সেনার এই ঘোড়া পেল ‘চিফ অফ আর্মি স্টাফ কমেন্ডেশন' পদক

সেনার এই ঘোড়া পেল ‘চিফ অফ আর্মি স্টাফ কমেন্ডেশন' পদক
Indian Army horse awarded Chief of Army Staff commendation medal, Image Courtsey: Twitter/Anish Singh

সেবামূলক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ভারতীয় সেনার পক্ষ থেকে ‘চিফ অফ আর্মি স্টাফ কমেন্ডেশন' (Chief of Army Staff Commendation) পদক তুলে দেওয়া হয়৷ এবার এই বিরল সম্মান পেল দেশের অশ্বারোহী রেজিমেন্টের বিশ্বস্ত এক ঘোড়া৷

  • Share this:

    #নয়াদিল্লি: সেবামূলক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ভারতীয় সেনার পক্ষ থেকে ‘চিফ অফ আর্মি স্টাফ কমেন্ডেশন' (Chief of Army Staff Commendation) পদক তুলে দেওয়া হয়৷ এবার এই বিরল সম্মান পেল দেশের অশ্বারোহী রেজিমেন্টের বিশ্বস্ত এক ঘোড়া৷ রবিবার দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের কারিয়াপ্পা মাঠে সেনার এক অনুষ্ঠানে এই ঘোড়ার গলায় পদক ঝুলিয়ে দেন ভারতীয় সেনাপ্রধান মনোজ মুকুন্দ নারভানে৷

    ২২ বছরের রিও জয়পুরের ৬১ অশ্বারোহী রেজিমেন্টের যথেষ্ট পরিচিত নাম৷ গত ১৮ বছর ধরে সে দিল্লির রাজপথে প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডে অংশ নেয়৷ এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি৷ ৬১ অশ্বারোহী রেজিমেন্টের প্রথম ঘোড়া রিও৷ শেষ ১৬ বছর ধরে সে সেনাপতির দায়িত্বে রয়েছে৷ আর ভারতের ৬১ অশ্বারোহী রেজিমেন্টেবিশ্বের এক মাক্র সক্রিয় অশ্বারোহী রেজিমেন্ট৷ সাধারণত ২২ বছর বয়সেই ঘোড়ারা অবসর নেয়৷ কিন্তু রিও-র সতর্কতা এবং তীক্ষ্ণ প্রতিক্রিয়া এখনও চমকে দেওয়ার মতো৷

    ১৯৫৩ সালের ১ অগাস্ট দেশের ৬ টি রাজ্যের একত্রীকরণে উত্থান হয় ৬১ অশ্বারোহী রেজিমেন্টের৷ এই রেজিমেন্ট ৩৯টি যুদ্ধ সংক্রান্ত সম্মান পায়৷ এছাড়াও ঘোড়া নিয়ে খেলা ইকোয়েস্ট্রিয়ান ও পোলোতে আলাদাই সুনাম অর্জন করে৷ এই রেজিমেন্টের ঝুলিতে একটি পদ্মশ্রী, একটি সর্বোত্তম জীবনরক্ষা পদক, ১২টি অর্জুন পদক, ৬টি বিশিষ্ট সেবা পদক, ৫৩টি 'চিফ অফ আর্মি স্টাফ কমেন্ডেশন', ২টি 'চিফ অফ নেভাল স্টাফ কমেন্ডেশন', ৮টি 'ভাইস চিফ অফ আর্মি স্টাফ কমেন্ডেশন', ৮টি 'চিফ অফ ইন্টিগ্রেটেড ডিফেন্স স্টাফ কমেন্ডেশন' ও ১৮০টি 'জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ইন চিফ কমেন্ডেশন' রয়েছে৷


    ১৯১৮ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন এই রেজিমেন্ট ভয়ঙ্কর হাইফা যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল৷ ইতিহাস বলছে, ভারতের সেনা ইজরায়েলের হাইফা শহরকে স্বাধীন করতে অটোমান সাম্রাজ্যের উপর আক্রমণ করেছিল। ঘোড়ার পিঠে সওয়ার হয়ে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর দেশের সেনা অটোমান সাম্রাজ্যের ১৫০০ সৈনিককে বন্দি বানিয়ে হাইফা শহরকে স্বাধীন করেছিল। প্রতি বছর ২৩ সেপ্টেম্বর ভারতের অশ্বারোহী রেজিমেন্টের মাইসোর ও যোধপুর রেজিমেন্টে হাইফা দিবস উদযাপন করা হয়৷ ১৯৬৫ সালে ইন্দো-পাক যুদ্ধে ৬১ অশ্বারোহী রেজিমেন্টে রাজস্থানের গঙ্গানগর সেক্টরে মোতায়েন ছিল৷ ১০০ কিলোমিটার এলাকা রক্ষার দায়িত্বে ছিলেন তাঁরা৷ একটিও অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেনি বলেই জানা যায়৷ ১৯৭১-এ ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে ৬১ অশ্বারোহী রেজিমেন্ট রাষ্ট্রপতি ভবন রক্ষা করেছিল৷ এছাড়াও 'অপারেশন পবন' (১৯৮৯), 'অপারেশন রক্ষক' (১৯৯০), কার্গিলে 'অপারেশন বিজয়' (১৯৯৯) ও 'অপারেশন পরাক্রম'-এ(২০০১-২০০২) গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল এই অশ্বারোহী রেজিমেন্টের৷

    Published by:Subhapam Saha
    First published: