কোভিড টিকাকরণের পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে দেশ, আরও বড় বিপদের জন্য তৈরি তো ? পড়ুন

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: সন্দেহ নেই, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়েছে। আমরা পারিবারিক মূল্যবোধের উপরে হারানো আস্থা ফিরে পেয়েছি, বহির্জগতের টান কাটিয়ে সুখের সন্ধান করতে শিখেছি ঘনিষ্ঠজনের মধ্যে। লকডাউনের সময়কাল অনেকজনকে নানারকম ঘরোয়া কাজেও পটু করে তুলেছে। পাশাপাশি, প্রকৃতি ফিরে পেয়েছে তার স্বাস্থ্য, আনলক পর্বেও অপেক্ষাকৃত দূষণমুক্ত পরিবেশে শ্বাস নিতে পারছি আমরা। এই সব কিছুর পরে দেশে তৈরি হয়েছে কোভিড ভ্যাকসিন, বিশ্বের বৃহত্তম করোনা টিকাকরণ অভিযানও অনেকটা সামলাতে পেরেছি আমরা। কিন্তু এর পরের বিপদের জন্য আমরা তৈরি তো?

এই জায়গায় এসে সঙ্গত কারণেই পরের বিপদটি কী হতে পারে, সেই কৌতূহলটি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। এই প্রসঙ্গে আমাদের ফিরে দেখতে হবে বিংশ শতকের তপস্বী তথা দার্শনিক জে কৃষ্ণমূর্তির (J Krishnamurti) কথা। অভিধান উদ্ধৃত করে তিনি বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছেন বিপদের স্বরূপ। বলছেন- যা আমাদের চিত্ত এবং পারিপার্শ্বিককে দোলাচলতার মধ্যে ফেলে, আমাদের ভালো থাকতে দেয় না, সেটাকেই বিপদ বলে ধরে নিতে হবে। নিঃসন্দেহে এক দার্শনিকতার কথা তুলে ধরেছেন কৃষ্ণমূর্তি। কিন্তু তার প্রয়োজনীয়তা কোথায় লুকিয়ে আছে?

কৃষ্ণমূর্তি এই প্রসঙ্গে বলছেন যে মানুষ আদতে সমাজের একক সত্ত্বা। তাই একজন মানুষ দৈনন্দিন জীবনে যা করছে, তা এক বৃহত্তর অংশের মধ্যেও প্রভাব বিস্তার করে। এই দিক থেকে তিনি স্পষ্টই বলছেন যে কোনও পারমাণবিক যুদ্ধ বা অতিমারীর মধ্যে আমাদের সঙ্কট লুকিয়ে নেই, তার বীজটি আদতে প্রোথিত আছে আমাদের অবচেতনে। আমাদের প্রতিটি মন্দ কাজ সেই বীজে জলসেচন করতে পারে, তাকে পরিণত করে তুলতে পারে মহীরূহে। আর সেটাই ডেকে আনবে আমাদের সবার বিপদ!

বিংশ শতকের নানা দুর্যোগময় পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে কৃষ্ণমূর্তি বলেছেন যে সেগুলোর কোনওটাই আকস্মিক নয়, আদতে তার জন্ম দিয়েছে মানুষ নিজে! তার লোভ, তার হিংসা পৃথিবীর বুকে বিশ্বযুদ্ধের জন্ম দিয়েছে। প্রকৃতি সম্পর্কে তুচ্ছতাচ্ছিল্যতার মনোভাব ডেকে এনেছে একের পর এক ঝড়, প্লাবন! ছড়িয়ে গিয়েছে অসুখের জীবাণু। কাজেই যদি ভালো থাকতে হয়, যদি সব রকম বিপদের উর্ধ্বে উঠতে হয়, আমাদের সচেতন হে হবে, ভালো হতে হবে। সেই লক্ষ্যে অনেক দিন ধরে কাজ করে চলেছে জে কৃষ্ণমূর্তি ফাউন্ডেশন, আমরা কি সময় থাকতে সচেতন হব না?

(লেখক- জে কৃষ্ণমূর্তি ফাউন্ডেশনের সক্রিয় সদস্য, মতামত ব্যক্তিগত)

Published by:Rukmini Mazumder
First published: