সাবান নয় হ্যান্ড স্যানেটাইজার, করোনা সতর্কতায় নতুন দাওয়াই রেলের

সাবান নয় হ্যান্ড স্যানেটাইজার, করোনা সতর্কতায় নতুন দাওয়াই রেলের
করোনা আটকাতে নতুন সুবিধে আনছে ভারতীয় রেল

করোনা রুখতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা অনুযায়ী, সমস্ত দূরপাল্লার ট্রেনের কোচ জীবাণুনাশক করার কাজ চলছে। একই সাথে চলছে হ্যান্ড টাওয়েল, বেড শিট, পিলো কভার সম্পূর্ণভাবে জীবাণুমুক্ত করার কাজ।

  • Share this:

আর নয় লিকুইড সোপ। এবার থেকে ট্রেনে ব্যবহার হবে শুধুমাত্র হ্যান্ড স্যানিটাইজার। বেসিন থেকে শৌচালয় সব জায়গাতেই এবার এই ব্যবস্থা বজায় থাকবে। করোনা সচেতনতায় এই ব্যবস্থাই নিল ভারতীয় রেল।

এদিন কলকাতার সমস্ত রেল ইয়ার্ডেই দেখা গেল করোনা রুখতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা অনুযায়ী, সমস্ত দূরপাল্লার ট্রেনের কোচ জীবাণুনাশক করার কাজ চলছে। একই সঙ্গে চলছে হ্যান্ড টাওয়েল, বেড শিট, পিলো কভার সম্পূর্ণভাবে জীবাণুমুক্ত করার কাজ। যে সমস্ত ব্যক্তিরা এই কাজে যুক্ত আছেন তাঁদের প্রত্যেককে মাস্ক ও গ্লাভস পরেই কাজ করতে হচ্ছে। হাওড়া টিকিয়াপাড়া কোচিং ইয়ার্ড, যেখানে প্রত্যেকদিন প্রায় ৯০০ কোচ রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। সেখানেই চলছে, করোনার জন্য ট্রেন স্যানিটাইজেশনের কাজ।

হাওড়া রাজধানী এক্সপ্রেস, কালকা মেল, পূর্ব এক্সপ্রেস, পাঞ্জাব মেল, অমৃতসর এক্সপ্রেস, দুন এক্সপ্রেস, দুরন্ত, শতাব্দী সহ সমস্ত দূরপাল্লার ট্রেনে চলছে এই স্যানিটাইজেশনের কাজ। ভাইরাক্স ২ বলে এক বিশেষ ধরনের জীবাণুনাশক স্প্রে ব্যবহার করা হচ্ছে।

কী ভাবে সাফ করা হচ্ছে ট্রেনগুলি? সূত্রের খবর, প্রথমে ট্রেনের মেঝে পরিষ্কার করা হচ্ছে। তারপর তা জীবাণুনাশক স্প্রে করে দেওয়া হচ্ছে। কামরার প্রতিটি কোণ, যেমন সিটের তলায়, হ্যাঙারে। এমনকি বাদ যাচ্ছে না, আপার সিটে ওঠার জন্য যে হ্যান্ডেল, সিটের নাম্বার সহ সব কিছু। ভিতর  থেকে যেমন প্রতিটি বগি পরিষ্কার করা হচ্ছে তেমনই বাইরে থেকেও প্রতিটি বগিতে ঢোকার মুখেই সিঁড়ির জায়গা পরিষ্কার করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি বদল আনা হয়েছে শৌচালয়ে। এবার থেকে রাজধানী-সহ বিভিন্ন ট্রেনের শৌচালয়ে লিকুইড সোপের পাশাপাশি থাকবে হ্যান্ড স্যানিটাইজার। শৌচালয়ের সমস্ত কোণ, যেমন ভালো করে স্যানিটাইজ করে দেওয়া হয়েছে, তেমন ভাবে ট্রেন চলতে শুরু করলে প্রতি এক ঘন্টা অন্তর অন্তর ট্রেন স্যানিটাইজেশনের কাজ করা হবে। অন বোর্ড হাউজ কিপিং এর সঙ্গে যে সমস্ত স্টাফ যুক্ত থাকেন তারাই এই কাজ করবেন। ইতিমধ্যেই খুলে ফেলা হয়েছে ট্রেনের সমস্ত পরদা। দেওয়া হবে না কম্বল। পাশাপাশি অটোমেটিক মেকানাইজড লন্ড্রিতে চলবে পিলো কভার, বেড শিট জীবাণুমুক্ত করার কাজ৷

লন্ড্রিতে প্রতিদিন পরিষ্কার করার কাজ হলেও, করোনার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। লন্ড্রির মেঝে পুরোপুরি স্যানিটাইজ করা হচ্ছে। এছাড়া বেড শিট জীবাণুমুক্ত করার জন্য ধোওয়া হচ্ছে প্রায় ৬০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেডে। আয়রন করা হচ্ছে প্রায় ১৬০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায়। হ্যান্ড টাওয়েল ও বাথ টাওয়েলের ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা মেনে চলা হচ্ছে। লিনেন থেকে জীবাণু ছড়ানোর সুযোগ সবচেয়ে বেশি। তাই এইগুলিকে জীবাণুমুক্ত করার জন্য এই তাপমাত্রা ব্যবহার করা হচ্ছে।

পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক নিখিল চক্রবর্তী জানান, "করোনার জন্য যে সমস্ত ব্যবস্থা কেন্দ্রীয় সরকার গ্রহণ করতে বলেছে তার সবকিছু করা হয়েছে। সচেতন করাটা আমাদের কাজ। রেল হল গণ পরিবহণ ব্যবস্থার অন্যতম মাধ্যম। তাই সচেতনতায় আমরা জোর দিচ্ছি।"ইতিমধ্যেই বিভিন্ন স্টেশনে ও ট্রেনের মধ্যে পোস্টার দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন স্টেশনে করোনা নিয়ে পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেমে ঘোষণা করা হচ্ছে।

Abir Ghosal

First published: March 16, 2020, 2:01 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर