বাইডেন জমানায় আমেরিকার সঙ্গে ভঙ্গুর বাণিজ্যনীতি শক্তিশালী করাই লক্ষ্য ভারতের

বাইডেন জমানায় আমেরিকার সঙ্গে ভঙ্গুর বাণিজ্যনীতি শক্তিশালী করাই লক্ষ্য ভারতের
photo/the mint

নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জমানায় ভারতের প্রধান লক্ষ্য দুই দেশের মধ্যে ভঙ্গুর বাণিজ্যনীতি উন্নত করা। ইতিমধ্যেই মার্কিন প্রশাসনের কাছে সেই বার্তা দিতে শুরু করেছে সাউথ ব্লক।

  • Share this:

    #নয়াদিল্লি: ডোনাল্ড ট্রাম্প জমানায় ভারত আমেরিকা সম্পর্কে দুটি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। অথচ দুটি বিষয়ের মধ্যে সামরিক এবং নিরাপত্তা জনিত ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক অন্য মাত্রায় পৌঁছলেও, বাণিজ্যনীতি ঘিরে বিশেষ উন্নতি চোখে পড়েনি। বরং মতানৈক্য বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অভিন্ন হৃদয় বন্ধু হলেও, বাণিজ্যনীতি নিয়ে দুস্তর ব্যবধান দূর করা যায়নি ট্রাম্প জমানায়। ২০১৮ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আমেরিকার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৪ হাজার তিনশো কোটি ডলার। ভারতের রফতানির পরিমাণ আট হাজার ৩৯০ কোটি ডলার হলেও আমদানির পরিমাণ পাঁচ হাজার ৮৭০ কোটি ডলার। অর্থাৎ, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যে আমেরিকার ঘাটতির পরিমাণ দুই হাজার ৫২০ কোটি ডলার। এই ঘাটতি কমানো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভারত সফরের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য ছিল।

    ভারতের বিশাল বাজার ধরতে বেশ কয়েকটি মার্কিন দুগ্ধজাত পণ্য সংস্থা এদেশে ব্যবসার ইচ্ছে প্রকাশ করলেও, দেশের স্বার্থের কথা ভেবে সায় দিতে পারেনি ভারত সরকার। বস্তুত, আমেরিকা চেয়েছিল বিনা শুল্কে রফতানি করার সুযোগ নিতে গেলে ভারতকে আরও বেশি করে নানা রকমের বাদাম, ফল ও কৃষিপণ্য কিনতে হবে। ভারতে মার্কিন সংস্থা ‘হার্লে ডেভিডসন’-এর জন্য শুল্কের চড়া হারও ওয়াশিংটনের উষ্মার কারণ। আমেরিকা চেয়েছিল বিভিন্ন মার্কিন স্মার্ট ফোন সংস্থাকে ভারতে কম শুল্কে ব্যবসা করার অনুমতি দিক মোদি সরকার। ভারতের দাবি ছিল, আমেরিকায় ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, কৃষি ও শিল্পজাত পণ্যের রফতানির পথ সুগম করা। যাই হোক, পৃথিবীর দুই বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশের মধ্যে ব্যবসা বাণিজ্য আজ পর্যন্ত সেই জায়গায় পৌঁছয়নি।

    কিন্তু নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জমানায় ভারতের প্রধান লক্ষ্য দুই দেশের মধ্যে ভঙ্গুর বাণিজ্যনীতি উন্নত করা। ইতিমধ্যেই মার্কিন প্রশাসনের কাছে সেই বার্তা দিতে শুরু করেছে সাউথ ব্লক। সামরিক ক্ষেত্রে এর পাশাপাশি আলোচনার


    পুরো ভাগে থাকবে এই বিষয়। আগামী কয়েক মাস না গেলে অবশ্য এই ব্যাপারে পরিষ্কার ছবি পাওয়া সম্ভব নয় বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা। ব্যবসার ক্ষেত্রে ভারত-মার্কিন পারস্পরিক সহযোগিতা যে নয়াদিল্লির মেনু কার্ডে প্রথম দিকেই আছে তাতে সন্দেহ নেই। পাশাপাশি ইরান, পাকিস্তান, চিন এবং রাশিয়া নিয়ে বাইডেন কী করেন সেদিকেও নজর থাকবে ভারতের।

    Published by:Rohan Chowdhury
    First published: