• Home
  • »
  • News
  • »
  • national
  • »
  • INDIA IS NOT LIKELY TO FACE ANY DIRECT IMPACT OF TALIBAN RULE IN AFGHANISTAN FEELS EXPERTS DMG

Impact of Afghanistan Crisis on India: কাবুলের মসনদে তালিবানরা, একা ভারত নয়, চিন্তা বাড়ল চিন- পাকিস্তানেরও!

আফগানিস্তানের ফের তালিবানি রাজ৷ Photo-Twitter

নিজেদের স্বার্থসিদ্ধিতে এতদিন এই অঞ্চল থেকে আমেরিকাকে দূরে সরিয়ে দিতে তালিবানদের মদত দিয়েছে ইরান, রাশিয়া, চিন, পাকিস্তানের মতো দেশগুলি (Impact of Afghanistan Crisis on India)৷

  • Share this:

    #দিল্লি: তালিবানি শাসনের ভয়ে ত্রস্ত আফগানরাই৷ প্রাণ বাজি রেখে দেশ ছাড়তে মরিয়া তাঁরা৷ যুব সম্প্রদায় থেকে শুরু করে আফগান মহিলারা, তালিবান শাসনে নিজেদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে আতঙ্কিত প্রত্যেকে৷ কিন্তু আফগানিস্তানের শাসন ক্ষমতায় তালিবানদের প্রত্যাবর্তনের ফল কতটা ভুগবে ভারত? বিশ্বের অন্য প্রান্তেই বা আফগানিস্তানে তালিবান শাসনের কী প্রভাব পড়তে চলেছে?

    মার্কিন গোয়েন্দা ব্যর্থতাতেই তালিবানদের উত্থান?

    মাত্র ক সপ্তাহ আগে পর্যন্ত আমেরিকার সরকারি আধিকারিকদের দাবি ছিল, তালিবানদের কাবুল দখল করতে অন্তত চার সপ্তাহ সময় লাগবে৷ তার আগে মার্কিন প্রশাসনের কর্তারাই দাবি করেছিলেন, কাবুলে তালিবানদের প্রভাব বিস্তার করতে কয়েক মাস লেগে যাবে৷ তারও আগে আমেরিকার প্রশাসনের দাবি ছিল, তালিবানদের এখন যা শক্তি তাতে তারা আফগানিস্তানকে আর নিজেদের দখলে আনতে পারবে না৷ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন প্রশাসনের এই দাবিগুলি হয় মারাত্মক গোয়েন্দা ব্যর্থতার ফল, আর তা না হলে দেশের সেনাবাহিনীকে আফগানিস্তান থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার জন্য ইচ্ছাকৃত ভাবে মিথ্যা কথা বলা৷

    বাস্তব বলছে, ২০১৪ সালের পর থেকেই আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনী এবং তাদের সহযোগীরা যৌথ অভিযান বন্ধ করে দিয়েছিল৷ তালিবানদের বিরুদ্ধে শুধুমাত্র আকাশপথেই সক্রিয় ছিল তারা৷ তা সত্ত্বেও আফগানিস্তানের প্রত্যন্ত এবং গ্রামীণ এলাকাগুলিতে ধীরে ধীরে নিজেদের দখল বাড়াচ্ছিল তালিবানরা৷ এমন কি, ২০১৭ সালেই আফগানিস্তানের হেলমান্ডে মোতায়েন করা আফগান সেনার ২১৫ নম্বর বাহিনীই তালিবান হামলার মুখে কার্যত আত্মসমর্পণ করেছিল৷ পরিস্থিতি সামাল দিতে সেখানে মার্কিন সেনাকে পাঠানো হয়৷

    এর পর থেকেই বিচ্ছিন্ন ভাবে আফগানিস্তানের বিভিন্ন গ্রামীণ জেলাগুলির দখল নিতে শুরু করেছিল তালিবানরা৷ এ ভাবেই ধীরে ধীরে বড় শহরগুলিকে ঘিরে ফেলছিল তারা৷ এ বছরের গ্রীষ্মকাল শুরু হতেই আফগানিস্তান থেকে দ্রুত সেনা প্রত্যাহার শুরু করে আমেরিকা৷ তালিবানদের বিরুদ্ধে আকাশপথে অভিযানও বন্ধ হয়ে যায়৷ ফলে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে তালিবানরা৷

    কেন এত সহজে আত্মসমর্পণ করল আফগান সেনা?

    প্রশ্ন উঠতেই পারে, এতদিন মার্কিন সেনার প্রশিক্ষণ পেয়েও কেন তালিবানদের সঙ্গে এঁটে উঠতে পারল না আফগান সেনা? সরকারি ভাবে আফগানিস্তানের সেনাবাহিনীতে সদস্য সংখ্যা সাড়ে ৩ লক্ষ৷ কিন্তু তাঁদের মধ্যে অর্ধেকেরই হয় পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ নেই, নয়তো তাঁরা শৃঙ্খলাপরায়ণ নয়৷ আবার এদের মধ্যে একটা বড় অংশ বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগসাজশ রেখে চলে৷ দুর্নীতির সঙ্গেও তাদের যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে৷ ফলে বাস্তবে আফগান সেনার সংখ্যা ১ লক্ষ ৮৫ হাজার মতো৷ তার মধ্যে মাত্র ৬০ শতাংশকেই সংঘর্ষ বা যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়৷ গোটা দেশের শহর, গ্রামকে রক্ষা করা, দুর্গম পথঘাট অতিক্রম করে প্রায় ১০ হাজার চেকপোস্ট এবং পয়েন্টে এই বাহিনীকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়৷

    অন্যদিকে তালিবানদের হাতে লড়াই করার জন্য ৬০ হাজার সদস্যের বাহিনী রয়েছে৷ এ ছাড়াও প্রায় ৯০ হাজার সদস্যের মিলিশিয়া বাহিনী রয়েছে যারা চোরাগোপ্তা হামলা চালায়৷ যতদিন পর্যন্ত আকাশপথে অভিযান চালিয়ে মার্কিন বাহিনী সাহায্য করছিল, ততদিন এত সমস্যা অতিক্রম করেও তালিবানদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পেরেছিল আফগান সেনা৷ কিন্তু মার্কিন বাহিনী বিদায় নিতেই আফগান বাহিনীর সমস্ত দুর্বলতা প্রকট হয়ে যায়৷ এমন কি, আফগানিস্তানের বায়ুসেনার রক্ষণাবেক্ষণের কাজও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়৷ কারণ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা অধিকাংশ ঠিকাদারই ছিল আমেরিকার৷ এর পাশাপাশি সীমান্তের ওপারে পাকিস্তানে থাকা তালিবানদের ঘাঁটিগুলিতে হামলার চালানোর মতো রসদ বা শক্তি কোনওটাই ছিল না আফগান সেনার৷ পাক সীমান্তে নজরদারি চালিয়ে জঙ্গি অনুুপ্রবেশ বন্ধ করার মতো প্রয়োজনীয় বাহিনীও ছিল না আফগান সেনার হাতে৷ শুধুমাত্র কাশ্মীরের জন্যই কমবেশি ৩ লক্ষ ২০ হাজার সেনা মোতায়েন করে ভারত৷ সেখানে কাশ্মীর থেকে তিনগুণ বড় আফগানিস্তানের নিরাপত্তার জন্য সেদেশের বাহিনীর হাতে তার অর্ধেক সংখ্যক সেনাও থাকে না৷ এর পাশাপাশি আফগান সেনা শীর্ষ আধিকারিকদের একটা বড় অংশই দুর্নীতিগ্রস্ত বলে অভিযোগ৷

    ভারতে কতটা প্রভাব পড়তে চলেছে?

    সত্যি কথা বলতে আফগানিস্তানে তালিবান শাসন শুরু হলেও এখনই হয়তো তা নিয়ে ভারতের বিরাট কোনও উদ্বেগের কারণ নেই৷ এর সরাসরি কোনও প্রভাব ভারতে পড়ারও আশঙ্কা নেই৷ কারণ আফগানিস্তানের সঙ্গে ভারতের নিজের কোনও সীমান্ত নেই৷ আফগানিস্তান এবং ভারতের মাঝখানে রয়েছে পাক অধিকৃত কাশ্মীর৷ যে কারণে ভৌগলিক ভাবেই আফগানিস্তানের থেকে নিরাপদ দূরত্বে ভারত৷ এর পাশাপাশি, সাম্প্রতিককালে কাশ্মীরে জঙ্গি অনুপ্রবেশেও কিছুটা লাগাম টেনেছে পাকিস্তান৷ তা অবশ্য নিজেদের স্বার্থেই৷ কারণ এই মুহুর্তে যুদ্ধ বাঁধলে তা সামাল দেওয়ার মতো অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নেই পাকিস্তানের৷ যতদিন পাকিস্তান জেহাদিদের উপরে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারবে, ততদিন কাশ্মীরও শান্ত থাকবে৷

    যদিও এখনই নিশ্চিন্ত হওয়ার উপায়ও নেই৷ কারণ রাষ্ট্রসঙ্ঘের পর পর রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, লস্কর-ই-তৈবা এবং জৈশ-ই-মহম্মদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে তালিবানরা৷ ভবিষ্যতে এই জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি নিজেদের আরও প্রভাব বিস্তারে আফগানিস্তানেও প্রশিক্ষণ শিবির চালু করতে পারে৷ এর পাশাপাশি তালিবানরা আল কায়দা, আইএস-এর মতো জঙ্গি সংগঠনগুলিকেও সাহায্য করছে বলে খবর৷ সবথেকে বড় কথা, আফগানিস্তানে তালিবানদের জয় এই অঞ্চলের জেহাদিদের দারুণ উৎসাহিত করবে৷ ফলে নতুন উৎসাহে ফের সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে তারা৷

    অন্যান্য দেশের উপরে কী প্রভাব?

    আফগানিস্তানে তালিবানদের ক্ষমতায় ফেরা যে গোটা অঞ্চলের উপরে প্রভাব বিস্তার করবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না৷ কারণ উত্তর আফগানিস্তানে তালিবান বাহিনীতেই উজবেকিস্তান এবং তাজিকিস্তানেক নাগরিকরা রয়েছে৷ চিনের ঝিনজিয়াংয়ের জেহাদিদের সঙ্গেও তালিবানদের যোগাযোগ রয়েছে৷ শিয়া বিরোধী জেহাদি জঙ্গিরাও তালিবানদের সঙ্গেই রয়েছে৷ তার উপর মাদক পাচারকারীদের সঙ্গেও তালিবানরা ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে চলে৷ এমন কি, তালিবানদের নিয়ে পাকিস্তানেরও যথেষ্ট দুশ্চিন্তার কারণ রয়েছে৷ কারণ তালিবানরা তেহরিক-ই-তালিবান নামে পাকিস্তানের একটি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে চলে৷ পাকিস্তানের খাইবার- পাখতুনখোয়া প্রদেশে একাধিক জঙ্গি হামলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে তেহরিক-ই-তালিবান৷ পাকিস্তানে চিনা বিনিয়োগ বা প্রকল্পকেও নিশানা করেছে এই জঙ্গি গোষ্ঠী৷

    ইসলামাবাদের থেকে তালিবানরা যথেষ্ট সাহায্য পেয়েছে৷ কিন্তু এখন নিজেদের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে গিয়েছে তারা৷ ফলে এখন পাকিস্তানের তেহরিক-ই-তালিবানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ওই অঞ্চলে আরও নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে চাইবে তারা৷

    নিজেদের স্বার্থসিদ্ধিতে এতদিন এই অঞ্চল থেকে আমেরিকাকে দূরে সরিয়ে দিতে তালিবানদের মদত দিয়েছে ইরান, রাশিয়া, চিন, পাকিস্তানের মতো দেশগুলি৷ যদিও তালিবানরা আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর এই দেশগুলির অঘোষিত জোট টেকে কি না, সেটাও এখন কৌতূহলের বিষয় হয়ে দাঁড়ালো৷

    এখন কী পদক্ষেপ করা উচিত ভারতের?

    ৯/১১ হামলার পর থেকে আফগানিস্তানে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে ভারত৷ যদিও আমেরিকা যে পরিমাণ অর্থ খরচ করেছে, তার তুলনায় ভারতের বিনিয়োগ কিছুই না৷ এই মুহূর্তে ভারত এই অঞ্চলে কিছুটা বিচ্ছিন্নই হয়ে পড়ল৷ কারণ ৯/১১ হামলার আগে ভারত তালিবান বিরোধী জোটে অর্থ ঢেলেছিল৷ সেটাও সম্ভব হয়েছিল কারণ ইরান এবং রাশিয়া ভারতকে সাহায্য করেছিল৷ কিন্তু এখন তারাও অন্য দিকে রয়েছে৷ সেই সময়ও অবশ্য আফগানিস্তানে তালিবানদের দাপট রুখতে ব্যর্থ হয়েছিল ভারত৷ নয়াদিল্লির ভূমিকায় ক্ষুব্ধ ছিল তালিবানরাও৷ যে কারণে ভারতীয় বিমান ছিনতাই করে কান্দাহারে নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছিল৷ ফলে এই মুহূর্তে ভারতের আফগানিস্তানের পরিস্থিতির উপরে নজর রাখা ছাড়া সেভাবে করণীয় কিছু নেই বলেই মত বিশেষজ্ঞদের৷

    আমেরিকার কেন এই অবস্থান নিল?

    আমেরিকা যখন চিনের সঙ্গে আরও বড় সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক সেই সময় আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নিল তারা৷ আমেরিকার এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে অন্যতম কারণ যে চিনের হতে পারে, এমন সম্ভাবনার কথাও উঠে আসছে৷ যাঁরা এই দাবি করছেন তাঁদের ব্যাখ্যা, চিনের সঙ্গে আরও বড় কৌশলগত লড়াইয়ের জন্য আফগানিস্তানকে থেকে নিজেদের যাবতীয় সম্পদ, রসদ ফিরিয়ে নিল আমেরিকা৷ আফগানিস্তানের ঘটনার পর বন্ধু রাষ্ট্রগুলির জন্য আমেরিকা সত্যিই কতটা লড়াই করতে ইচ্ছুক, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠে গেল৷ আফগানিস্তানের অভিজ্ঞতা থেকে পরিষ্কার, ভবিষ্যতে অন্য দেশের হয়ে পুরোদস্তুর সামরিক সাহায্যে আর হয়তো সেভাবে এগিয়ে আসবে না আমেরিকা৷ তার কারণ হয়তো আমেরিকার নিজস্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি৷ তথ্য পরিসংখ্যানই বলছে, আমেরিকার বর্তমান প্রজন্ম তাদের বাবা-মায়ের থেকে অনেকটাই গরিব৷ তাদের ঘাড়ে ঋণের বেনজির বোঝা নিয়েই বড় হতে হচ্ছে৷ এখনও অর্থনৈতিক এবং প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে বিশ্বের সবথেকে শক্তিশালী দেশ হলেও এবার থেকে আমেরিকা হয়তো নিজেকে নিয়েই বেশি ভাববে৷

    Praveen Swami

    Published by:Debamoy Ghosh
    First published: