাঁরা পিছিয়ে আসতেন৷ তবুও বলব, অনেক কিছু এগিয়ে গিয়েছিলাম৷ সবাই তো আর ঘুংমোয় না৷ কিন্তু ভালো সাড়া পাইনি৷ অনেক রাজ্য সরকার ঝাঁপিয়ে কাজ এগোচ্ছিল৷ কিন্তু কিছু আমলার মিলিত হয়ে অন্তর্ঘাত, শেষ করে দিল চেষ্টাটাই৷ আজ তারই ফল ভুগছি৷'

Praveen Swami

 
Published by: Arindam Gupta
First published: April 8, 2020, 1:05 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर