corona virus btn
corona virus btn
Loading

শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনে এবার বিনা পয়সাতেই দেওয়া হবে ব্রেকফাস্ট, জানাল IRCTC

শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনে এবার বিনা পয়সাতেই দেওয়া হবে ব্রেকফাস্ট, জানাল IRCTC

আইআরসিটিসি সূত্রে খবর, বিনা পয়সায় জোগান দেওয়া হবে এই খাবার।

  • Share this:

#কলকাতা: পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য চলা শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনে এবার দেওয়া হবে প্রাতঃরাশ বা ব্রেকফাস্ট। আজ, বৃহস্পতিবার থেকেই চালু হয়ে যাচ্ছে এই ব্যবস্থা। আইআরসিটিসি সূত্রে খবর, বিনা পয়সায় জোগান দেওয়া হবে এই খাবার। যদিও পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য রেল তিন বেলার খাবারের কোনও পয়সা নিচ্ছে না বলেই জানাচ্ছে আইআরসিটিসি।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আটকে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকদের নিজেদের রাজ্যে ফিরিয়ে আনার জন্য চালু হয়েছে শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন। যদিও রেলে যাত্রীদের ভাড়া নিয়ে প্রথম থেকেই বিতর্ক তৈরি হয়। যদিও আইআরসিটিসি জানাচ্ছে তারা খাবার বাবদ পয়সা নিচ্ছে না। গড় হিসেবে প্রতিটি ট্রেনে যাত্রী থাকছে ১২০০ করে যাত্রী। রেলওয়ে ক্যাটারিং সংস্থার হিসেব, ব্রেকফাস্ট জন্য তাদের খরচ হচ্ছে মাথা পিছু ২৫ টাকা। দুপুরের খাবার জন্য খরচ হচ্ছে ৩৫ টাকা। রাতের খাবারের জন্যেও খরচ সেই ৩৫ টাকা। এর সাথে যুক্ত হবে তিনটি রেল নীড় জলের বোতল। যার প্রতিটির দাম ১৫ টাকা করে। ফলে যাত্রী পিছু খাবারের দাম পড়ছে ১৪০ টাকা।

হিসেব বলছে ১৪০ টাকা করে ১২০০ যাত্রীর খাবার খরচ পড়বে ১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। আইআরসিটিসি'র গ্রুপ জেনারেল ম্যানেজার দেবাশীষ চন্দ্র জানাচ্ছেন, "ব্রেকফাস্টে পাউরুটি, দুটো কলা ও একটা প্যাকেট বিস্কুট দেওয়া হচ্ছে। দুপুর ও রাতের খাবারের জন্য দেওয়া হচ্ছে ভেজ বিরিয়ানি বা পুরী, তরকারি খাবার। এছাড়া তিনটি খাবারের জন্য জলের বোতল দেওয়া হচ্ছে।"

আইআরসিটিসি জানাচ্ছে এই খাবারের জন্য কোনও টাকা নেওয়া হচ্ছে না। অন্যদিকে যাদের প্রতিদিন খাওয়ানো হচ্ছে তাদের মেনু বদল করে দেওয়া হচ্ছে। রেলের ভোজে শুধু খিচুড়ি নয়। এবার থেকে দেওয়া হবে ভেজ বিরিয়ানি। প্রত্যেকদিন বিরিয়ানি দেওয়া হচ্ছে প্রায় ৫০০০ মানুষকে। লকডাউন পরিস্থিতিতে রেল স্টেশন এলাকায় আটকে পড়া মানুষ ও ভবঘুরেদের খাওয়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় ভারতীয় রেল। শিয়ালদহ ও হাওড়া স্টেশনের বাইরে প্রতিদিন রেল রক্ষী বাহিনীর উপস্থিতিতে চলছে খাবার পরিবেশন। ধীরে ধীরে এবার সেই সংখ্যা বৃদ্ধি পেল। হাওড়া বেস কিচেনে প্রতিদিন চলছে প্রায় ৫০০০ লোকের খাওয়ানোর ব্যবস্থা। সকাল থেকে রাত অবধি ১৩ জন কর্মী অক্লান্ত পরিশ্রম করে খাবার তৈরি করছেন। আই আর সি টি সি'র হিসেব অনুযায়ী প্রতিদিন প্রায় ৩০০ কেজি চাল ও ৩০০ কেজি সবজি লাগছে এই খাবার তৈরি করতে। আর এই বিপুল পরিমাণ খাবার জোগাড় করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে রেলকে।

কলকাতার ৩টি বাজার থেকে এই সমস্ত জিনিস সংগ্রহ করা হয়। আই আর সি টি সি'র গ্রুপ জেনারেল ম্যানেজার দেবাশীষ চন্দ জানান, "এখনও অবধি খাবার জোগাড় করতে অসুবিধা হয়নি। তবে যদি দরকার পড়ে আমরা রাজ্য সরকারের থেকে সাহায্য নেব।" তবে আইআরসিটিসি বিভিন্ন খোলা বাজার থেকেই সংগ্রহ করছে এই সমস্ত কাঁচামাল। হাওড়া বেস কিচেনের ইলেকট্রিক উনুনে চলছে এই খাবার তৈরি। বড় বড় হান্ডিতে একদিকে চলছে খিচুড়ি পাকানো তো অন্য দিকে চলছে বিরিয়ানির মশলা তৈরি। কেউ করছেন রান্না তো কেউ সবজি কাটার কাজে ব্যস্ত। সব কাজ চলছে সিসি ক্যামেরার নজরেই। দিল্লি থেকে রেল মন্ত্রক সরাসরি খাবার তৈরির সমস্ত পদ্ধতি মনিটর করা চলেছে। গত রবিবার এই খাবার দেওয়ার কাজ শুরু হয়। যেহেতু সামাজিক দূরত্ব মেনে খাবার দিতে হবে। তাই আর পি এফ এই খাবার দেওয়ার কাজ করছে। প্রথমে হাওড়া ও শিয়ালদহতে এই কাজ হলেও, এখন আরও অন্যান্য স্টেশনেও এই খাবার বিলি করা হচ্ছে। এমনকী, পূর্ব রেলের এজিএম সেলেও দেওয়া হচ্ছে খাবার।

শেওড়াফুলি থেকে সাঁতরাগাছি। শালিমার থেকে বিধাননগর। একাধিক স্টেশনে দেওয়া হচ্ছে খাবার। দিনের পর দিন যেভাবে খাবার নেওয়ার সংখ্যা বাড়ছে তাতে শুধুমাত্র হাওড়া থেকে নয়, এবার শিয়ালদহ বেস কিচেনেও খাবার তৈরি করা হবে। প্রয়োজন হলে খড়গপুর-সহ অন্যত্র যে সমস্ত বেস কিচেন আছে, সেখানেও রান্না করা হতে পারে। দেবাশিষবাবু জানাচ্ছেন, "আমরা যতদিন প্রয়োজন হবে ততদিনই খাবার খাওয়াব যাত্রীদের। আমাদের অসুবিধা নেই।" সে কারণেই প্রতিদিন প্রায় ৫০০০ মানুষকে খাওয়ানো হল। শুধু একবেলা নয়, দু'বেলাই খাওয়াবে রেল।

Abir Ghoshal

First published: May 7, 2020, 2:20 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर